যকোনো মূল্যে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে নিতে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা তাদের কিছু বিশ্বসত্দ এজেন্টকে দায়িত্ব দিয়ে যে ওপেন সিক্রেট মিশন চালিয়ে আসছিল তা শেষ পর্যনত্দ ব্যর্থ হতে চলেছে। সার্বিক বিবেচনায় অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ায় নির্বাচন বর্জনের পথেই এগুচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং তার নেতৃত্বাধীন মহাঐক্যজোট। তবে কৌশলগত কারণে বিষয়টি আপতত সরাসরি ঘোষণা করা নাও হতে পারে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল এবং মহাজোটের নীতিনির্ধারক একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের সঙ্গে আলাপ করে এমনটিই অনুমান করা গেছে গতকাল।
পাশাপাশি মহাজোটের বেশ কয়েকজন নেতা নির্বাচন প্রশ্নে ঈদের আগের দিন এবং ঈদের দিন বিভিন্ন মিডিয়াকে যা বলেছেন তা বিশ্লেষণ করলেও মহাজোটের নির্বাচন বর্জনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল বলেছেন, হাইকোর্টের রায়কে উপেক্ষা করে খামখেয়ালিভাবে তৈরি ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকায় 22 জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রশ্নই আসে না। প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, মহাজোটে জাতীয় পার্টিকে 52টি আসন দেয়া হয়েছে, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জোট নেতা এরশাদের পাঁচটি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। প্রতিবাদে জাতীয় পার্টি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এই অবস্থায় আমাদেরকে জোটের অন্যতম শরিকের পাশেই দাঁড়াতে হবে। প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু বলেছেন, গণতন্ত্র হত্যার নির্বাচনে অংশ নেবে না মহাজোট। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দিনের অধীনে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। এখন দফা একটাই। আর তাহলো ইয়াজউদ্দিনের পদত্যাগ। সে লক্ষ্যেই কঠোর কর্মসূচি আসছে।
শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সর্বশেষ প্রেসিডিয়াম সভায়ও অধিকাংশ সদস্য বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার পক্ষে মত দিয়েছেন। দলের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টাও দলীয় সভানেত্রীকে জানিয়েছেন, এখন নির্বাচনে যাওয়া হবে দলের জন্য একটি আত্দঘাতী সিদ্ধানত্দ। তারা শেখ হাসিনাকে ভেবেচিনত্দে নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে সিদ্ধানত্দ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
এছাড়া মহাজোটের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করলে তারা আমাদের সময়কে বলেছেন, ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা, প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা প্রমাণে ব্যর্থতা এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ায় এমনিতেই মহাজোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিল। চূড়ানত্দ কোনো সিদ্ধানত্দে পেঁৗছাতে পারছিল না। তার সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে, এরশাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘটনা এবং তাকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধানত্দ।
সবমিলিয়ে নেতিবাচক পথেই এগুচ্ছে মহাজোটের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধানত্দ। তবে সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও কাকতালীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে বর্তমান নেতিবাচক পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে টার্ন নিতে পারে বলেও মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের দুজন প্রেসিডিয়াম সদস্য।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এতোদিন একটি ওপেন সিক্রেট অভিযোগ ও প্রচারণা ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের কোনো কোনো সদস্য, 1 জন সাবেক ব্যবসায়ী নেতা ও মহাজোট প্রার্থী, সভানেত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ দলের 2 জন প্রেসিডিয়াম সদস্য একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে যে কোনো মূল্যে ও পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে ঠেলে দেয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় সভানেত্রীকে এই চক্রানত্দের হাত থেকে রক্ষার জন্য আওয়ামী পরিবারের নামে প্রচারিত একটি লিফলেটে দলের সকল সত্দরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আকুল আবেদন জানানো হয়েছিল। ওই লিফলেট নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল উত্তেজনা। আতঙ্কে ছিলেন অভিযুক্তরাও।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


