somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এলোমেলো ভাবনা

০৩ রা অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কর্মচঞ্চল সেই সব মানুষদের কথা বলছি- যারা “কর্মই ধর্ম” নীতিতে বিশ্বাস করে তার সীমানাবদ্ধ জায়গাটুকুকেটই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতো। তাদের কাছে তাদের মহাশয়, সহকর্মীদের সময় দেয়াটাই যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্যের ছিল আজ সেই সব কর্মচঞ্চল মানুষরাই তাদের অর্জিত কর্মকে চোখের অনলে দেখতে পারে না। কিন্তু কোনো এক সময় কারো কারো শত অলস বা ব্যস্ত সময়েও তাদের লগ্ন পাওয়া যেত না। কুকুরকে পাটকেল নিক্ষেপের মতোই দূর দূর করে তাড়িয়ে দিত তাদের বাল্য বন্ধু বা অতিশয় আপনজনকেও। আজ তারাই মনে করছে- কর্মচাঞ্চল্যই তাদের জীবনের সবচেয়ে বেশি ভুল ছিল।
এক অজানা শহরে পাড়ি জমিয়ে সেখানকার নবীণ বন্ধুদের প্রাধান্য দিতে গিয়ে পুরনো গ্রাম্য বন্ধুটাকে এতো বেশিই ভুলে গিয়েছিল যে, গ্রাম্য বন্ধুটার উপস্থিতির যে কোন মাধ্যমই তখন তার কাছে বিষ পানের মতো লাগতো। কিন্তু আজ অজানা শহরে নিজের অজান্তে কৃত পাপগুলোর কথা শেয়ার করছে পুরনো সেই গ্রাম্য বন্ধুটাকেই। অজানা শহর এখন কারো কাছে এতো বেশিই তিক্ততার যে, পারলে বুলডোজার দিয়ে শহরটাকে মুহূর্তেই উড়িয়ে দিতো।
কোনো এক সময় হুলস্থূল সেই যুবকটার গতিও আজ অনেক বেশি নিথর হয়ে গেছে। যেখানে তড়িৎ গতিতে চলাফেরার করার কারণে তার সম্মুখপানে কে পড়তো সেটাই তার অজানা ছিল। আজ অজানা সেই ব্যক্তিগুলোর কাছেই হুলস্থূল গতির ব্যক্তিটার আগমন অনেক বেশি মন্থর গতিতে। কারণ আজ সে আস্তে আস্তে বুঝতে শুরু করেছে যে- তার পথচলাটাও খুব বেশি সন্তোষজনক নয় তার মহলে।
আপনার জীবনে দুঃখ, কষ্ট নাও থাকতে পারে বা আপনি যেগুলোকে আপনার অপূর্ণতা হিসেবে ভাবছেন সেটা নিছক অপূর্ণতা নয় অন্য কারো কাছে। কারণ এর চেয়ে খারাপ কিছুও হতে পারতো। আপনি হয়তো হাসি-তামাশায় পথ চলতে অভ্যস্ত। তাই বলে কারো দুঃখ, কষ্ট বা আক্ষেপগুলোকে আপনি হাসি-ঠাট্টা করে উড়িয়ে দিবেন এটা বোধ হয় ঠিক না। কারো গুরুতর কোনো সমস্যার বিষয়ের ব্যক্তিটিকে দেখে আপনি সহসাই হেসে ফেললেন এটার কোনো মানে থাকতে পারে না। কেননা আপনার জীবনেও এমন অনেক ঘটনা থাকতে পারে বা আসতে পারে যেটাকে সিন্ডিকেট করে কোনো এক সময় অন্যরাও আপনার সম্মুখপানে আপনার চেয়ে উচ্চ গতিতে হাসতে শুরু করবে। কারণ আপনার স্বভাব-সুলভ হাসিটা একদিন কারো গুরুতর বিষয়টাতেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও বৈষম্য সৃষ্টি করে যে আউটপুট আপনি পেতে চেয়েছিলেন আজ সেই আউটপুট-টাই লোকমুখে বার বার প্রচারিত। যেখানে আপনার সেই আউটপুটটা এখন কাউকে বার বার মিথ্যা বলে ঠেকাতে হচ্ছে।
বিশেষ বলতে ওই ব্যক্তিকেই বুঝাবে যেখানে কোনো একজন ব্যক্তিকে অনেকে স্মরণ করার পরেও সে শুধুমাত্র আপনাকেই স্মরণ করে। অথচ আপনি এমন কারো জন্য সেই ব্যক্তিটাকে ভুলে গেলেন বা আপনি যার জন্য সাময়িকভাবে তার সঙ্গ পরিত্যাগ করলেন সে ব্যক্তিটিও আপনাকে স্মরণ করার আগে তাকেই স্মরণ করেছিল। যদিও সেই ব্যক্তিটার ভালোবাসার মূল্যায়ন আপনার কাছে ওতটুকুই তার কাজে কথা দেওয়া সত্ত্বেও আপনি শেষ পর্যন্ত থাকতে পারলেন না। যেখানে আপনার থাকার কথা ছিলো না সেখানেই আপনাকে থাকতে হলো। কিন্তু আপনার প্রতিটা কাজেই অন্য সবার চেয়ে তার উপস্থিতির হার শতভাগ ছিলো। বিশেষ ভালোবাসা আজ মনে হয় এমনই রূপ ধারণ করতে শুরু করেছে যেখানে পূর্ব-পর, একবার-শতবার কোনো কিছুই আপনার দ্বারে প্রাধান্য পাচ্ছে না।
সচরাচর আপনি যে কাজগুলো করে থাকেন অন্য কারো সংস্পর্শে গেলে ওই কাজগুলো আপনার আর স্মরণে থাকে না। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঐ সচরাচর কাজগুলো আপনারই সৃষ্টি। একটি নির্দিষ্ট সময় হলেই যেখানে আপনার বার বার সময়ের কাঁটার দিকে তাকাতে হয়, আপনার প্রস্থানের সময় হয়ে যায় ঠিক সেই সময়টাতে অন্য কারো উপস্থিতি আপনার বার বার দৃষ্টি দেওয়া সময়ের কাঁটার কথা আর মনে করিয়ে দেয় না।
আপনি যেখানে অন্যের কাজ নিয়ে অহেতুক ব্যস্ত, সেখানে আপনার গুরুতর কাজ নিয়েই অন্যকে ব্যস্ত হতে হচ্ছে। কেউ আপনাকে স্বেচ্ছায় কিছু বললো ভেবে আপনার কাছে হয়তো বর্তমান সময়ে তার কোনো মূল্য নাও থাকতে পারে। কিন্তু এমনও সময় আসতে পারে আপনার কারো প্রতি স্বেচ্ছাচারিতার কোনো মূল্যও আপনি পাবেন না।
কোনো বিষয়ে যখন প্রাইভেসিই অবলম্বন করবেন- তখন সেটা এমনভাবে করা উচিত যাতে ওই প্রাইভেসি বিষয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেউ জানতে না পারে। এমন কোনো প্রাইভেসি অবলম্বন করা উচিত না যেখানে আপনি নিজেই আপনার স্বার্থে এর কিছু অংশ কারো সাথে করলেন।
স্বীয় স্বার্থ পরিহার করে ত্যাগী হওয়ার মানসিকতা নিজের মধ্যে লালন করুন। কেননা- আপনার সাময়িকের ত্যাগগুলোই কোনো একদিন অন্যেরা আপনার এহেন মনোভাবের জন্য তাদের মধ্যে পোষণ করবে। দৃষ্টিভঙ্গি বদলান। কারো প্রতি আপনার কৃত আচরণ তার প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন সেটাই প্রকাশ করে।
এই হচ্ছে আমাদের প্রাত্যহিক পথ চলাগুলো। আমরা সবাই নিখুঁত বলেই দাবী করি আমাদের পথচলার পর্যায়গুলোকে। এমনকি কেউ কিছু বলার আগেই হুংকার করে বলে থাকি- আমার পথচলা প্রশ্নবিদ্ধ নয়।
সর্বোপরি একটা কথাই বলবো- অত্যাবশ্যকীয়তা বলতে কিছুই নেই। সবকিছুই আপনার নিজের কাছে। অত্যাবশ্যকীয় হলো সেটাই- “পাপ ছাড়া চিরস্থায়ী অন্ধকারের অবস্থানকে স্বীকার করে নেওয়া”।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১:০৯
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকে আমার মন ভালো নেই

