somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এত টাকা খায় ক?ে???????

১৬ ই নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৫:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক হলে ছিট বরাদ্ধও রয়েছে। শুধুমাত্র ঢাকায় বাসা এমন কিছু শিক্ষার্থী বাসা থেকে ক্লাস করে। তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা থাকার কারণে পরিবহন ব্যায় কম। এজন্য ঢাকায় ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় যাওয়া বা আসার জন্য টোকেন ভাড়া হিসাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১টাকা করে আদায় করা হয়। কিন্তু এবার প্রথমবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের থেকে অগ্রীম ২হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরই মাসে বা দু’মাসেও একবার ঢাকায় যাবার দরকার হয় না। পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা আর অতিতের লুটপাট ঢাকতেই এইা বাড়তি অর্থ ধার্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এছাড়া এ খাতের ৪৬লাখ টাকার অনিয়মের তদন্ত শেষ হয়নি দীর্ঘ ১৭মাসেও।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস থেকে রাজধানী শহরে যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহনের ১৬টি ও কিছু ভাড়া করা বাস আছে। এগুলোতে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থী প্রতি ১টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে হঠাৎ করেই এখাতে ২হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি বছর এ খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘাটতি প্রায় ৪ কোটি টাকা। পরিবহন অফিসের যাত্রী ভাড়া, গাড়ী ইস্যু, গাড়ীর পুরাতন যন্ত্রাংশ ও মালামাল বিক্রির টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভাড়া, জ্বালানী ও যন্ত্রাংশ ক্রয় ব্যাপারে অস্বচ্ছতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে টাকা জমা না হওয়ায় এ অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া স্টকবুক, পরিবহন সংক্রান্ত রেকর্ডবুক, ক্যাশবুক বিষয়েও ব্যাপক অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়।

২০০০-০১ থেকে ২০০৮-০৯ অর্থ বছর পর্যন্ত ৯ বছরের হিসাব নিরীক্ষা-কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাতে ৪৬লাখ ৪৫হাজার টাকার অনিয়ম পাওয়া যায়। এসময়ে বাসের যাত্রী টিকেট বিক্রি বাবদ আয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৫৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। নিয়মানুযায়ী এ টাকা অগ্রনী ব্যাংকের বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় জমা হওয়ার কথা। প্রাপ্ত মাত্র ১০৪টি রশিদ থেকে ব্যাংকে জমা হয়েছে মাত্র ৭লাখ ১২ হাজার টাকা। অবশিষ্ট টাকা ফান্ডে জমা করা হয়নি। উধাও হয়ে গেছে মোট আয়ের সবগুলো রশিদও। এর মধ্যে বিগত ২০০৩-০৪, ২০০৬-০৭ এবং ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে কোন অর্থই জমা করা হয়নি। গায়েব হয়ে গেছে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ২০হাজার পাঁচশ ও ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৩০হাজার পাঁচশ টাকার দুটি নিলামের টাকাও। এছাড়া ২০০৮ সালে ১লাখ ১১হাজার পাঁচশ টাকার একটি নিলাম সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে এর টাকা পরিশোধ না করায় এর জামানতের ৫হাজার টাকাও ব্যাংকে জমা না করে আত্মসাত করা হয়।

এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে করা হয়নি কোনও অডিটও। ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ অর্থবছরের সরকারী পোস্ট অডিটের সময় প্রায় ১২ লাখ টাকার গরমিল পাওয়া গেলে টনক নড়ে প্রশাসনের। গত বছরের ৩০জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাসির উদ্দিনকে প্রধান করে ৫সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ২ মাসের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়। পরবর্তীতে আরো ৬মাস সময় বৃদ্ধি করা হয়। কমিটি গঠনের দীর্ঘ ১৭মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত শেষ করতে পারেনি কমিটি।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×