somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানব মস্তিষ্কের প্লাস্টিসিটি এবং নেচার-নারচার ডিবেটের একটি নতুন দিক

২২ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মানুষের মস্তিষ্ক এবং এর সাথে সম্পর্কিত সাইকোলজিকাল ট্রেইটগুলোর ডেভেলপমেন্টের জন্য কোন জিনিসটি সবচেয়ে বেশি ভূমকা রেখেছে? মানুষের জেনেটিক্স নাকি এনভায়রনমেন্ট কন্ডিশনগুলো যেখানে সে বড় হয়েছিল। ইন্টেলিজেন্স এর বেশিরভাগই কি জন্মগত বৈশিষ্ট্য নাকি এটা জীবনের প্রথম দিকে অর্জিত হয়? Proceedings of the National Academy of Sciences জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় শিম্পাঞ্জি ও মানুষের মস্তিষ্কের তুলনা করার মাধ্যমে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। গবেষণাটি বলছে আমাদের মস্তিষ্ক অন্যান্য প্রাইমেট কাজিনের তুলনায় এনভায়রনমেন্ট বা পরিবেশের প্রতি বেশি রেসপন্সিভ হিসেবে বিবর্তিত হয়েছে।

সাইন্টিফিক কমিউনিটিতে নেচার ভার্সেস নার্চার ডিবেট নিয়ে ডিবেট খুব জোড়েসোড়েই চলছে এবং বর্তমানে এখনও এর কোন পরিষ্কার উত্তর নেই। কারণ প্রাথমিক ভাবে, জন্মগত জেনেটিক ক্যারেক্টারিস্টিকগুলোর সাথে সময়ের সাথে মস্তিষ্কের ডেভেলপমেন্ট জনিত বিষয়গুলোর তুলনা করা খুবই কঠিন কাজ। এমন কোন হিউম্যান গ্রুপ নেই যারা কোন না কোন ভাবে মাতা পিতা বা অন্যকোন ভাবে ছোট বেলা থেকে পালিত হয় নি। যদি এরকম কিছু থাকত তবে তার নিঃসঙ্গতার ফলে তার সব জন্মগত ট্রেইট দেখা যেত। আর তারপর এগুলোর সাথে অন্যান্য বাচ্চা যাদেরকে বিভিন্ন পরিবেশে পালন করা হয়েছে তাদের সাথে তুলনা করা যেত।

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার জন্য George Washington University এর গবেষকগণ অর্গানাইজেশন এবং সাইজ এর উপর ভিত্তি করে ২১৮টি মানব মস্তিষ্কের সাথে ২০৬টি শিম্পাঞ্জির মস্তিষ্কের তুলনা করেছেন। এটা করা হয়েছে magnetic resonance imaging (MRI) scanner এর সাহায্যে যা ব্রেইনের রক্তপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে।

হিউম্যান ব্রেইনগুলো জমজ বা অন্তত আত্মীয়দের মধ্যকার অন্যদিকে শিম্পাঞ্জিদের ব্রেইনগুলো বিভিন্ন ধরণের কিনশিপ যেমন মা, সন্তান-সন্ততি, হাফ সিবলিং ইত্যাদি। এই জিনিসটা গবেষকদের গবেষনার ক্ষেত্রে উভয় ক্ষেত্রেই প্রচুর ভেরিয়েবিলিটি দান্ন করে। প্রায় ৭ মিলিয়ন বছর পূর্বে শিম্পাঞ্জি এবং মানুষের একই পূর্বপুরুষ ছিল। এধরণের গবেষণায় খুব কম সময়ে (ইভোল্যুশনারি টাইম এর কথা চিন্তা করলে) বিচ্ছিন্ন হওয়া এই ইন্টেলিজেন্ট প্রাণীগুলো তুলনা হিসেবে খুব ভাল।

