somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক বাঙালি যুবকের হজ্ব সমাচার

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্থান, জেদ্দা, সৌদি আরব, তারিখ, ১৯৮০ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বরের সকাল। অফিসের প্রথম দিন। মাত্র গতকাল দেশ থেকে এসেছি। ইজিপ্সিয়ান একাউন্টেন্ট, যে আমাকে এয়ারপোর্টে রিসিভ করেছিলো, সবার সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলো।

কোম্পানির সৌদি জেনারেল ম্যানেজার চেয়ার থেকে উঠে এসে আমার পিঠ চাপড়িয়ে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিলেন। দুই তিনটা কথার পর বললেন, হজ্বে যাবে তো, এইতো কয়েকদিন পরেই শুরু হচ্ছে।

হ্যাঁ না কিছু না বলে শুধু মুচকি হাসলাম। মনে মনে ভাবলাম, ২৪ বছর বয়সে আবার কেউ হজ্বে যায় নাকি! তারপর ভুলেই গেলাম ব্যাপারটা।

কিন্তু সে ব্যাটা জেনারেল ম্যানেজার দেখলাম ভুলেনি বিষয়টা। দুই তিন দিন পর সামনে পড়তেই আবার শুধালো, এই যে ফার্মাসিস্ট, হজ্বে যেতে রেডি তো? আমতা আমতা করে বললাম, মানসিক প্রস্তুতি নিতে পারিনি এখনও।

হজ্বে যেতে আবার মানসিক প্রস্তুতি লাগবে কেন? ত্বরিত প্রশ্ন রাখলেন তিনি। একটা সুযোগ এসেছে তোমার জীবনে, আরো যোগ করলেন এবং, তাহা গ্রহণ কর যুবক, বলে আরেকবার আমার পিঠ থাবড়ালেন।

এইবার প্রসঙ্গটা সত্যি ভাবিয়ে তুললো আমাকে। রাতে শুয়ে শুয়ে ব্যাবচ্ছেদ করতে লাগলাম বিষয়টা। শুনেছি হজ্ব পালন করলে একজন মানুষ নবজাতকের মত নিষ্পাপ হয়ে যায়! আর দেশ থেকে একজনের চেয়ে আরেকজন বেশী বয়সে আসতে থাকে হজ্ব পালনে, সারাজীবনের পাপমোচনের জন্য।

আরো ভাবলাম, আমি মাত্র ২৪, সঠিকভাবে পাপ করাই শুরু করতে পারিনি কেবলমাত্র কিছু পোকামাকড়, ইঁদুর আর টিকটিকি হত্যা করা ছাড়া। মনে মনে নিজের নারী ঘটিত ব্যাপারগুলোও সন্তর্পণে রিভাইজ দিলাম। সিরিয়াসলি প্রেম করা ছাড়া আর কিছুতে জড়াইনি কোনদিন, যেটা গুরুতর পাপকার্য অবশ্যই নয়। তাই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে ২৪ বছরের জোয়ান ছেলের হজ্বে যাওয়া অবশ্য করণীয় নয়।

দেশে হজ্বে আসতে মুরব্বীদের অনুমতি নিতে হয় শুনেছিলাম, বাবা মা’র পা ধরে সালাম করে যাত্রা শুরু করতে হয়। এই যুক্তিটি মনে হওয়া মাত্র উৎফুল্ল হয়ে উঠলাম এই ভেবে যে জেনারেল ম্যানেজারকে মোক্ষম একটা কারণ দেখানো যাবে হজ্বে গমন এড়ানোর। নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে গেলাম তারপর।

সত্যি সত্যি জেনারেল ম্যানেজার একজন নাছোড়বান্দা ব্যক্তি। কাজের ফাঁকে জিজ্ঞেস করলেন পরদিনই, এহরাম কিনেছো? বললাম, এবার যাচ্ছি না জনাব, বাবা মা’র পারমিশন নেইনি যে! মনে মনে ভাবলাম, জবরদস্ত কারণ দেখিয়েছি এবং নির্ঘাত রেহাই মিলবে এবার।

কিন্তু রেহাই মিললো না। কি বললে, কি বললে? বেশ জোরে জোরে আমার পিঠ থাবড়ালেন তিনি আমার এবং স্পষ্ট মনে হলো এবার তিনি আমাকে তিরস্কার করছেন।

তুমি কি বলতে চাও, তোমার পিতামাতা যখন জানবেন তাঁদের ছেলে হজ্ব করেছে, তাঁরা অখুশি হবেন?

এই প্রশ্নের উত্তর আমার নিশ্চিত জানা ছিলো।

তার ঠিক দু’দিন পর ২৪ বছরের সেই যুবক সাতই জিলহজ্জের বিকালে লাব্বায়েক, আমি হাজির, বলতে বলতে মিনার পথে ধাবিত হোল।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১১:০৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×