somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘এ পথে আলো জ্বেলে-- এ পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে’

১৩ ই মে, ২০১৩ সকাল ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নদীর এক জলস্রোত একবারই ছোঁয়া যায়। স্রোত মানে না বাধ। সময় মানে না বাধ। তাই লিখতেই হবে। এখন না লিখলে বড্ড দেরি হবে। লেখার লোক খুব বেশি নেই পৃথিবীতে আজ। বলার মানুষ খুব বেশি নেই পৃথিবীতে আজ। এ কথা আকাশের নীলের মতো সত্য। চিৎকার করেই উচ্চারিত হোক এ সত্য-- বিবেক হ্রাস পেয়েছে এখন, বিবেক খুব বেশি নেই আর।

গুন্টার গ্রাসের কথাই বলি। নীরবতা ভাঙলেন-- প্রবল বাতাসের ছোঁয়ায়। সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো গর্জন করে উঠল তাঁর কলম। কলম যাকে হানার, তাকে ঠিকই হানল আঘাত। বেহায়ার নির্লজ্জ উচ্চস্বরই প্রমাণ!

বারবার বদলে যাচ্ছি, বৃত্ত ভাঙছি বারবার। নিজের মধ্যে মিশে গেছে নদীর ঢেউয়ের মতো সংশয়-- গুটিয়ে রাখার অর্থ ভালো হয় না পৃথিবীতে। হয় বৈকি! তবু বাবুইয়ের মতো যার স্বভাব তাকে মুখ নাড়তেই হবে। নইলে বড় বেশি দেরি হয়ে যাবে আমাদের। নইলে আমাদের মুখে ফিরবে না সেই বিপ্লবী রুশো-ভলতেয়ার। কবেকার কথা, লিখেই দুনিয়ার রূপটা বদলে দিলেন ওঁরা। নোয়াম চমস্কি এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন অবসরহীন নিরলস। ওদিকে সাঈদও ছিলেন কিছুদিন আগে। এদিকেও আছেন... সবার নাম বলব না এখানে। গুন্টার গ্রাসের কথা বলব আমরা। কী লিখলেন?

হিটলারি রাজত্বের বিষবাষ্পে চাপা থাকা জার্মান। দু’-দু’টা বিশ্বযুদ্ধের দায় স্কন্ধে নিয়ে দাঁড়ানো জার্মান আজও, আজও এই একুশ শতকে সে একই রকম মাত্রাহীন। লজ্জাহীনতার চূড়ান্ত দেখিয়ে এখন সে ইসরাইলের পাশে! বিশ্বযুদ্ধে ইহুদি নিধনের নামে মানুষ মারার বিপক্ষে ছিলাম। পরাণের গহীন থেকে বলেছিলাম উচ্চস্বরে-- হিটলার-- can't make life, so can't ruin life!

আজ তুমি ইসরাইল-- ইঙ্গ-মার্কিন রাজনীতির প্রিয় বন্ধু। ধর্মের নামে বানিয়েছ সাম্রাজ্যের সৌধ, তুমিই এখন বিশ্ববিবেক! বিবেকের টানে ছাড়ো হুংকার, প্যালেস্টাইন বন্দী তোমার কাছে। যুদ্ধের দিকে তোমার অগ্রযাত্রা, আধিপত্য তোমার নিত্য খোরাক। সন্ত্রাসী হিটলারের মতো তোমাদের বলয়। সেই হিটলারের বিবেকহীন জার্মান তোমার মিত্র আজ।
নিয়ত চলছে বিশ্ব রাজনীতির টম-জেরি খেলা। পক্ষশক্তি-অক্ষশক্তি এক আজ। গুন্টার গ্রাসের কথা তাই ভাবতেই হবে। যদি মরে না যাই, আরেকবার পৃথিবীর তামাম মানুষের জন্য-- মানুষের পৃথিবী চাই। জরাজীর্ণ বিশ্ব ভেঙে বাসযোগ্য ভূমি চাই। এ কথা বলতে গেলে লিখতেই হবে, রুশো-ভলতেয়ার স্বাক্ষী।

সংশয়ী হই, ভাবি নিজের জীবন নিয়ে কী নিদারুণ খেলা আমাদের। আমাদের জীবন নিয়ে কী নিদারুণ খেলা তাদের! মানুষের জীবন-ই তো? একদিকে আফ্রিকাতে হুংকার, একদিকে উপসাগর, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা-- নিজেরা তো খেলিই, আমাদের জীবন নিয়ে যাযাবরী খেলা ওদের আরও বেশি। কাঁটাতারে ঝুলন্ত ফেলানির লাশ তাদের বিবেকের বেসাতি! হিটলার খেলেছিল একদিন, আজ মার্কিন-ইঙ্গ-ইন্দো-ইসরা... পরমাণু আর অস্ত্রবাজি ওদের হুংকারের পাটাতন। ওরা সন্ত্রাসের গ্র্যান্ড-গডফাদার!

জীবন-মরণের প্রাকৃতিক দাসত্ব প্রতিটি মানুষের। স্বাধীন মানুষকে তবু দাসত্ব স্বীকার করতে হবে কেন অহর্নিশ আতঙ্কের ভারে? তাই এখনই সময়, গ্রাসের মতো ক্ষত-বিক্ষত কলম তোলার। পৃথিবীর প্রতি কোণা আধিপত্যের সামনে ক্ষত-বিক্ষত কলম হবে দুরন্ত-দুনির্বার। হবে লড়াইয়ের হাতিয়ার।

প্রতিটি মানবের প্রতি ইঞ্চি পৃথিবীর অধিকার পেতে এ লড়াই চলবে। আর প্রশ্ন রবে অনিবার-- can't make life, so can't ruin life! প্রত্যাশা রবে অনিবার-- সন্ত্রাসহীন মুক্তবায়ুর বিশ্ব চাই। মুক্ত মানবের ভুবন চাই। বিশ্ববিবেক জাগবেই... লড়াই চলবেই... টারজান জাগবেই... স্পার্টাকাস লড়বেই... প্রমিথিউস বলবেই... "এ পথে আলো জ্বেলে-- এ পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে"...
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০১৩ সকাল ১১:০৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×