somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ঈদ

২০ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওয়ালেট খুলেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। অপ্রয়োজনীয় কিছু চিরকুট আর টিকিটের সাথে দশ টাকার একটা নোট ভেতরে লেপ্টে আছে। ঈদের তৃতীয় দিনের সম্বল এটুকুই। এছাড়া আর কোন নোট পাওয়া গেল না। অথচ বারো-তের বছরের ছেড়া গেঞ্জি পড়া ছেলেটা হাত পেতে দিব্যি তাকিয়ে আছে আমার দিকে। চাইলেই দুইটা ঝারি দিয়ে ছেলেটাকে চোখের সামনে থেকে বিদেয় করা যায়, কিন্তু বুকের ভেতর থেকে কোন দম পাওয়া যাচ্ছে না। অগত্যা সিগেরেট খাবার আশা বাদ দিয়ে দশ টাকার নোটটা ছেলেটার হাতে দিয়ে বললাম, “যাহ, ভাগ এবার।”
.
ভাগল না... বরং আগের মতই দিব্যি দাঁড়িয়ে থেকে ফোকলা দাঁত বের করে মুখে সামান্য হাসির রেখা টেনে কাচুমাচু ভঙ্গিতে বলল, “আর চল্লিশটা টাকা দিতারবেননি বাই?”
.
আবদার শুনে বিষম খেলাম। বলে কি এই ছেলে? ১০ টাকা দিলাম, এখন আরো চল্লিশ টাকা চায়! এ আবার কোন টাইপের ভিক্ষুক! নেশা-টেশা করে নাকি আবার! খটকা লাগতেই জিজ্ঞেস করলাম,
-চল্লিশ টাকা মানে? এই না দশ টাকা দিলাম?
-হবাই, দিছেন তো। আর চল্লিশটা টাকা লাগব।
-চল্লিশ টাকা দিয়া কি করবি?
-ছোড বইনের লাইগ্যা নোয়া কাপড় কিনুম।
-এখন কি কাপড় কিনবি? ইদ তো দুইদিন আগেই শেষ!
-বইনের কাপড়ের লাইগ্যা রোজা থেইক্যা টাকা জমাইতেছি। টাকা কুলাই নাই দেইক্কা ঈদের সময় কিনতে পারি নাই। এহন বাকি টাকা জমাইয়া কাপড় কিইন্যা বাড়িত নিয়া যামু।
.
ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। মনে হয় সত্য কথায় বলছে। তারপরেও ভাল করে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করছি। অবশ্য আমি সত্য-মিথ্যা ধরে কিইবা করব। এমুহুর্তে আমার কাছে এক টাকাও নাই যে ছেলেটার হাতে দিব। নিজেই আছি কষ্টের ভেতর। মাস শেষ হতে আরো ১২ দিন বাকি। কারো কাছ থেকে ধার না করলে ভিক্ষা করতে হবে। নিজেরই যখন এই অবস্থা, তখন ছেলেটাকে দিব কি! অথচ ছেলেটা বোকার মত পরম আশ্বস্তি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ট্রাম্প কি ভেবেছিল? "সর্দার খুশ হোগা? সাবাশি দেগা?"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৮

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কিছু বলি।
আমি সাধারণ সত্য যা ঘটছে সেটাই বলি। মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, সেটা যে পক্ষেরই হোক, আমার শেয়ার করতে ভাল্লাগে না।
একটা সময়ে আমেরিকা নিজের এয়ারফোর্স এবং নেভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিত্রের তালাশ ও মিত্রতা তৈরিঃ প্রসঙ্গ আমাদের জাতীয় ও রাজনৈতিক জীবন

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাঙলায় পাওলো কোয়েলহোর সর্বাধিক বইয়ের অনুবাদক হিসেবে দেখেছি তিনি তাঁর প্রায় সকল বইয়ে একটা জিনিসকে খুব গুরুত্ব দিয়েছেন। সেটা হলোঃ মিত্র তালাশ করা বা তৈরি করা। এই জিনিস আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনুস সাহেব আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫০


রমজান মাসের শেষ দিককার কথা। আব্বা-আম্মার সঙ্গে ইউনাইটেড হাসপাতালে গেলাম নানাকে দেখতে। মায়ের দিকের এই আত্মীয়র হার্টে চারটা রিং বসানো হয়েছে, কিন্তু কেবিনে ঢুকে বুঝলাম তার জবান এখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:০৪



সূরাঃ ১ ফাতিহা, ১ নং থেকে ২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। সমস্ত প্রশংসা জগৎ সমূহের প্রতি পালক আল্লাহর।
২। যিনি অনন্ত দয়াময়, অন্তহীন মেহেরবান।

সূরাঃ ১ ফাতিহা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫২



আমি কবিতা লিখতে পারি না।
আসলে আমি কোনো কিছুই সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারি না। আমার লেখা মানেই এলোমেলো এবং অগোছালো বিশ্রী রকম। মাঝে মাঝে লোভ হয়, কবিতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×