somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ভবিষ্যৎ বরের জন্য খোলা চিঠি -(আমার যত চাহিদা তার কাছে)

১৩ ই জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৩:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমাদের বসার ঘরটা হবে অনেক বড় , চারিদিকে থাকবে গ্রিল ছাড়া খোলা জানালা যেন হাত বাড়ালেই মেঘ ছোঁয়া যায় । আমি কিন্তু মাটির ঘর চাই না , পুরো বাড়ি হবে বাঁশের আর মাটি থেকে আট দশ ফিট ওপরে । বাঁশের বুননের ঘরে বসে চা খাবো বাঁশের গ্লাসে , যতদূর চোখ যাবে দেখবো শুধু সবুজ অরন্য । রান্নাঘরের পাশেই থাকবে খোলা বারান্দা আর নিচে নামার জন্য থাকবে কাঠের সিঁড়ি । আর হ্যাঁ বসার ঘরের পাশেও কিন্তু অনেক বড় খোলা বারান্দা রাখব একটা ।

অলস বিকেলে বারান্দায় পা ঝুলিয়ে বসবো , ঝুম বৃষ্টিতে এত ভিজবো যেন ঠাণ্ডা লেগে যায় , বেশি গরম যখন হাফসাফ করবে তখন বাঁশের পাটিতে শুয়ে একসাথে আকাশের তারা গুনবো , মনে রেখ হাত পাখা দিয়ে কিন্তু তোমাকেই বাতাস করতে হবে ।

বাড়ির সামনের জায়গায়টাতে কিছু সবজি ফলাতে হবে , যেন বাজার থেকে সবজি কিনতে না হয় । মাছ কিন্তু খুব বেশি খেতে পারবো না হয়তো মাসে এক দু'বার । আমাদের তো ফ্রিজ থাকবে না বেশি করে এনে তো রাখা ও যাবে না । মুরগি রাখলে কেমন হয় ক'টা ? কিছু লাউ ডগা উঠিয়ে দিব ছনের চালে । সকালের নাস্তা থাকবে রঙ্গিন ভুট্টা ভাজা , সিজনাল কোন ফল, ডিম সেদ্ধ । চাইলে আদা দিয়ে রং চা খেতে পারো । কিছু কলা গাছ থাকবে চারপাশে , শুনেছি কলার ফলন বেশ ভালো হয় সেখানে । কি বল তুমি ? আচ্ছা তুমি কি জাম্বুরা খাও , আনারস কি পছন্দ ? ওখানে তো জোঁক আছে অনেক তুমি যেন আবার ভয় পেও না ।

আমি কিন্তু একটা কামিনী গাছ লাগাতে চাই । ভরা পূর্ণিমাতে যখন তোমার হাত ধরে হাঁটবো তখন যেন কামিনীর সুবাস আমাদেরকে আচ্ছন্ন করে রাখে । কামিনীর গন্ধে কি সাপ আসে ? তুমি কি সাপ ভয় পাও ? ওমন ভাবে তাকাচ্ছো কেন !!! ঠিক আছে সাপ যেন না আসে সে ব্যাবস্থা ও করবো ।

সকাল বিকেল আমি খালি পায়ে মাটি ছুঁয়ে হাটবো । দুপুরের পরে স্কুলে পরানো শেষ করে আসার সময় পাহাড়ি ছড়া থেকে নিয়ে আসবো সুমিষ্ট , শীতল খাবার পানি । সারাটা বিকেল বই পড়ে কাটিয়ে দিনের শেষ ভাগে এসে সবজির বাগানে কিছুটা সময় দিতে চাই । তখন যদি ক্লান্ত না থাকো তবে আমার সাথে তুমিও কাজে হাত লাগিও । সপ্তাহে একদিন কিন্তু ডাকঘরে যেতে হবে যদি কেউ চিঠি দেয় আমাদের । তখন তো আর মোবাইল ফোন থাকবে না ।

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে নিস্তব্ধ , শুনশান নীরবতা নেমে আসে চারিদিকে । আমাদের আর কি কাজ ? হারিকেনের মিটিমিটি আলোতে ভাত খেতে খেতে তুমি শুনবে আমার সারাদিনের ব্যাস্ততার কথা আর আমি তোমার । তারপর দুজনে বের হয়ে যাবো নৈশ ভ্রমনে । চুপি চুপি এবাড়ি ও বাড়ি গিয়ে কান পেতে শুনবো আমার স্কুলের বাচ্চারা কে রাত জেগে পড়ছে আর কে ঘুমাচ্ছে ? সারাদিন ছুটোছুটির পর যখন ঘুমের দেবী আমাদের বাড়ি চলে আসবে তখন আমি তোমার বুকে মাথা রেখে টুপ করে ঘুমিয়ে যাবো ।

