somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনি অন্যের জন্য যা করবেন, তাই পাবেন

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একদিন, এক লোক শীতের সন্ধ্যার মৃদু আলোয় দেখল, এক বৃদ্ধা রাস্তার পাশে আটকা পড়ে আছে। সে বুঝতে পারছিল, বৃদ্ধার সাহায্য দরকার। লোকটি তার গাড়ি থামিয়ে বৃদ্ধার দিকে এগিয়ে গেল।

লোকটির মুখে হাসি থাকা সত্ত্বেও, বৃদ্ধা ভয় পাচ্ছিল। গত এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে কেউ সাহায্যের জন্য থামেনি। লোকটি কি তার ক্ষতি করবে? খুব একটা সুবিধার মনে হচ্ছিলনা তাকে দেখে। দরিদ্র আর ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছিল। লোকটি বুঝতে পারছিল, বৃদ্ধা শীতের মধ্যে ভয়ে কুকড়ে আছে। এই নির্জন শীতের রাতে ভয় পাওয়ারই কথা। লোকটি বৃদ্ধাকে বলল, ‘আমি আপনাকে সাহায্য করতে এসেছি, আপনি বরং গাড়িতে বসে অপেক্ষা করুন, ভিতরে ঠান্ডা কম। আর হ্যাঁ, আমি ব্রায়ান’।

যদিও শুধু গাড়ির চাকা পাংচার হওয়া ছাড়া আর কিছুই হয়নি, কিন্তু বৃদ্ধাকে এখানে আটকে রাখার জন্য তাই যথেষ্ট ছিল। লোকটি খুব দ্রুতই চাকা বদলে ফেলল। ততক্ষণে তার হাত আর জামা কাপড় অনেক ময়লা হয়ে একাকার।

যখন সে চাকার বল্টুগুলো টাইট দিচ্ছিল, বৃদ্ধা জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে তার সাথে কথা শুরু করল। বৃদ্ধা বলল, সে অনেক দূরের এলাকা থেকে অন্য এক জায়গায় যাচ্ছে, আর যাওয়ার পথেই এখানে এই বিপত্তি।

কাজ শেষ হয়ে গেলে, বৃদ্ধা লোকটিকে জিজ্ঞেস করল, তাকে কত পারশ্রমিক দিতে হবে। যা চাইবে বৃদ্ধা তাই দিতে প্রস্তুত। সে যদি সাহায্য না করত, তাহলে এই শীতের রাতে কত কী ভোগান্তিই না হতো। লোকটি তার পারশ্রমিকের ব্যাপারে দ্বিতীয়বার ভাবল না। এটা তার চাকরি ছিল না। এটা নিতান্তই একটু সাহায্য করা, আর সৃষ্টিকর্তা জানেন, সে আগে এমন কতজনের কাছ থেকে সাহায্য নিয়েছে।
সে বৃদ্ধাকে বলল, যদি একান্তই পারশ্রমিক দিতে চাও, তবে এরপর যখন কেউ বিপদে পড়ে তখন তার প্রয়োজনে সাহায্য করো আর ভেবো যে আমাকেই সাহায্য করছ।

লোকটি বৃদ্ধার চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করল। শীতের এই দিনটি তার জন্য একটু হতাশার ছিল, কিন্তু দিন শেষে কিছু করতে পেরে ভালো বোধ করল, আর চাঁদের আলোয় বাড়ির পথ ধরল।

কিছুদূর পর, বৃদ্ধা একটি কফিশপ দেখে থামল। বাকি পথ যাওয়ার আগে সে কিছু খেয়ে শরীরটা একটু গরম করে নিতে চাইল। দোকনটি ছিল খুব ছোট, অনেকটা ডিঙ্গি নৌকার মত। বাইরে দুটো গ্যাস পাম্প। পুরো দৃশ্যই তার কাছে অপরিচিত ঠেকল। দোকানে ঢুকতেই ওয়েট্রেস একটি পরিস্কার তোয়ালে নিয়ে এসে মৃদু হেসে তার ভিজে চুল মুছে দিল। সারাদিন খাটাখাটনি করেও তার মুখের হাসি মুছে যায়নি। বৃদ্ধা দেখল, মেয়েটি কমপক্ষে আট মাসের গর্ভবতী, কিন্তু তার শারীরিক স্বীমাবদ্ধতা তার সেবায়, আন্তরিকতায় এতটুকু বিঘ্ন ঘটাচ্ছেনা। বৃদ্ধা ভেবে অবাক হলো, কিভাবে একজন মানুষ অপরিচিতের জন্য এভাবে করতে পারে। তার ব্রায়ানের কথা মনে পড়ল।

বৃদ্ধার খাওয়া শেষ হলে, সে একশত ডলারের একটি নোট দিল বিল পরিশোধ করার জন্য। ওয়েট্রেস বাকি টাকা নিয়ে আসার জন্য ক্যাশে গেল, ফিরে এসে দেখে বৃদ্ধা সেখানে নেই। সে ভাবল, কোথায় যেতে পারে বৃদ্ধা? তখনি তার চোখে পড়ল, টেবিলে ন্যাপকিনের মধ্যে কিছু লিখা।

বৃদ্ধার লিখা পড়ে তার চোখে পানি চলে আসল, বৃদ্ধা লিখেছে, ‘তুমি আমার কাছে কিছুই পাওনা। আমিও বিপদে ছিলাম। একজন আমাকে সাহায্য করেছে, যেভাবে আমি এখন তোমাকে সাহায্য করছি। যদি তুমি আমাকে সত্যিই ফেরত দিতে চাও, তবে ভালোবাসার এই শিকলটা তোমাতেই শেষ হতে দিওনা’। ন্যাপকিনের নিচে সে একশত ডলারের আরো চারটি নোট দেখতে পেল।

টেবিল পরিস্কার করা বাকি ছিল, লবনের বাটিতে লবন দেওয়া বাকি ছিল, আরো লোকজনকে খাবার সার্ভ করা বাকি ছিল, কিন্তু মেয়েটি সব কাজ রেখে আজ একটু আগেই বাড়িতে চলে গেল। তার কেবলি মনে পড়ছিল টাকাগুলোর কথা আর বৃদ্ধার লিখাগুলো। ভেবে অবাক হলো, বৃদ্ধা কিভাবে জানল, যে তার আর তার স্বামীর জন্য এই কটা টাকা কী ভীষণ দরকার ছিল! সে জানে, তার স্বামী কতটা উদ্বিগ্ন ছিল পরের মাসে তাদের অনাগত সন্তানের আগমণের কথা চিন্তা করে। সে স্বামীর পাশে শুয়ে আলতো করে চুমু খেল। আর কানে কানে ফিসফিস করে বলল, ‘সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে দেখো, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি ব্রায়ান’।

(সংগৃহীত এবং অনূদিত)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:০৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×