বেশ কিছুদিন আগের কথা। আবু হাসান শাহরিয়ারের পায়ে পায়ে' পড়ছি। বাংলাদেশের মিডিয়া বিশেষত যুগান্তরে তার অভিজ্ঞতাগুলো। অসম্ভব তীক্ষ্ণ আর ইনফরমেটিভ। এক পর্যায়ে ল্যাব এইডের একটি খবরে চোখ আটকে গেলো। ল্যাবএইডের সোনার ছেলেদের ব্যবহারে সেবার মারা গিয়েছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর এক শিক্ষকের মা। খারাপ লেগেছিলো স্বাস্থ্য খাতের এই কষাইদের আচরণে।
২৮ নভেম্বর ২০০৭। সকাল ১০.৩০ মিনিট। ল্যাবএইডের ক্যাশ কাউন্টারে আমার এক কাজিনের আল্ট্রাসনোগ্রাফীর টাকা জমা দিয়ে বসে আছি তার সঙ্গে। বেচারির লোয়ার এবডোমেইনে প্রচণ্ড পেইন। ২৬০ নম্বর কক্ষে রিসিভ জমা দেয়ার পর জানা গেলো সিরিয়াল ১০। ডাক্তারের সহযোগী; আমি তাকে কি বিশেষণ দিলে তার গুণ(!) বর্ণনা করবো ভেবে পাচ্ছি না। বার বার মনে হচ্ছিল এদের ফি এত বেশি আর স্টাফগুলো এতটা অশিক্ষিত কেনো? হাসপাতালে চাকুরির পূর্বে মাছ বাজারে ফরিয়াদের সঙ্গে বসবাস ছিলো বোধ হয়।
এক ঘণ্টা যায় দুই ঘণ্টা যায়। প্রায় একটার সময় দেখা গেলো নয় নম্বর সিরিয়াল চলছে। মাঝখানে একের পর এক অন্য রোগী( হয়তো উচু রেফারেন্স এর)
ততক্ষণে আমার কাজিন শক ওয়েভে চলে যাওয়ার মতো অবস্থা। তার পর সে আবার মেডিক্যাল স্টুডেন্ট। আগে থেকেই জানতো প্রচুর পানি খেতে হবে। সেভাবেই সে প্রস্তুত হয়ে ছিলো। ডাক্তার (!) তাকে আরো পানি খেয়ে বসে থাকতে বললো। সে তাই আছে। কিন্তু দেখছি তার চোখে ধৈর্য্যের বাধ ভাঙ্গার শব্দ।
আমি ডাক্তারকে বললাম রোগীর অবস্থার কথা। তার খাস কথা কোনো ভাবেই নিয়ম ভঙ্গ করা যাবে না। একটার দিকে তাদের আহার পর্ব শুরু হলো। ততক্ষণে বেচারির ধের্য্যের সব বাধ ভেঙ্গে গেছে। ভেতর থেকে জানানো হলো আর বিশ মিনিট পরে তার সনোগ্রাফী শুরু হবে। শেষতক রাগে বেচারি তার জমা দেয়া রিসিভটা তুলে নিলো।
সোনার ছেলেদের ব্যাবহারের ষোলআনা পেয়ে খুব ইচ্ছে হলো অন্তত একটা অভিযোগ করে যাওয়া যাক। জানা গেলো অভিযোগ বক্স এখন বন্ধ।
আর জমা দেয়া ৮১৮ টাকা তুলতে গিয়ে তাদের আচরণ ফান্ডে জমা দিতে হলো ১০%! বাহ কি চমতকার সেবার নমুনা! আমাদের সোনার ছেলেদের আচরণের কি সুন্দর বাহার। ব্লগারদের বলছি। এর পর অন্তত একবার ভেবে ওমুখো হবেন নয়তো আমার কাজিনের মতো দুরাবস্থায় পরতে হতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


