somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

স্বপ্নময় জীবনের মৃত্যু নেই

১০ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমুদ্রর কাছে গিয়ে বড় বড় নোনা ঢেউয়ে ভাসতে ইচ্ছে করছে। কখনো সমুদ্র কখনও পাহাড়, মায়াময় আহ্বানে জড়িয়ে রাখে।
সাউথ আমেরিকার এক বিশাল ভূখণ্ড অবিরত ডাকছে আমাকে। ম্যাক্সিকোর মায়া সভ্যতার ঘেরা টোপ পেরিয়ে, পেরু আর্জেনটিনা, ব্রাজিল, চিলি ভিন্ন রূপের ঝাপি খুলে উদার আহ্বানে ডেকে চলেছে আমাকে। মাঝখানে বলিভিয়া।
চায়না ভ্রমণের সময় বেইজিং এ দেখা হলো রীটার সাথে। রীটা ওর মা আর খালাকে সাথে করে এসেছে ঘুরতে। কী দারুণ একটি স্পেনিস মেয়ে। টগবগে ঘোড়ার মতন সতেজ। গ্রেটওয়ালের সবগুলো সিঁড়ি ভেঙ্গে এক মাত্র সেই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উঠল। আমরা যখন দলের সবাই (ক্যাবল কার) তারবাহি গাড়ির ভেলায় চড়ে বাতাসে ভেসে একটা পাহাড় পারি দিলাম। রীতা তখন একদম নীচ থেকে প্রতিটি সিঁড়ি ভেঙ্গে হেঁটে উঠল। তারপর বাকি উপারে উঠাত ছিলই। অনেকে ওইটুকু উঠেই আবার ক্যাবল কারে নীচে ফিরে গেছেন। আমরা কয়েকজন ছিলাম উপরে উঠার অ্যাডভেঞ্চারস সদস্য। মাঝে মাঝে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল প্রচণ্ড গরম ছিল সেদিনটা আর ছিল প্রখর রোদের তাপ। বসন্ত মনে হচ্ছিল গ্রীষ্মের মতন উষ্ণ।
রীটা কী সহজ আন্তরিকতায় আমাকে আমন্ত্রণ জানাল তাদের বাড়িতে থাকার জন্য বোলেভিয়ায় ঘুরতে গেলে। মানুষের সাথে না মিশলে তার কৃষ্টি, সমাজ জীবন সম্পর্কে জানা যায় না। রীটার আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ কিন্তু বোলেভিয়ার নাম মনে হলেই একটি কালো ছায়া রেখাপাত করে আমার মনে। যেতে ইচ্ছে করে না বোলেভিয়ায়।
প্রকৃতির সকল আমন্ত্রণ উপেক্ষা করে ম্লান হয়ে যায় বলিভিয়া আমার কাছে যখনই মনে হয়, এর্নেস্তো "'চে" গুয়েভারা গণ মানুষের উন্নতির জন্য যে মানুষটি নিরন্তর সাধনা করে গেলো। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল দুঃখি, কষ্ট ক্লিষ্ট মানুষের জন্য। শুধু নিজের চারপাশ নয়, নিজের দেশ নয় যার মনে ছিল, পৃথিবীর সকল মানুষের মাঝে সুখ বন্টন করার তাগিদ। রীটার মতন সাধারন, সহজ মানুষের জন্যই ছিল চের বিপ্লব। মানবতাবাদি মানুষটিকে নির্মম ভাবে হত্যাকরা হয় বলিভিয়ায়।
কিউবায় তার স্বপ্ন সফল হয় দীর্ঘ গেরিলা বিপ্লবের পর বাতিস্তা সরকারকে উৎখাত করার মাধ্যমে।
এক মাত্র কিউবার জনগণ চে'র স্থাপিত সরকার ব্যবস্থায় সুখ ভোগ করছে এখন পর্যন্ত। কে জানে মার্কিনি প্রবেশের পর বন্ধুত্বের হাত ধরে বিপ্লবের সমবন্টন কতটা এক রকম থাকবে। দেখা যাক, এ বছরই তো প্রথম মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রবেশ ঘটল কিউবাতে এতো বছর বাদে।
কিউবায় সাফল্যে পর নিজের সুন্দর সুখের জীবন বেছে না নিয়ে, চে' গুয়েভারা কঙ্গোর যুদ্ধে সহায়তা করেন। এরপর বলিভিয়ার মানুষের জন্য বিপ্লব করতে গেলেন। দেশে দেশে মানুষের সুখ আনাই যেন তার স্বপ্ন ছিল।
একজন মানব দরদী মানুষকে বেঁচে থাকতে না দিয়ে হত্যা করা. তাদের মুক্তচিন্তার ব্যাপ্তী থামিয়ে দেয়া, এতো যুগে যুগে ঘটে আসছে। আজো তার কোন পরিবর্তন হয়নি। একই ধারায় বলিভিয়ার সেনাবাহিনী মানুষের প্রিয় চে' গুয়েভারাকে ৭ অক্টোবর গ্রেফতার করে এবং তাকে হত্যা করা হয় ৯ অক্টোবর ১৯৬৭ সাল বেলা ১.১০ টায়।
একটি স্বপ্ন এবং বিপ্লবের মানুষকে হত্যা করা যায় কিন্তু তার স্বপ্ন ছড়িয়ে আছে অগুণতি মানুষের মনে।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১:০৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এমন রাজনীতি কে কবে দেখেছে?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:২০


জেনজিরা আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামল দেখেছে। মোটামুটি বীতশ্রদ্ধ তারা। হওয়াটাও স্বাভাবিক। এক দল আর কত? টানা ১৬ বছর এক জিনিস দেখতে কার ভালো লাগে? ভালো জিনিসও একসময় বিরক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধের কবিতাঃ আমি বীরাঙ্গনা বলছি

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:১৫


এখনো রক্তের দাগ লেগে আছে আমার অত্যাচারিত সারা শরীরে।
এখনো চামড়া পোড়া কটু গন্ধের ক্ষতে মাছিরা বসে মাঝে মাঝে।

এখনো চামড়ার বেল্টের বিভৎস কারুকাজ খচিত দাগ
আমার তীব্র কষ্টের দিনগুলোর কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রবাসীর মৃত্যু ও গ্রাম্য মানুষের বুদ্ধি!

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:৩০



একজন গ্রামের মানুষের মাথায় ১০০ জন সায়েন্টিস্ট, ৫০ জন ফিলোসফার, ১০ জন রাজনীতিবিদ এবং ৫ জন ব্লগারের সমপরিমাণ জ্ঞানবুদ্ধি থাকে, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন এসব লোকজন বাংলাদেশের এক একটি সম্পদ।

বিস্তারিত:... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন নারী শিক্ষিকা কীভাবে কন্যা শিশুর সবচেয়ে অসহায় মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করতে পারেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:২৩


বাংলাদেশে মাঝে মাঝে এমন সব মানুষ রূপী শয়তানের সন্ধান মেলে যাদের দেখে আসল শয়তানেরও নিজের উপর হতাশ হওয়ার কথা। এমন সব প্রজাতির মানুষ বাংলাদেশে বসবাস করেন যাদের মস্তিষ্ক খুলে দেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মানুষ মানুষকে কীভাবে এত অপদস্ত করে এই ব্লগে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:৪৪

আমি তো কারও সাতেও নাই পাঁচেও নাই। এত সময়ও নাই মানুষকে ঘাঁটার। ব্লগের ব্লগারদের সম্পর্কেও তেমন কিছু জানি না। তবে পোস্ট পড়ে কিছুটা আন্দাজ করা যায় -কে কী রকম। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×