জানিস,
আজ সকালেও টানা পাঁচ মাইল দৌড়ে এসেছি!
ফুসফুসদুটো যেন লটকে ছিল গলার কাছে-
পাদুটো আর চলছিলনা
আগামীকাল বিকালেও কারাটের ক্লাসে যাব-
শরীরটা আর পারছেনা
মাথার ভেতর হাতুড়ী পেটায় অদৃশ্য কামার,
তবু তোর মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠতেই আপনাআপনি মেরুদণ্ড সোজা হয়ে ওঠে।
কারণ এ শুধু আমার নিজের জন্য নয়, আশেপাশের বোনগুলোর জন্যও।
কোনোদিকে খেয়াল না রেখে আপনমনে মোবাইল টেপে আর হাঁটে যে বোনটি-
রিকশায় উঠে ওড়না সামলাতে স্মরণ থাকেনা যে বোনটির-
ভুল মানুষটিকে ভালোবেসেও তার সাথে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে যে বোনটি-
দিনের পর দিন স্বামীর মার খেয়েও সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে সব সহ্য করে যে বোনটি-
রাতের পর রাত বিছানার চাদরটা আঁকড়ে ধরে ভয়ে কুঁকড়ে থাকে যে বোনটি-
ওদের জন্যও...
ব্যাগের ভেতর পেপার স্প্রের ক্যানটা এখন রেডিই থাকে
সালোয়ারের ভেতরের গোপন পকেটে শান দেয়া দুটা ছুরিও...
এখন যখন দিবালোকে রাস্তা দিয়ে হাঁটি, আমার চোখে সানগ্লাস থাকেনা,
সবকটি ইন্দ্রিয় সতর্ক, সজাগ;
আঙুলের ডগা বেয়ে কি যেন শিরশির করে বেরুতে চায়
উলভরাইনের মত এ যে আমারো প্রতিহিংসার ধারালো নখর!
চোয়াল গ্রানাইটের মত শক্ত
দাঁতে দাঁত খিচে ক্লাস শেষে বাসায় ফিরি।
বাবা-মার স্বস্তির নিঃশ্বাস, যাক- আরেকটা দিন মেয়েটা নিরাপদে বাড়ি ফিরল...
ওদের জন্যও...
রাতে ভালো ঘুম হয়না রে বোন
চোখ বন্ধ করলেই তোর চশমা পরা নিষ্পাপ মুখটা ভেসে ওঠে,
ঘুমিয়ে পড়লেই ঘুমের মাঝে তনু-মিতু-আফসানা-খাদিজা-রিশারা এসে হাজির হয়,
লাইন দিয়ে ওরা দাঁড়িয়ে থাকে হাতিরঝিলের 'পারে
ওরা কেউ কোনো কথা বলেনা
ওদের লাইনটা দীর্ঘ,
সববয়সের সবধরনের মেয়ে
হিজাব পরা মেয়ে, জিন্স পরা মেয়ে, শাড়ি পরা মেয়ে, ফ্রক পরা মেয়ে...
ওদের জন্যও...
আগের মত বন্ধুদের সাথে টিএসসির আড্ডাটা আর জমে উঠেনা রে বোন
এই টিএসসিতেই না একদল পশু এক বৈশাখে তান্ডব ঘটিয়েছিল?
কোথায় যাব? কোথায় গেলে শান্তি মিলবে?
শান্তি নিয়ে পড়াশোনা করি, কত অজস্র থিওরি পড়লাম,
গান্ধীবাদ পড়লাম- অথচ শান্তির কোনো প্র্যাকটিকাল মারপ্যাঁচ বুঝিনা
দেশটা তো গুজরাট হয়ে গেল, সন্ত্রাসবাদ থাবা গুটিয়ে তো নেয়ই-
বরং আরও ছড়িয়ে পড়ছে ক্যান্সারের মতো;
নচিকেতার সেই "তুমি" কবে আসবে,
বলতে পারিস বোন?
পথ চলতে চলতে হঠাৎ থমকে দাড়াই-
কে জানে, এই পিচঢালা নিরীহ পথটার 'পরেই হয়ত কাল কারো সম্ভ্রমহানি হতে চলেছে!
কে জানে, এই ব্যস্ত রাস্তার ওপর দিয়েই হয়ত একটা বাস চলে গেলো এই সেদিনমাত্র-
যার পেছনের সিটে এখনো তোর রক্তের দাগ, কতগুলো জানোয়ারের শুক্রাণু আর
ফোঁটার পর ফোঁটা বেঁচে থাকার হাহাকার লেগে আছে...
ওরা পুরুষ নামের কলঙ্ক নয়, কেননা
পুরুষদের মাঝেও তো তনু-রিশা আছে!
ওরা মানুষ নামের কলঙ্ক
আমার চারপাশে যে কারো মাঝে,
যে কোনো খানে
যেকোনো ফ্রেন্ডলিস্টে
যেকোনো এপার্টমেন্টে
যেকোনো পাড়ায়
যেকোনো গলিতে
যেকোনো টিএসসিতে
যেকোনো ক্যান্টনমেন্টে
যেকোনো পাবলিক বাসে
ওদেরই একটা হয়ত লুকিয়ে আছে...
যতদিন বেঁচে আছি এরপর-
আজ,এখন, ঠিক এই মুহূর্ত থেকে আমি রূপা প্রামাণিকের বোন
৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




