somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তামান্না তাবাসসুম
আমি খুব পজেটিভ মানুষ। যা আমাকে পোড়ায় তা নিয়ে মাঝে-সাঝে লিখি। তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে একটা উপস্থিত কবিতা লেখা প্রতিযোগীতায় পুরস্কৃত হওয়ার মধ্য দিয়ে কলম ধরার যাত্রা শুরু

৭১এর বুদ্ধিজীবী হত্যা বনাম বর্তমানের প্রতারণামূলক শিক্ষাপদ্ধতি

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আচ্ছা বলেন দেখি ৭১এর বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে বর্তমানের কোন জিনিসটার খুব মিল ?

সেটা হল প্রশ্নপত্র ফাঁস। প্রকৃতপক্ষে এটা তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ। ছোট বেলায় পড়েছিলাম কোন জাতিকে ধংস করতে হলে তার সব বই পুড়িয়ে দাও। এটাতো তারই একটা অন্যরূপ। কি অভিনব পন্হায় একটা জাতিতে বই বিমুখ করে ফেলছে। তাই বলে প্রাথমিক শিক্ষাটাও ভাল ভাবে শিখতে দিবে না?
তার বদলে এই বয়সেই চুরি বিদ্যার হাতেখড়ি!নৈতিক অবক্ষয়ের এই দুঃসময়ে শিক্ষক যদি নিজেই তার নীতি নৈতিকতা বজায় রেখে চলতে না পারেন তা হলে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো?

এখনআর ‘ঘাড় ঘুরালে খাতা নিয়ে যাব’বলার প্রয়োজন পড়ে না। আগের শিক্ষাকদেরএকটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পরীক্ষায় নকল বন্ধ করা।ছাত্রছাত্রীরা এখন আর নকল করে না,করার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ; পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন এবং উত্তর দুটোই তাদের কাছে পৌঁছে যায়!

হঠাত কি এমন হল যে শিক্ষার মত একটা সেক্টরের মানুসের মাঝে নৈতিকতা একদম হারিয়ে গেল!এটা সুধু গুটি কয়েক অসাধু লোকের কাজ না, এটা ভাইরাসের মত ছড়িয়ে গেছে রুইকাতলা থেকে পাড়ার প্রাইভেট মাস্টার পর্যন্ত।


বিগত কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পর পর তিনবার চ্যাম্পিয়ান হয়েছিল কিন্তু তখনও মানুষ পড়ে পাস করতো। তাহলে অনুমান করতে পারছেন ভবিষত্‍ কতটা ভয়াবহ।


যে প্রতারণামূলক শিক্ষাপদ্ধতি চালু রাখা হয়েছে,তা শুধু অন্যায়ই নয় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করার এক দুর্বীনিত অপরাধও বটে।আজ সারা জীবনের জন্য মারাত্মক একটা ভুল শিক্ষা তাদের জীবনে থেকে গেল সঠিক উত্তর হিসেবে।

আবার চোরের উপর বাটপারের ও অভাব নাই। আমার পাশের বাসার মেধাবী মেয়ে ২ লাখ টাকা দিয়ে মেডিকেলের ভর্তি প্রশ্ন কিনে দেখে একটা ও কমন পড়ে নাই। অথচ সে যদি প্রশ্নের পিছু না ছুটে নিজে প্রিপারেশন নিত তাহলে হয়ত টিকে যেত। ইন্টারের ইংরেজি পরিক্ষার সময় আমার ছোট ভাইয়ের বন্ধুর সাথেও এমন হয়েছে।


বেশ কয়েকবসর ধরে দ্রুত রেজাল্ট দেওয়ার নিয়ম কিরার কারনে গড়পড়তা নাম্বারদেওয়ার প্রবনতা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যখন একটাক্লাসের ৭০ জনের প্রায় সবাই সমান-সমান গ্রেট পায়, তখন খারাপছাত্রের বাবা গর্ব করে মিস্টি নিলি করে আর ভালো ছাত্রটি ঘরে বসে অভিমানে ফুঁসতে থাকে।যে দেশে গুণীর কদর নাই, সে দেশে গুণী জন্মেও না।


আগে তো প্রায়শই পরিক্ষার সময় এমন খবর দেখা যেত যে নকল সাপ্লাই এর জন্য পুলিসের হাতে ধরা পড়ার খবর। বিগত কয়েক বছর ধরে এমন টা আর চখে পড়ে না।ডিজিটাল বাংলাদেশে ফেসবুকের প্রশ্নের ফাস করা স্ট্যাটাস দাতা কে খুঁজে বার করা খুব কঠিন কিছু না। বর্তমানে অনেক ক্রাইমইতো এভাবে স্লভ করা হচ্ছে।এখন তো সরকার সাইবার ক্রাইম নিয়ে খুব ভাল আইন চালু করেছে।


আর আওয়ামী সরকার তো দেশের শিক্ষার জন্য অনেক ভাল ভাল কার্জক্রম নিয়েছে। যেমন শিক্ষার্থী দের হাতে সঠিক সময়ে বই দেওয়া। এবং কিছুদিন আগেও পরিক্ষার দূর্নীতির ব্যাপার গুলোতে অনেক কড়াকড়ি ছিলো। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ,শিক্ষানীতির জন্য ছাত্রজীবনে যিনি আন্দোলন করেছেন;শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে গত অর্ধযুগ ধরে কিছু ভালো কাজও করে সাফল্যও পেয়েছেন।কিন্তু সেগুলো ম্লান হতে খুব বেশি সময় লাগবে না যদি এখনি হাল না ধরেন।



মিডিয়া যেভাবে এই বিষয়টা তুলেধরছে রাতে আশা করা যায়,পরবর্তিতেসরকার এ বিষয় কঠোর হবে। কিন্তু এই ভাইরাস যেভাবে পরিক্ষার সাথেজড়িতদের রন্দ্রে রন্দ্রে ছড়িয়েছে তাতে এটা দূর করতে প্রয়জন সর্বস্তরের সহযোগীতা।



সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩৩
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বলুন - "হ্যালো আল্লাহ্‌, আমি এখনো বেঁচে আছি!"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আপনার কাছে মনে হচ্ছে, আল্লাহ্‌ আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আপনার দোয়া কবুল করছেন না।
আপনার কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
আপনার কোন চাকরী নাই। রিজিক ছোট হয়ে এসেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×