অতঃপর আমার মাথার সমস্ত চুল রং পাল্টাবে , চামড়ায় আসবে শিথিলতা , যখন দুহাত সামনে দাড়িয়ে থাকা কারো চেহারা লাগবে অস্পষ্ট শুধু তাকে চিনে নিবো গলার স্বরে , আমার হাতে গড়া ও পাড়ার মং তংচঙ্গা , অথবা দাথই মারমা হয়ে উঠবে শিক্ষিত, সচেতন, তখন বুঝবো আর বেশি দেরি নেই এবার হয়তো বিদায় নিতে হবে চিরচেনা চারপাশের মানুষদের কাছ হতে । প্রিয় পাড়া হতে ,প্রিয় পৃথিবী হতে ।

কোন এক বসন্তের পাতা ঝরা দিনে খুব ভোরে যখন কোকিল ডাকবে , কামিনীর সুবাস শেষ হয়ে আসবে , দেখবে আমার মুখে লেগে আছে প্রশান্তির হাসি । তুমি আমাকে ডাকতে গিয়ে দেখবে নিথর আমি তবু ও বেশ উষ্ণ আমার গা । দেরি করো না যেন , যত তাড়াতাড়ি পারো আমাকে শুইয়ে দিও মাটির ঘরে । জানো তো আমি আবার গরম সহ্য করতে পারি না । বেশি দূরে ও রেখ না আমাকে , আমি একা থাকতে ভয় পাই । ঘরের কোণে যে কামিনী গাছ টা ছিল সেখানেই সমাধি করো , যেন সকাল বিকেল রাত ইচ্ছে হলেই তুমি আমাকে দেখতে পারো আর আমি ও তোমাকে দেখতে পারি । মন খারাপ করো না আমি কামিনী হয়ে সুবাস ছড়াবো মায়াবী জ্যোৎস্নায় ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৪:০৪
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মোল্লাতন্ত্র ধর্ষণ-হত্যা ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের সমাধান নয়, বরং তা বৃদ্ধির একটি কারণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪২


সাত বছর বয়সের ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যার ঘটনার সমাধান হিসেবে, মোল্লাতন্ত্রের মুখপাত্র আহমাদুল্লাহ হুজুর পুরাতন এক ফতোয়া নিয়ে হাজির হয়েছেন। এইসব নৃশঃসতার মাত্রা কমিয়ে আনার একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেজন্মা

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


হু বেজন্মা কথা শুনার পর
আমি বিরক্ত মনে করতাম
কিন্তু বেজন্মা কথাটা সত্যই
স্রোতের মতো প্রমান হচ্ছে-
খুন ধর্ষণ করার পশুত্বকে
বলে ওঠে বেজন্মা ক্যান্সার;
ক্যান্সারের শেষপরিণতি মৃত্যু
তেমনী বেজন্মার হোক মৃত্যু-
চাই না এই বেজন্মাদের বাসস্থান
আসুন রুখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো থাকো ছোট্ট মা এই অনিরাপদ শহরে

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৫




মাঝে মাঝেই মনে হয়, পৃথিবীতে আমি যদি সত্যি কাউকে নিঃশর্ত ভালোবেসে থাকি, তবে সে আমার মেয়ে।
ওকে প্রথমবার কোলে নেয়ার দিনটার কথা আমাকে আবেগ প্রবণ করে তোলে ছোট্ট একটা উষ্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালাশ

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২১ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬

ছবি : এ আই

জোর জবরদস্তি,
উঠিত লিঙ্গের দুই মিনিটের সুখ
তারপর ???
গরম, মাথা গরম।
কোপ, কল্লা মাথা আলাদা,
শেষ, নিথর নিশ্চুপ দেহ,
খণ্ডিত ছিন্নভিন্ন।

লাল রক্ত কালচে হওয়ার আগেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র কেন রামিসাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১০


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে যে গভীর ও দমবন্ধ করা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কোনো কাল্পনিক ভীতি বা বিচ্ছিন্ন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×