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



দুঃখের সময়ে নানান মানুষের কথা মনে পড়ে। খুব কাছের মানুষের কথা মনে পড়ে আবার অনেক দূরের মানুষের কথাও মনে পড়ে। রক্তের আপন মানুষের কথা তো মনে পড়েই তবু একদিন কীভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৭ জুনে বিয়ে, অথচ ২২ জুনের সিভিতে ‘অবিবাহিত’? এমপি সাহেবের এই গণিত কে মেলাবে?

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৮



ধরা খাইলেই “দ্বিতীয় বিবি”! কিন্তু ১৭ জুনের বিয়ার পর ২২ জুনের সিভিতে মাইয়া 'আনম্যারিড' থাকে কেমনে?
সাতক্ষীরার এমপি সাবের এই ভণ্ডামির জট ছাড়াইতে পারবেন তো, নাকি এআই (AI) এর ওপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আজ খুশি ভাগ করতে এসেছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০৫



আসসালামু আলাইকুম। শুভ সন্ধ্যা। কেমন আছেন সবাই?

আলহা গত বৃহস্পতিবার আমি প্রমোশন পেয়েছি। অতিরিক্ত পরিচালক (৪র্থ গ্রেড)। খুশির সংবাদ জানাতে দেরি করে ফেলেছি সরি।

আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি 2G এর আমলে ফিরে যেতে চাই।

লিখেছেন ইমরোজ৭৫, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২০


আমি 2G এর আমলে ফিরে যেতে চাই। ইন্টারনেট এর স্পিড খুবই কম। ফেসবুকে কেউ ভাইরাল হতে আসবে না। অল্প লেখায় নিজের মনোভাব ফেসবুকে পোস্ট করবে। কেউ আর পাকনা পাকনা কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×