somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শতাধিক রাতের রানীর রাজা তো সহস্রাধিক হওয়ার কথা, তাঁরা কোঁথায়?

০৬ ই আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দ্রোহের কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ লিখেছিলেন, “শরীর বেচি শরীর বেচি, শোনো ভদ্রলোক, রাতের নায়ক যারা, তারাই দিনের বিচারক”। কবি কথাগুলো তার নিজ ভাবনা থেকে লিখেছিলেন। আজকের এই সময়ে আমাদের প্রশ্ন – রাতের রানী শতাধিক। তাদের যোগানদাতা বলেও দু চারজনের কথা শোনা যাচ্ছে। রাতের রাজারা কোথায়?
আমরা বাস করছি একটি চরম দ্বান্দিক সময়ে। যেখানে হ্যাঁ এবং না একসাথে হাত ধরাধরি করে চলে। আমরা একদিকে পতিতালয়ের লাইসেন্স দেই, অন্যদিকে পতিতাবৃত্তিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করি। আমরা একদিকে মদ ক্রয় বিক্রয়ের লাইসেন্স দেই, অন্যদিকে মদ রাখাকে অবৈধ বলি।
সরকার চাইলে দেশে মদকে নিষিদ্ধ করতে পারে আবার প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য উন্মুক্তও করতে পারে। ঠিক একই ভাবে পতিতাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ করে পতিতাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা যেমন করতে পারে অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পতিতাবৃত্তি এবং পতিতালয়ে গমনাগমনকে আইনসিদ্ধও করতে পারে। যে কোন একটা পথ বেছে নিলে তো এত দ্বান্দিকতা এবং রাখঢাকের দরকার পরে না।
প্রশ্ন হল, দেশে মদ ও অবৈধ যৌনাচারের এত প্রয়োজনীয়তা কেন? এ দুটি যদি সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ করা হয়। তাহলে কি দেশ রসাতলে যাবে? যাবে না তো। তাহলে? ক্ষেত্র বিশেষে এর বৈধতা কেন দিতে হবে?

দেশে যতদিন পর্যন্ত মদের আমদানি নিষিদ্ধ না হবে ততদিন পর্যন্ত মদের অবৈধ বেচাকেনা চলতেই থাকবে। কেউ লাইসেন্স নবায়ন করবে না। কেউ অতিরিক্ত কিনবে এটাই তো স্বাভাবিক। যেমন বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘পরী মণির মদ সেবনের একটি লাইসেন্স আমরা পেয়েছি কিন্তু তার মেয়াদ ও আইনসম্মত ছিল না। তা ছাড়া তার বাসা থেকে যে পরিমাণ মদ জব্দ করা হয়েছে তা তার লাইসেন্সে কভার করার কথা নয়।’ bd-pratidin.com
বাবার মদ খাওয়ার লাইসেন্স আছে সে মদ খেয়ে বাড়িতে আসছে ছেলের তো মদ খাওয়ার সাধ জাগবেই। বাবার শিক্ষায় শিক্ষিত বলে কথা! সমস্যা হল তার তো লাইসেন্স নেই সে কি করবে? তার অর্থ আছে, সে অবৈধ ভাবে মদ যোগাড় করবে। বাবার লাম্পট্যের লাইসেন্স আছে, ছেলের তো নেই। কিন্তু ছেলের তো সাধ আছে, অর্থ আছে। কাজেই লাম্পট্যে তার বাধা থাকার কথা নয়।
এখন এই রাজপুত্রদের মদ ও নারীর যোগান দাতার প্রয়োজন হয়ে পড়ল। আর প্রয়োজনই তো সৃষ্টির রূপকার। কাজেই যোগানদাতাও সৃষ্টি হবে সহজেই। এবার আসি আপনারা যাদের রাতের রানী বলে ডাকেন তাদের কথায়। আমাদের এই ভোগ বাদী সমাজব্যবস্থা প্রতিনিয়ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী শ্রেণীর জন্ম দিচ্ছে। আর অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা সর্বদাই মানুষকে নিতি নৈতিকতা বিসর্জনে প্র-ভোক করে। কাজেই অর্থের লোভ আর আলো ঝলমলে দুনিয়ার দিকে খুব সহজেই ঝুঁকে পড়ে মিডিয়া পাড়া থেকে শুরু করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উঠতি তরুণীদের একটা অংশ।

