somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রশ্ন আপনাদের কাছে

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মেয়েটির নাম শর্মী , দেখতে বেশ সুন্দরী , বুদ্ধিমতি।

ইডেন থেকে ইকনোমিকস এ মাস্টার্স করা । ৩ মাসের অন্তস্বওা । হন্য হয়ে খুঁজছে খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য যে কোন একটি চাকরি। কোথাও তার যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছে না । কি হবে তার ... ভবিষ্যৎ কাটবে কি করে ? কি খাবে সে নিজে আর বাচ্চাকে ই বা খাওয়াবে কি ? থাকবে কোথায় ? পার্কের বেঞ্চিতে মাটিতে জন্মানো সবুজ ঘাসে পা রেখেও তার মনে হচ্ছে পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে যাচ্ছে।

আজ থেকে ৩ বছর আগের কথা । শর্মী তখন অনার্স ফাইনাল ইয়ারে । বেশ ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে । ৩ বোনের মধ্যে ওই সবার ছোট । ইচ্ছে ছিল স্কলারশিপ নিয়ে ইউরোপের কোন এক দেশে গিয়ে পড়াশোনা শেষ কোরে সেখানেই সেটেল হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাকার জন্য আর হলো না । বরাবর ভাল রেজাল্ট করা শর্মী তাই আশা ছাড়েনি । একদিন সে যাবেই স্বপ্নের দেশে।
তাই খুব আদরে আর বেশ স্বাধীনভাবেই বড় হয়েছে। বাবা প্রফেসর ছিলেন একসময় । এখন বেকার । বড় ভাইয়ের চাকরীর টাকায় সংসার চলে।

ফেসবুকে অলস সময় কাতাতে কাটতেই মাসুমের সাথে পরিচয় । বেশ হ্যান্ডসাম ছেলে । শিক্ষিত , ভদ্র ঘরের ছেলে । থাকে ফ্রান্সে। প্রথমে বন্ধুত্ব , আর তা পরে রূপ নেয় ভালবাসায় । মাত্র ২ মাসের পরিচয়ে মাসুমকে এত আপন মনে হচ্ছে জন্ম জন্মান্তরের পরিচয়। মাসুম ও শর্মীকে ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না । ওদিকে শর্মীকে ও বিয়ে দেয়ার জন্য বাবা মা অস্থির হয়ে আছে। কোনভাবেই কেউ কাউকে হারাতে চায় না । মাসুমের প্রবল ইচ্ছার কাছে হার মানল সব কিছুই ।

তাই শর্মী ই প্রথম তার বাবার কাছে বলল - বাবা মাসুমের তো ছুটি নেই তাই ও ফোনে ই বিয়ে করতে চায়। তমরা বাবা অমত করো না ।
প্রথম দিকে রাজি না হলে ও মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিয়েতে মত দিল সবাই । বিয়ের ৬ মাস পর ই মাসুম ছুটি নিয়ে দেশে আসল । এখন দুই পরিবারের সবাই খুশি । ৪ মাস পর মাসুমের ফিরে যাওয়ার সময় বলে গেল আগামী বছরই শর্মীকে নিয়ে যাবে ।

অনেকদিনের স্বপ্ন যেন পূরণ হতে চলল। দেখতে দেখতে চলে গেল এক বছর । কিন্তু মাসুমের কোথায় যেন একটা পরিবর্তন হয়ে গেল । ওকেও নিল না মাসুম ও আসল না । শর্মীর পড়ালেখা শেষ হয়ে যাওয়ার পর সে চাইল চাকরি করত, কিন্তু মাসুমের প্রবল আপওির মুখে সে আর আগাতে পারল না । বাসায় শুয়ে , বসে দিন কাটে তার । মাসুমের ইচ্ছা শর্মী যেন তার মায়ের সাথে গ্রামে গিয়ে থাকে । শহরে বড় হওয়া মেয়ে গ্রামে গিয়ে কিভাবে থাকবে সেকথা একটিবার ও মাসুম বুঝতে চাইল না । শর্মী ঢাকায় বাসা নিয়ে থাকতে চাইল সাথে ওর মাকে নিয়ে তাতেও আপওি। আগত্যা পাড়া গ্রামে গিয়ে মাসুমের মার কাছে ই থাকতে লাগল । এখন সে পুকুর থেকে কলসি কোরে পানি আনে । মসলা ফুরিয়ে গেলে বেটে খায় । মাটির চুলায় রান্না করে । আজকাল শর্মীকে চেনা বেশ কষ্ট হয়ে পড়ে ।বয়স যেন হুট কোরে বেড়ে গেল ১০ বছর ।

