ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে ক্লাসে ঢুকে দুই শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত!
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে শ্রেণীকক্ষে ঢুকে দুই শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর ২০৭ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগকর্মী রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইয়াকুব আলীর ওপর হামলা চালান। এ সময় ইয়াকুবের নাকে ছুরির আঘাত লাগে। তাঁর বন্ধু পলাশ কুমার রায় এ সময় বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী এসে পলাশকে উদ্ধার করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিত্সাকেন্দ্রে নিয়ে যান।
ইয়াকুব আলীর ভাষ্য, সহপাঠী এক নারীর সঙ্গে তাঁর অনেক দিনের প্রণয়ের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি ওই নারীর বিয়ে হয়ে গেলে তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই বলে ইয়াকুব দাবি করেন। কিন্তু হামলাকারীরা ওই নারীকে বিরক্ত করার অভিযোগ এনে তাঁর ওপর হামলা চালান।
ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ইয়াকুব আমাকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল ও আমার স্বামীকেও হুমকি দিয়ে আসছিল। এ নিয়ে আমাদের সংসারে টানাপোড়েন শুরু হলে আমার এক মামাকে বিষয়টি খুলে বলি। তবে আজকের ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।’
জানা যায়, ওই ছাত্রীর মামার বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে ও ছাত্রলীগ নেতা আরিফুলের বাড়িও একই উপজেলায়।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মামুনুল হক বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছাত্রলীগের কেউ এতে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘গুরুতর আহত পলাশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিত্সাকেন্দ্রে পাঠিয়েছি। ইয়াকুব ও ওই ছাত্রীর পরিচয়পত্র জব্দ করেছি। ঘটনার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছি।’
View this link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