এই তরুণীরা এবং তাদের যোগানদাতা এরা সবাই কিন্তু এক একটি প্রডাক্ট। এই প্রোডাক্টগুলো কারা প্রডিউস করছে? আমরা সেই উৎপাদকের খোজ করছি কি? করছি না। কেন করছি না? কাড়ন হল, এটা এক ধরনের খেলা। আমাদের প্রশাসনের কাজ হল প্রডাক্ট খুঁজে বের করা ও তা নির্মূলের চেষ্টা করা। আর আমাদের সিস্টেমের কাজ হল প্রডাক্ট তৈরির মেশিনারিজের দেখভাল করা। এই সব প্রডাক্টের নির্মাতা বিশেষ কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নয়। এর নির্মাতা আমাদের নৈতিকতা, রাষ্ট্রের পলিসি, ধর্ম, সমাজ ব্যবস্থা ও অর্থ। আর তার সাথে রয়েছে গুটিকয়েক সুবিধাভোগী। এদের সব্বাইকে একত্রে বলা যায় ‘সিস্টেম’। যা এতটাই শক্তিশালী যে, এদের বিরুদ্ধে কারোরই করার কিছুই নেই। একমাত্র রাষ্ট্র যদি কখনো এর নির্মূলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় তবেই সম্ভব এর প্রতিকার। যদিও সেটাও খুব সহজ নয় তা বলাই বাহুল্য।

লক্ষ করে দেখুন, পরি মনিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ ধনী ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবী এবং বড়লোকের সন্তানদের অনৈতিক ভিডিও ধারণ করে তাঁরা নাকি পরে ব্লাকমেল করে অর্থ আদায় করত। হতেই পারে অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ একাধিক অনৈতিক কাজ করে থাকতেই পারে। প্রশ্ন হল যাদের ব্লাকমেল করা হত তাঁদের কি অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হত না তাঁরা মধুকুঞ্জে স্বেচ্ছায় যেতেন? সেই সব রাতের রাজা এবং রাজপুত্রদের হেনস্থা করার দায়েই কি এই নারীদের গ্রেফতার? তাহলে তো সেই ভুক্তভোগী রাতের রাজা এবং রাজপুত্রদের বদনখানি দেখা যেত। দেখা গিয়েছে কি? রাতের রানী যদি শতাধিক রাজা তো সহস্রাধিক হওয়ার কথা। তাঁরা কোথায়? মামলা তো তাদের পক্ষ থেকে হওয়ার কথা। হয়েছে কি? হয়নি। কেন হ্য়নি? এইখানে তাহাদের সম্মানে আঘাত লাগে। মধুকুঞ্জে মুখ ঢেকে যাওয়া যায়, আদালতে তো মুখ ঢেকে রাখা চলবে না।

কাজেই চোর-পুলিশের এই খেলাটা আগেও ছিল, এখনো চলছে, অনন্তকাল ধরে চলতেই থাকবে, আমরা শুধু দেখে যাব আর অবাক হব। একসময় ভুলে যাব। হতাশ হব না, কাড়ন পরিত্রাণের আশা থাকলেই না কেবল হতাশ হওয়ার প্রশ্ন ওঠে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩৯
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্লগার হিসাবে মানুষের প্রতি আপনার কর্তব্য কী?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:৪৩



একজন ব্লগার একজন সাধারন মানুষের চেয়ে আলাদা।
একজন সাধারন মানুষ কাজ করে। সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সে শুধু তার কাজ এবং সংসার নিয়েই ভাবে। দেশ বা সমাজ নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার বড় কন্যা (ছবি ব্লগ) - ০৫

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৫:২৩


ছবি তোলার স্থান : সোনাকান্দা দূর্গ, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ, বাংলাদেশ।
ছবি তোলার তারিখ : ২৪/১২/২০১৭ ইং

আমার বড় কন্যা সাইয়ারা নাজিবা সোহেন বেশশান্ত আর লক্ষী মেয়ে ছিলো ছোট বেলায়, এখনো আছে। দেখতে দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূতের রানীর জন্মদিনে !!

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৫:৫০


ভূতের রানীর জন্ম দিনে !!
(মজা দেই, মজা লই)
নূর মোহাম্মদ নূরু

উৎসর্গঃ ভূতের রানীসহ সকল ভূতদেরকে!

ভূতের রানীর জন্ম দিনে ব্যপক আয়োজন,
পঁচা মাছের কোপ্তা কাবাব মরা মুরগীর রান।
নাতীন জামাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

''আফগানিস্তানে তালেবান" - শাসনের এক বছর । তালেবান শাসনের এক বছরে কি পেল আফগানিস্তান এবং কোথায় ও কেমন আছে এখন !!! ( তালেবানদের কাবুল দখল পরবর্তী ফলোআপ পোস্ট - ৯ )।

লিখেছেন মোহামমদ কামরুজজামান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:২৫


ছবি - আল জাজিরা

আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা এবং পশ্চিমা বিশ্বের অবমাননাকর পশ্চাদপসরণ এবং কাবুল থেকে বিশৃঙ্খল প্রস্থান করার পর তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে ২০২১ সালের ১৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

গায়ে হলুদ নামক অপ্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানের কোন দরকার আছে কি?

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ রাত ৮:২৪


একটি গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে লিনা।

চাটগাঁতে অধিকাংশ বৃহস্পতিবার যন্ত্রনাদায়ক হয়ে ওঠে গায়ে হলুদের জন্য। বিয়েটা সহজ ভাবে হয়ত নেয়া যায় কিন্তু গায়ে হলুদ রিসেপশান বা ওয়ালিমা খুবই অপ্রয়োজনীয় মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×