
আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে: চিত্রনায়িকা পরীমণি
সাইয়িদ রফিকুল হক
সেদিনই আমার মনে হয়েছিল মেয়েটি এবার বাঁচতে পারবে তো! যেদিন ঢাকা-বোট-ক্লাবে ধর্ষিত হওয়ার পর পরীমণি প্রকাশ্যে সাংবাদিক-সম্মেলন করে তার ধর্ষিত হওয়ার খবর দেশবাসীকে জানান দিচ্ছিলেন, সেদিনই ভীষণভাবে শঙ্কিত হয়ে উঠেছিলাম! কারণ, পরীমণির ধর্ষণকারীরা হায়েনার চেয়ে বেশি নৃশংস, হিংস্র, লোভী, আর খুব মাংসাশী।
খবরটি দেখে আমি ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। কারণ, ধর্ষণের খবর দেখলে আমি ভীষণভাবে লজ্জিত আর পীড়িত হই। এসব আমার ভালো লাগে না। আমার মতো অনেকেই তা অপছন্দ করে থাকবেন। স্বাধীনদেশে কেন মেয়েরা এভাবে ধর্ষিত হবে? আর ধর্ষণকারীর কোনো বিচার হবে না কেন!
নায়িকা বলে কি মেয়েদের সতীত্ববোধ বা নারীত্ববোধ বা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই? নায়িকা বলেই কি কাউকে জোর করে ধর্ষণ করা যাবে? নায়িকারা হয়তো একটু খোলামেলা পোশাকআশাক পরিধান করে থাকেন। সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। আর এটা হয়তো সাম্প্রতিককালের চলচ্চিত্রের রেওয়াজ।
নায়িকারা খোলামেলা পোশাক পরবে বলেই ক্ষমতাবানরা তাদের ইচ্ছেমতো যখন-তখন ধর্ষণ করবে? এটা কোন বিধানবলে জায়েজ? এখানে, শুধু একজন নায়িকা নন, একজন চিহ্নিত পতিতাও যদি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের শিকার হন তবে তারও আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার রয়েছে। আর এই ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তারও ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাদায়ের করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? পরীমণি মামলাদায়ের করার পর থেকেই পাল্টে গেল দৃশ্যপট। তার ধর্ষণের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতেই পরদিন তাকে ডিবি-কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাকে তিন-থেকে-সাড়ে তিন ঘণ্টা আটকিয়ে তার কাছ থেকে জোর করে জবানবন্দি নেওয়া হলো। আর ধর্ষণের এই ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসাবে সবার সামনে চিত্রিত করা হলো! আর চিহ্নিত ধর্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের কোনো মামলাদায়ের করা হলো না! তার বিরুদ্ধে কয়েক বোতল মদ রাখার সাধারণ এক মামলাদায়ের করা হয়েছে! যাতে, সে অনায়াসে পার পেয়ে যায়। এই সহজ মামলার কারণেই সে এখন বাইরে আরামআয়েশে দিন কাটাচ্ছে। আর পরীমণি জেলের ঘানি টানছে!
জানি, এদেশে ধর্ষণের কোনো বিচার হয় না। ধর্ষকরা এদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী, আর কারও-কারও বড়ঠাকুর। এদের অনেকরকম আশ্রয়প্রশ্রয়দাতা রয়েছে। তাই, এরা নির্বিঘ্নে একের-পর-এক ধর্ষণ করে যেতে পারে।
পরীমণি ধর্ষিত হয়েছে। বিচার চেয়েছে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়েছে। কিন্তু মামলাদায়ের করতে পারেনি। কারণ, এখানে ধর্ষক খুবই শক্তিশালী একটাকিছু। সে ঢাকা-শহরের ‘বোট-ক্লাবে’র একটা প্রভাবশালী। আর বিরাট হোমরাচোমরা। তারউপরে সে আবার ‘জাতীয় পার্টি’র প্রেসিডিয়াম মেম্বার। দেশে তার বিচার করবে কে? সে যে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে এটাই স্বাভাবিক।
জাপা নেতা নাসির পরীমণিকে ধর্ষণ করে নিজের শক্তিমত্তার পরিচয় দিচ্ছে। আগামীদিনে হয়তো সে এমপি-মন্ত্রী হতে পারবে। কারণ তার চেইন খুব শক্ত। তার কত ভাইবেরাদার আর শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে। সে কেন জেলে যাবে? তাইতো পরীমণি ধর্ষিত হওয়ার পরদিন তাকে ডিবি-অফিসে ধরে নিয়ে গিয়ে তাকে দিয়ে কতকগুলো মিথ্যা কথা বলিয়ে নিয়েছে ‘পুলিশ ও অন্যান্য’ লোকেরা। তারা শুরু থেকে পরীমণি’র ধর্ষণকে (ধর্ষিত হওয়ার সত্যকে) পাত্তা না-দিয়ে কীভাবে নাসিরকে ফ্রেশভাবে সমাজের কাছে উত্থাপন করা যায়―তা-ই ভাবছিল। আর এখন তা-ই করেছে। একের-পর-এক মামলাদায়ের করা হয়েছে পরীমণির বিরুদ্ধে। আর তাকে রিমান্ডে নেওয়ারও শেষ নেই! বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো জঙ্গিকেও এতবার রিমান্ডে নেওয়া হয়নি।
নাসির কথিত শিল্পপতি। হয়েতো সে শত-শত, হাজার-হাজার কালো কোটি টাকার মালিক! টাকার জোরে এখন সবই চলে।
পরীমণি দেশের মানুষের কাছে তার আকুতি পৌঁছে দিতে পেরেছেন। তাকে আদালত-প্রাঙ্গণে তোলার সময় তিনি সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে অনেক কষ্টে বলতে সক্ষম হয়েছেন যে, ‘আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।’ তার বলা এই কথাটি আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে। আসলেই তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি ধর্ষিত হওয়ার পর ধর্ষকের নামউচ্চারণ করে বড় ভুল করে ফেলেছেন। দেশে কত জঙ্গি এখনও জামাইআদরে প্রতিপালিত হচ্ছে আর পরীমণির মতো একজন অভিনেত্রীকে সামান্য কয়েকটি মদের বোতল পাওয়ার অপরাধে গ্রেফতার করে, জামিন না-মঞ্জুর করে, জেলে পাঠিয়ে তার প্রতি কোন্ ন্যায়বিচার বা সুবিচার করা হচ্ছে?
ধর্ষকের বিচার চাই
ধর্ষকের বিচার চাই
ধর্ষকের বিচার চাই
পরীমণির মুক্তি চাই।
ছবি: গুগল থেকে সংগৃহীত।
সাইয়িদ রফিকুল হক
১০/০৮/২০২১
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০২১ বিকাল ৫:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


