somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপ্রয়োজনীয় জীব হত্যা এবং আত্মহত্যা পরিহার করুন।

২৯ শে জুলাই, ২০২৩ দুপুর ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি সংগৃহীত

প্রতিদিনের মতই মা তার বাচ্চাদের জন্য খাবার আনতে বেড়িয়েছিল। সদ্যজাত বাচ্চারা সারাটা দিন অপেক্ষা করেছে মা'য়ের জন্য। মা খাবার নিয়ে আসেনি। দিন যায় রাত যায়, মা আর আসে না। বাচ্চারা দিনের পর দিন ক্ষুধা তেষ্টায় ধুকতে ধুকতে এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পরতে লাগল। মা আসেনি। মা আর কোনদিনই আসবে না।
কেন আসেনি মা?
নিশ্চিতই ঐ মা নিজেও হত্যার স্বীকার হয়েছে। যে এই মাকে হত্যা করল, হোক সে কোন জন্তু কিংবা মানুষ। সে একই সাথে ঐ পাখির সাথে হত্যা করল তার এই বাচ্চাদেরও।
আমার এই লেখাটি তাদের উদ্দেশ্যে যারা আত্মহত্যা করেন এবং প্রয়োজনীয়ভাবে জীব হত্যা করেন। আপনারা কি কখনো আপনাদের উপর নির্ভরশীল মানুষগুলোর কথা মনে রাখেন? মৃত্যু তো শুধু জাগতিক হয় না, মানসিক মৃত্যুর হার তার থেকে বরং অনেক বেশী। আমরা প্রত্যেকেই একে অপরের সাথে যুক্ত। কখনো কখনো নির্ভরশীলও বটে।
আপনার মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান এমনকি আত্মীয় স্বজন, বন্ধু এদের প্রত্যেকেরই কোন না কোন দান আপনি কো না কোন সময় গ্রহণ করেছেন। আর সে কারনেই প্রত্যেকের অধিকার আছে আপনার উপর। আর আপনারও দায়িত্ব রয়েছে সকলের প্রতি। কেবলমাত্র না পাওয়ার যন্ত্রণা, কোন একটি ইচ্ছের অপমৃত্যু আপনাকে যখন আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়। তখন আপনিই এই পৃথিবীর সবথেকে বড় স্বার্থপর! একবার ভেবে দেখেছেন?
একটি অপ্রয়োজনীয় হত্যা যেমন জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয় তেমনি আত্মহত্যাও। আর আত্মহত্যা তো হত্যা ব্যতীত অন্য কিছু নয়। যে তার সবথেকে প্রিয় নিজেকেই হত্যা করতে পারে, সে সুযোগ পেলে অন্যকেও হত্যা করতে পারে। একজন আত্মহত্যাকারীর পরিচয় হত্যাকারী বৈ আর কিছু নয়।
একটি হত্যা বা আত্নহত্যার পরে তার স্বজনদের সাথে কি কি হয়। সে তো তা জানে না। সে মরে বেঁচে যায়(!) কিন্তু তার স্বজনরা না মরে বেঁচে থাকে। পালটে যায় অনেক প্রতিশ্রুতিশীল জীবনের গতিপথ। ধ্বংস হয়ে যায় অনেক জীবন ঠিক ঐ পাখির ছানাদের মত। হয়ত জৈবিক নয় মানসিক। সে দায় কার?
তাছাড়াও যে স্রষ্টা আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। তিনি কি কোন কারন ছারাই আপনাকে সৃষ্টি করেছেন? আপনাকে লালন পালন করেছেন? আপনি কি তা জানার চেষ্টা করেছেন? আপনি কি স্রষ্টার উদ্দেশ্য জেনে তা পূরণে সচেষ্ট হয়েছেন? এই পৃথিবী ছেরে আপনি তো আবার সেই স্রষ্টার কাছে ফিরে যাবেন তখন তার কাছে কি জবাব দিবেন, তা ভেবে নিয়েছেন তো? আসলে একজন মানুষের কোন অধিকারই নেই নিজের ক্ষতি করার। কারন সে নিজেই নিজের আমানত। এই আমানতের খেয়ানত করলে যার সম্পদ তার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। জানবেন, আত্নহত্যা মুক্ত করে না, অভিযুক্ত করে। যার থেকে পরিত্রান নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০২৩ দুপুর ১২:৩৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরআন-হাদিস মানতে বলার ওয়াজ একটি ভুল ওয়াজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×