ছেলেটা থাকছে তার বাসায়, মেয়েটা তার বাসায়।.দুজনে টাকা খরচ করে ডেট করতেসে, রেস্টুরেন্টে খাইতেসে, একে অন্যকে গিফট কিনে দিতেসে... ডেট করা শেষে দুজনে আবার নিজেদের বাসায় ফিরে যাচ্ছে। তারপর রাত জেগে ফোনে কথা বলতেসে।.এই যে কাজগুলা তারা করতেসে, এই সেম কাজগুলাই কি বিয়ে করে করা যায় না?.আকদ হয়ে থাকবে, মেয়েটা থাকবে বাবার বাড়িতে... স্বামীর সঙ্গে ডেট করবে, স্বামী-স্ত্রী রাত জেগে কথা বলবে।.এরপরে ছেলে যখন কামাই করা শুরু করবে, তখন মেয়েকে ঘরে তুলে নিবে।.এমনটা হইলে ফোনে কথা বলার মধ্যে কোনো লুকোচুরির দরকার হচ্ছে না... ডেটিংয়ে গিয়ে ধরা পড়ার ভয় থাকছে না।.ছেলেটা চাইলে মেয়েটার বাসার ড্রয়িংরুমে বসে অপেক্ষা করতে পারে তাকে নিয়ে ঘুরতে যাবে বলে।.মেয়েটা কোনো এক ছুটির দিনে সকালে ছেলের বাসায় হাজির হয়ে যাইতে পারে তার শাশুড়ির সঙ্গে রান্না করবে বলে।.যদি উদ্দেশ্য টাইম পাস না হয়ে একসঙ্গে বৃদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে যার সঙ্গে প্রেম করতেসেন, তাকে বিয়ে করে ফেলা যায় না কেন?.বাপ-মা যে ভয়ে বিয়ে দিতে চায় না সেটা হচ্ছে- বিয়ে করে বৌ-কে খাওয়াবে কী?.প্রেমিক কাপল যে টাকাটা ডেটের পিছে খরচ করছে, অনেক বিবাহিত দম্পতিও তাদের ঘুরাঘুরির পিছে এর চেয়ে কম খরচ করে।.তাই বাবা-মায়েরা যদি একবার সাহস করে স্রোতের বিপরীতে হেঁটে আর্লি ম্যারেজ দিয়ে দেন- তাহলে ছেলেমেয়েগুলা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারবে, আপনাকেও তাদের গুনাহর ভাগীদার হইতে হবে না।.এখন যে পর্নোগ্রাফী মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে, ডাস্টবিনে পড়ে থাকে নবজাতকের লাশ- এসবের কারণ কী?.একজন মানুষের জৈবিক চাহিদা থাকবেই... ব্যাপারটা স্রোতের মতো।.যখনই আপনি এতে বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করবেন, তখনই সে তার বিকল্প রাস্তা তৈরি করে নিবে।.হযরত আদম (আ.) জান্নাতে থেকেও সুখ পান নাই, একজন সঙ্গীর জন্যে মলিন মুখে ঘুরে বেড়াতেন।.আর মানুষ তো থাকে ধুলি-ধূসরিত পৃথিবীতে...তার জীবনে অনেক বেশি হার্ডশিপ, অনেক বেশি স্ট্রাগল।.একটা বয়সের পরে প্রচণ্ড কাজের চাপের মধ্যে কারো ছোট্ট টেক্সটের দরকার হয়, দিন শেষে ভালোবাসার একটা স্পর্শ লাগে।.এখন বাপ-মা বিয়ে দিচ্ছে ত্রিশের পর কিন্তু ছেলে ম্যাচিউরড হয়ে যাচ্ছে আঠারো-উনিশে।.যেহেতু সে জানে যে ত্রিশের আগে বিয়ে হবে না, তাই সে শুরু করে প্রেম, প্রেমিকার সঙ্গে রাত জেগে কথা বলা, তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত যাপন।.প্রেমিকার সঙ্গে সে তাই তাই করতে চায় যা সে বিয়ের পর স্ত্রীর সঙ্গে করতো।.এবং করছেও... শুধুমাত্র বিয়ে না করার কারণে মাঝখান থেকে বাড়ছে গুনাহ।.প্রেমের যে সম্পর্ক ওই সম্পর্কের তো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অথবা সামাজিক স্বীকৃতি নাই!.গভীরভাবে ভেবে দেখুন- আঙ্গুলটা আগে তাদের বাবা-মায়েদের দিকে তোলা উচিত কিনা যারা এই নষ্ট সমাজের প্রচ্ছন্ন সমর্থক?
লেখক: মওদুদ সরকার মুকিত
ধন্যবাদান্তে: তানভীর ( http://www.facebook.com/tanvirbd1971)
web: http://www.tanvirhsz.blogspot.com

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


