
বয়স্ক মানুষের প্রতি মানুষের অবহেলা ও অবিচার বেড়েই চলেছে। আর আমাদের কাছ থেকে যৌথ পরিবারের ঐতিহ্য যেন হারিয়ে গেছে ঠিক কালের গর্ভে। যেমন, দিন, মাস, বছর, যুগ শতাব্দি হরিয়ে যায়। বৃদ্ধদের তাদের ছেলেমেয়েরা গ্রামে রেখে আসে, নয়তো বা ওল্ড হোম বা বৃদ্ধাশ্রম আবার এমনও হয় ওল্ড হোমে রেখে আসার পর তারা ভাল আছে কী মন্দ আছে, বেঁছে বর্তে আছে কী না, সে খবরটাও নি না। অথচ নিজেদের বলি একবিংশ শতাব্দির সভ্য সমাজের লোক চাকচিক্যের আলোরনে আবৃত মানুষ এরই পরিনতী কী আমরা দেখি না। ড্রাগে আশক্ত নিজের সন্তানদের মা-বাবা হীন খালি ঘরে তরুন-তরুনীদের অসমাজিক কাজ কর্ম শুধু টাকা দিয়ে গড়া মনুষত্বহীন আপন সন্তান। নবিনের মানুষিকতার সঙ্গে প্রবিনের মানুসিকতা মেলে না বলেই কী তাদের দুরেই ঠেলে রাখি কী এই মানুসকিতা? কোথা থেকে ধার করা? কোন শিক্ষার ফল? তা আমাদেরকে ভাবতে হবে। হয় আমরা নিজেদের ঐতিহ্য আরও দৃড়ভাবে আকড়ে ধরবো, নয়তো বা পুরোপুরি পাশ্চাত্যমুখি হয়ে যাব। মধ্যখানে সমাজের এই ভ্ঙ্গান সহ্য হয় না। প্রবিন হলে মানুষ শিশুর মত হয়ে যায় তখন তাদের বিত্ত বৈভব, স্ট্রাসের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় শুধু একটু নিজের ছেলেমেয়েদের সহানুভুতি, পূর্ণ আচরণ মিষ্টি কথা, একটি আদর যত্ন, আর নাতি-নাতনীদের আনন্দপূর্ণ হাসিমাখা মুখ। কিন্তু এতটুকুই কী দিতে পারি না আমরা। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছুই বদলাবে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষতো মানুষ হিসাবে জন্মাবে। তার মধ্যকার ভালবাসা ত্যাগ তিতীক্ষা, সমযোতা, মানবিক অনুভুতি এগুলো তো বদলানোর নয়, এগুলো আছে বলেই হয়তো আজও আমি ভাবতে বসি, যদি আমার জন্মের আগে আমার দাদা-দাদি ইন্তেকাল করতেন তবে তাদের আদর সোহাগ আমার ভাগ্যে জুটতো। আর যে নবীন আগামীতে বয়সের ভারে সেও হয়ে যাবে নিস্তেজ। অকমন্য, স্থবির প্রবীন। আমরা যদি আমাদের বৃদ্ধ মা বাবার অথবা আত্মীয় স্বজনের সাথে খারাফ ব্যবহার করি, অথবা দায়িত্ব এড়িয়ে চলি, একদিন আসবে যেদিন আমরা হয়তো আস্থাকুড়ে আবর্জনার মত পড়ে থাকবো। পড়ে থাকবো নিজেদের ছেলে মেয়েদের অবহেলার জন্য।
আজ যারা ওল্ড হোমে বা ঘরে অবহেলাপূর্ণ দিন অতিবাহিত করছেন তারাতো একদিন প্রতিষ্ঠিত সন্তানের নিশ্চিত ভবিষ্যত তৈরিতে অনেক কিছু¦ই করেছেন। কিন্তু প্রতিদান কী পেলেন। বৃদ্ধ বাবা মা কেন, কোন বাবা মা’ই তার প্রতিদান চান না। কিন্তু এতটুকুতো প্রত্যাশা করতে পারেন যে, তার ছেলে মেয়েরা তারা কী খেয়েছেন, কেমন লাগছে, এগুলো বলোক। খোঁজ খবর নিবে বিশেষ দিনে অন্তত মাসে একদিন এখন কী সমস্যা তা জানতে পারে। শুধু দেয়াই কী সবকিছু? আন্তরিকতার সঙ্গে মা বা বাবা বলে ডাকলেইতো তথা কথিত আধুনিক জীবনের যন্ত্রনা অনেকটা লাগব হয়। না আমরা তাও করতে রাজি নাই।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




