somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হরতাল-অবরোধের আর্থিক ক্ষতি

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত একমাস দশ দিন ধরে দেশব্যাপী টানা অবরোধ চলছে; এর মধ্যেই চলছে হরতাল। গত দুই সপ্তাহে প্রাপ্ত কর্ম দিবসের পুড়োটাই অর্থাৎ টানা পাঁচ দিন করে দশ দিন হরতাল ছিল; আজ রবিবারও হরতাল দিয়েই নতুন সপ্তাহ শুরু হল আবার। কিন্তু এভাবে কতদিন চলবে?

আমরা যারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি, তাদের বেতন ভাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য ও সেবা বিক্রি থেকে অর্জিত আয় থেকে প্রদান করে থাকে। গতমাসে অধিকাংশ বড় প্রতিষ্ঠানেরই বিক্রয় বা আয় প্রায় পঞ্চাশ ভাগ কমে গেছে। অনেকের কমেছে আরও বেশী। ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো আছে আরও বড় বিপদে। কর্মীদের বেতন-ভাতা আর অফিস/দোকান ভাড়া বা স্থায়ী ব্যয় প্রদান করতেই তারা হিমশিম খাচ্ছে; কেউ কেউ এই ব্যয় বহন করার সক্ষমতাও হারাবে অচিরেই।

বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটা বা দুইটা সড়ক দুর্ঘটনা বা পণ্য ভেলিভারীতে ড্যামেজ মেনে নেওয়ার সক্ষমতা আছে; তাই তারা অনেক ঝুঁকি নিয়েই তাদের উৎপাদিত পণ্য দেশের কিছু কিছু এলাকায় বিপণন করছে। কিন্তু ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো তা পারছে না, তাই তাদের বিক্রয় থেকে আয় কমে গেছে অনেক। এভাবে চলতে থাকলে তারা দেউলিয়া হয়ে যেতে বাধ্য। পাশাপাশি আছে ব্যাংক ঋণের ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ার চাপ। ফলে সব প্রতিষ্ঠানই একটা সময় হয়ে যাবে ব্যাংক ডিফল্টার।

আমরা যারা বিদেশে পণ্য রফতানির কাজে নিয়োজিত আছি; তারা আছি আরও বড় বিপদে। একদিকে যেমন আমরা আমাদের ক্রেতাদের বোঝাতে পারছিনা যে, আমরা আসলে কি অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। সময়মত পণ্য ডেলিভারি বা জাহাজীকরণ করতে না পেরে হয়ে যাচ্ছি এলসি ডিফল্টার। গৃহীত এলসিগুলোর ‘লাস্ট শীপমেন্ট ডেট’ পার হয়ে যাচ্ছে বারবার। শেষ হয়ে যাচ্ছে ‘এলসি একস্পায়ারি ডেটও’। যা আমাদের উৎপাদিত পণ্যের পুড়োকেই ‘স্টক লট’ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বুঝিয়ে শুনিয়ে ক্রেতাদের নিকট থেকে বারবার এলসি এমেন্ডমেন্ট নিয়েও আমরা তাল রাখতে পারছিনা।

আবার ঝুঁকি নিয়ে পণ্য বোঝাই ট্রাকগুলো সী-পোর্টসহ বেনাপোল ও অন্যান্য পোর্ট গুলোতে পাঠাতে যেয়ে আগুনে পণ্য, ট্রাক, ড্রাইভার ও তাদের সহযোগীদের পুড়ে যাওয়ার ভয়ে ভিত থাকছি। ওদিকে ক্রেতারা হুমকি দিচ্ছে অর্ডার বাতিল করার। এদিকে আছে আবার আমাদের সেলস টার্গেট এচিভ করার বাধ্য বাধকটা। আছে চাকুরী হারানোর ভয়। এর বাইরে- বিদেশী ক্রেতারা একবার অন্যদেশে চলে গেলে তাকে আবারও ফিরিয়ে আনা যে কত কঠিন কাজ? আমরা যারা এই সেক্টরে কাজ করি তারা বুঝি।

কিন্তু এটা তো গেলে মাইক্রো লেভেলে, ম্যাক্রো লেভেলে দেশের অর্থনীতি আরও বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারের আয় ক্রমাগত কমতে থাকবে, জিএনপি-জিডিপি কমবে, বাড়তে থাকবে ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণ। একটা পর্যায়ে সমস্যা হবে ব্যাল্যান্স অব পেমেন্টে। যদিও বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীদের পাঠানো রেমিটেন্স থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে সরকার কোনরকমে তা থেকে পার পেয়ে যাবে কিন্তু দেশীয় ব্যাংকগুলো হয়ে যাবে দেওলিয়া বা মন্দ ঋণে জর্জরিত হয়ে যাবে তারা।

অচিরেই এই দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে যেতে হবে আমাদের; না হলে দেশ ও মানুষ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবারো নিপতিত হবে- যা থেকে আমরা বেড়িয়ে আসতে পেরেছিলাম অনেক চেষ্টায়।

১৫/০২/২০১৫

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরানে হিজাব আন্দোলন এবং আমাদের হিজাবী সমাজ

লিখেছেন সোহানী, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ভোর ৬:৫২




পুলিশী হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানে চলছে হিজাব প্রটেস্ট, রাস্তায় নেমেছে হাজার হাজার নারী পুরুষ। জোর পূর্বক চাপিয়ে দেয়া হিজাব রাস্তায় রাস্তায় পুড়ছে নারীরা। ক'দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃসময় টিকটিকিও আমাকে ছাড় দিচ্ছেনা!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সকাল ১১:৩৫

আমাদের ঘরে বেশ কয়েকটা টিকটিকি এসেছে। লাইটের পিছনে লুকিয়ে থাকে। সুযোগ মতো বেরিয়ে শিকার ধরে খায়। ওদের থাকা খাওয়ায় আমার কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু ইদানিং টিকটিকিও আমাকে ছাড় দিচ্ছেনা.......... ...বাকিটুকু পড়ুন

'নারী নেতৃত্ব হারাম' - হাদিসটির ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ দুপুর ১:১২



আমার আজকের পোস্টের উদ্দেশ্য কারো জীবনী আলোচনা করা নয়। গুগল মামার কাছে জিজ্ঞাসা করলেই মুসলমানদের ভূমিতে মহান নারী ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে আরও ভালো ভাবে জানা যাবে। বরং, আমি জিজ্ঞাসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত ৫২ বছর আমাদের শিক্ষার মান নীচের দিকে গেছে!

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:১৭



আমাদের প্রাইম মিনিষ্টার, শিক্ষামন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্ট একবারও প্রশ্ন করেননি যে, আমাদের শিক্ষার এই অবস্হা কেন, কেন আমাদের পড়ালেখার সুনাম নেই? কেন ঢাকায় ভারতীয় ও অন্য বিদেশীরা এত... ...বাকিটুকু পড়ুন

এভাবে বেঁচে থাকার কোন মানে নেই

লিখেছেন জিএম হারুন -অর -রশিদ, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৪৬



ছেলেবেলা আমরা খুব গরিব ছিলাম বলা যাবেনা,
তবে তিনবেলা পেট ভরে সবাই খেতে পারতাম না,
রোজকার খাবারে সংসারের কারো পেটই ঠিকমতো ভরতো কিনা জানিনা।
আমার পেট ভরে খাওয়া হয়নি কখনোই ছেলেবেলায়।

জামা কাপড়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×