শিম্পাঞ্জি ও মানুষ উভয়ের ব্রেইনই যথেষ্ট “প্লাস্টিক” অর্থাৎ উভয় ব্রেইনই নতুন স্টিমুলি এবং এনভায়রনমেন্টাল কন্ডিশনগুলোতে এডাপ্ট করতে পারে বা অভ্যস্ত হতে পারে এবং কোন পূর্বের জ্ঞান ছাড়াই নতুন জিনিস শিখে নিতে পারে। ধরে নেয়া হয় এই উচ্চ মাত্রার প্লাস্টিসিটি ব্রেইনের sulci (ব্রেইনের ভাঁজগুলো) এর ডেভলপমেন্ট এর সাথে শক্তিশালীভাবে সম্পর্কিত। এই ভাঁজগুলো জন্মের অনেক পরে বৃদ্ধি পায় এবং অর্গানাইজড হয়।

যদিও এই দুই স্পিসিজের ফ্যামিলি মেম্বারদের ওভারল ব্রেইন সাইজের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য ছিল না, মানুষের নিকট আত্মীয়দের মধ্যকার ব্রেইনগুলোর sulci এর ভেরিয়েশন, শিম্পাঞ্জিদের নিকট আত্মীয়দের ব্রেইন এর sulci এর ভেরিয়েশনের চাইতে অনেক বেশি ছিল। এটা নির্দেশ করে যে, শিম্পাঞ্জিদের নতুন স্কিল শেখা এবং নতুন সিচুয়েশনে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা মানুষের চেয়ে কম।

পেপারটির লিড অথর এবং GW Center for the Advanced Study of Human Paleobiology এর পোস্ট ডক্টরাল সাইন্টিস্ট Aida Gómez-Robles বলেন “আমরা আবিষ্কার করেছি, শিম্পাঞ্জিদের ব্রেইনের এনাটমি মানুষের ব্রেইনের এনাটমির চেয়ে জিন দ্বারা অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত হয়। এটা সাজেস্ট করে, হিউম্যান ব্রেইনের জেনেটিক্স যাই হোক না কেন, পরিবেশ দ্বারা আমাদের ব্রেইন খুব অনেক বেশি পরিমাণেই শেপড হয়।”

হয়তো আমাদের ইভোল্যুশনারি অতীতের ব্রেইনের প্লাস্টিসিটির উন্নয়নই আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে অন্যান্য প্রাইমেট কাজিনদের তুলনায় বেশি পরিমাণে এডাপ্টেবল ইন্টেলিজেন্স দিয়েছে।

http://www.pnas.org/content/early/2015/11/11/1512646112
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:২৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

দরজায় কড়া নাড়ছে সংকট: ডেঙ্গু কি তবে শুধুই দূরের পরিসংখ্যান?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:০০


অনেক দিন আগে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি লেখায় এমন একটি ভাবনা পড়েছিলাম—যুদ্ধ যখন দূরে থাকে, তখন তাকে নিয়ে আমরা উত্তেজিত হই, আলোচনা করি, পক্ষ-বিপক্ষ নিই। কিন্তু সেই যুদ্ধ যখন নিজের উঠোনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রবাদ প্রবচন ও আলী ভাইয়া, জী এস ভাইয়া, খায়রুলভাইয়া ও সত্যপথিকভাইয়াদের পোস্ট..... এই আমি অপ্সরা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২২


এই অপ্সরা শুধু একটা নিকই না। জীবনের একটা অংশের নাম। জীবনটা শুরু হয়েছিলো যবে থেকে তার পর ৫/৬ বছর থেকেই জীবনের নানা ক্ষনের নানা মানের উদ্দেশ্য বিধেয় ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় স্বার্থপর হয়ে গেছে! আগেই কি ভালো ছিলাম?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে! আগে এমনটা দেখা গেলেও গত কয়েক বছর এটা অতি বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কেন??

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Somewhereinblog.net: বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ থেকে ডিজিটাল পাবলিশিং এ পরিনত করে সাবলম্বি করার লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তাবনা ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯


একজন নিয়মিত ব্লগার হিসেবে প্রতিদিনই লক্ষ্য করি, Somewhereinblog.net (সামু) বাংলা সাহিত্য, অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক লেখার এক বিশাল আর্কাইভে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি কঠিন বাস্তবতাও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×