মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদএর ফলে তাদের ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে আজইকারাসূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে
কারাসূত্র জানায়, ফাঁসির জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি তারা সম্পন্ন করেছেন এবং এ সংক্রান্ত নির্দেশনাও পেয়েছেন
কারা কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে মুজাহিদের পরিবারকে সাক্ষাতের জন্য ডেকেছেনসাকার পরিবারকেও ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম খান আলফেসানি
রাত ৯টায় সাকা চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার পরিবার সদস্যরা কারাগারের সামনে এসে পৌঁছেছেনচারটি গাড়িতে করে ১৭ জন এসে পৌঁছানএদের মধ্যে সাকার স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী, ছেলে ফজলুল কাদের ফাইয়াজ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, মেয়ে ফারজিন কাদের চৌধুরী, পুত্রবধূ দানিয়া খন্দকার, মেয়েজামাই জাফর খান রয়েছেন
রাত সোয়া নয়টায় মুজাহিদের পরিবার সদস্যরাও কারাফটকে এসে পৌঁছান
এর আগে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রাণভিক্ষার আবেদন দুটি বঙ্গবভনে এসে পৌঁছায়প্রধানমন্ত্রীর দফতর হয়ে বঙ্গভবনে আবেদন দুটি পৌঁছায় বলে সূত্র জানিয়েছেতবে বঙ্গভবন থেকে তার প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়
তবে কারাগারের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊধ্র্বতন কর্মকর্তাদের একের পর এক কারাগারে প্রবেশ করতে দেখা গেছেসর্বশেষ অতিরিক্ত আইজি (প্রিজন) কর্নেল ফজলুল কবীর রাত সাড়ে আটটার দিকে কারাভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেনরাত পৌনে নয়টার দিকে কারাগারের চারপাশে নতুন করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরেকদল সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে
বঙ্গভবনে সাকা ও মুজাহিদের ক্ষমা প্রার্থনার এর আগে দুপুরে আবেদনটি কারাগার থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়
এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার মন্ত্রণালয়ে আসার পর আমি আমার মন্তব্যসহ আবেদন দুটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবএরপর রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলেও তিনি জানান
এর আগে দুপুরে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদরাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনটি তারা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দেনএর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পাওয়া সাকা চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না, সেই বিষয়ে জানতে দুজন ম্যাজিস্ট্রেট সকালে কারাগারের ভেতরে যান
প্রথমে তারা মৌখিকভাবে দুজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রাণভিক্ষার কথা জানানপরে প্রাণভিক্ষার আবেদনের দুটি ফর্ম নিয়ে পূরণ করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দেন বলে নিশ্চিত করেন কারা কর্তৃপক্ষ
তবে মুজাহিদের ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর এর আগে বলেছেন, তার বাবা আইনজীবী বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা না বলে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না
এদিকে, রাষ্ট্রপতির কাছে দেখা করতে গিয়ে সাকার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, প্রাণভিক্ষা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে নাদ্বিতীয় দফা বিচারের আবেদন করতে এসেছিযদিও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয়নি
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এই দুই আসামির ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তাএমনকি এই এলাকায় যান চলাচলও সীমিত করে দেওয়া হয়েছেএরই মধ্যে সেখানে এসেছেন অন্য নিরাপত্তাকর্মীরাও

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