২ বছর পরে আবার এল মাসুম । এবার মাসুম চায় বাবা হতে । কিন্তু শর্মীর ইচ্ছা সে এখনই মা হতে চায় না । আগে নিজের পায়ে দাড়াতে চায় , বাংলাদেশ অথবা ফ্রান্স যেখানেই হোক । কিন্তু শর্মীকে এখনই ফ্রান্সে নিতে চায় না মাসুম অন্তত মা যতদিন বেঁচে আছে ততদিন মার কাছেই তাকে থাকতে হবে । এর ব্যাতিক্রম হলে সে আর মাসুম কে পাবে না । দোটানায় দিন কাটতে লাগল শর্মীর।

মাসুম চলে গেছে ২ মাস হল । শর্মীকে জানিয়ে দিল সে আর তার সাথে সম্পর্ক রাখতে রাখতে রাজি নয় । ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিল । ইতিমধ্যে বাবা মা দুজনেই মারা গেছেন । সরকারি চাকরির বয়স ও চলে গেছে তার । ভাইয়ের বাড়িতে বোঝা জেনেও মুখ বুজে পড়ে আছে ।
এরমধ্যে চেকাআপ করে জানতে পারল ৩ মাসের অন্তঃস্বওা । বাচ্চার কথা মাসুম কে জানানোর পর বলল এ বাচ্চা আমার নয় , তাই এসবের দ্বায়িত্ব ও আমার নয় । তুমি তোমার পথ দেখ । মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল যেন । একটি স্ববলম্বী মেয়ে হয়ে গিয়েছিল সম্পূর্ণ পরনির্ভরশীল একটু সুখের আশায়, একটু ভাল থাকার আশায়।

করনীয় কি তার ?
কার কাছে বিচার চাইবে সে ?
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:১৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহলে হাদিস একটি সুনিশ্চিত পথভ্রষ্ট ও জাহান্নামী দল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫৮




সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন বিচার পাওয়ার আগেই মৃত্যু হলো সাইকো সম্রাটের ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩৪


সাভার থানা থেকে মাত্র একশো গজ দূরে, পাশে সরকারি কলেজ, দূরে সেনা ক্যাম্প, চারদিকে মানুষের ব্যস্ততা: এই পরিচিত পরিবেশের মাঝে একটা পরিত্যক্ত ভবন ছিল, যেখানে আলো পৌঁছাত না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানব সভ্যতার নতুন অধ্যায়

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৭


আজ মানব জাতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
তারিখঃ ২৪ শে মার্চ, ২০২৬
সময়ঃ বিকাল ৪টা, (নর্থ আমেরিকা)
আমেরিকার কংগ্রেস স্বীকার করে নিল ভীন গ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব। স্বীকার করে নিল পৃথিবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।
আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই কালরাতে Operation Searchlight নামের বর্বর অভিযানের মাধ্যমে পাক আর্মি নিরস্ত্র বাঙালির উপর ইতিহাসের জঘন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩০

কাভার- সরাসরি আপলোড না হওয়াতে!!


ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

জেনারেল মাসুদের গ্রেপ্তার হতেই হঠাৎ দেখি-
সবাই একসাথে ওয়ান-ইলেভেন-কে ধুয়ে দিচ্ছে!

মনে হচ্ছে, এই জাতির কোনো অতীতই নেই।
বাঙালির স্মৃতিশক্তি আসলেই কচুপাতার পানির মতো-এক ঝাপটায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×