সভ্যতা, জাগরণ, আধুনিকতর জীবনব্যবস্থা লিপ্সা- মূলত উন্নত যৌনতা প্রাপ্তির আশায় মানুষের ঘটানো পরিবর্তন। এটাকে ফ্রয়েডদোষে দুষ্ট মতবাদ মনে হতে পারে কিন্তু মূল বিষয়টা অপরিবর্তিত থাকছে তখনো।
মানুষ বনে সেক্স করতো, তারা ভাবলো ঢেকে-লুকিয়ে কাজটা করলে কেমন হয়? দালানের প্রয়োজন অনুভূত হলো। পারফেক্ট যৌনতায় একজনকে ডোমিন্যান্ট হতে হয়, বাহুবলে পুরুষ তা হতে চাইল- প্রাচীন সেই কৃষিভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠল যাতে ঘরে সঙ্গিনী রাখার মতো পর্যাপ্ত খাবার থাকে। ধর্ম সৃষ্টি করা হলো সঙ্গিনীর উপর ডোমিনেটিং নিশ্চিত করতে। আর তার অল্টারনেটিভ হিসেবে এক অদ্ভুত মায়াবল (মায়াশিকল!)-'প্রেম'।মানুষ এমন এক অলৌকিক জীব যারা কাঙ্ক্ষিত বস্তুটা কয়েক প্রজন্ম পরে হলেও আবিষ্কার করে ফেলে। দারুণ এই অতৃপ্তির দৌঁড়ে এগিয়ে গেল মানবসভ্যতা। উন্নত বিশ্বে মানুষ যৌনতাকে এখন আর অদ্বিতীয় চাহিদা বলে স্বীকার করে না।এই অস্বীকৃতির মধ্যের সুপ্ত কামনাগুলো নানা রঙ নিয়ে বেরিয়ে আসে। ফেলাসিও,ব্লাইন্ডফোল্ড ,সেক্স টয়- ডিলডো ইত্যাদি ইত্যাদি তারই উদাহরণ। সেই প্রাচীন পূর্বপুরুষদের কাঙ্ক্ষিত উন্নত যৌনতা। বছরের পর বছর শুষ্ক শিক্ষা গিলতে থাকি স্রেফ উন্নত ও নিরাপদ যৌনজীবন নিশ্চিত করতে ।এতো কিছুর পরও অর্গাজমের আনন্দ সেই একই রকম রয়ে গেল- একদম সেই পরিমাণ যতোটুকু আদিমাতা ও আদিপিতা ভোগ করেছিলেন। আধুনিক মানুষ বুঝলো এই ক্ষুধা অতৃপ্তির অপর নাম। আধুনিক মানুষ তাই ডিপ্রেসনে। শরীরচর্চায় ব্যস্ত কেউ কেউ- জিম নাকি সেই একই হরমোন নিঃসরণ করে যা সেক্স পরবর্তী রিলাক্সেশন নিশ্চিত করে থাকে। এই চিরকালীন অতৃপ্তি এক দিকে ভালোই করেছে। শিল্প-সাহিত্য সব এই অতৃপ্তি বা ক্ষুধারই দ্যোতনা। আমরা পেয়েছি অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক জীবন।
যৌন আকাঙ্ক্ষা এক আগুন। এ আলোকময় করতে জানে, ছাই- ভস্ম করতেও পারঙ্গম।

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০২৪ রাত ১১:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



