somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাম্প্রতিক ধর্ষণঃ কিছু ভাবনা

২৬ শে মে, ২০১৭ সকাল ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শুরুতেই কিছু কথা বলে নেয়া প্রয়োজন।
একঃ অনেকেই মেয়েদের পোশাককে দায়ী করেন ধর্ষণের কারণ হিসেবে, যেটা পুরোই অযৌক্তিক। না হলে ৫-৭ বছরের বাচ্চা মেয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা নয়।
দুইঃ ধর্ষণের পরেই কেউ কেউ পুরুষ জাতিকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করা শুরু করেন, সব পুরুষকেই অনিরাপদ হিসেবে দেখেন, সেটাও অযৌক্তিক। যে ধর্ষক, সেও কোন মায়ের ছেলে, কোন বোনের ভাই। সেক্ষেত্রে, তাকে সঠিক যৌন শিক্ষা, মূল্যবোধের শিক্ষা না দেয়ার দায় আপনার উপরও বর্তায়।
তিনঃ কে দায়ী, আর কার দোষ বেশি – এর কোনটাই ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধের স্বীকৃতি দেয়না। সমাজ থেকে ধর্ষণ বন্ধ করার জন্য ধর্ষক-নামক কীটদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরী।

এবার আসি মূল প্রসঙ্গে।
ধরুণ, আগারগাঁও থেকে শ্যামলী যাওয়ার রাস্তায় খুব ঘনঘন ছিনতাই হয়। কারণ, এরাস্তায় মানুষের যাতায়াত একটু কম। আপনি একা রিকশায় করে যাচ্ছেন। হয়ত একটু অন্যমনস্ক, কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখবেন আপনার হাতের ব্যাগটি নেই। রিকশার পাশ দিয়ে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল থেকে টান দিয়ে নিয়ে গেল চোখের পলকে। হয়ত আপনার দামী ল্যাপ্টপ ছিল ব্যাগে, তা তো গেলই, সাথে খুব দরকারী সব ফাইলপত্রগুলোও। যদি শুধু এটুকু যায়, তবে আপনি সৌভাগ্যবান। যদি আপনার হাতে প্যাঁচানো থাকত সখের ব্যাগখানি, তবে হয়ত ব্যাগের সাথে আপনার জান নিয়েও লাগত টানাটানি। এমন ঘটনা হরহামেশাই শোনা যায়, ‘ছিনতাইকারী রিকশা থেকে টান দেওয়ার ফলে রাস্তায় পড়ে হাত ভেঙ্গেছে, কিংবা মাথা ফেটেছে’ – আরো কত কী।

ঘটনা মুখে মুখে, কিংবা পত্রিকা মারফত খুব দ্রুতই অনেকেই জেনে যায়। প্রচার হয়ে যায়, অমুক রাস্তায় ছিনতাইকারীর উপদ্রব বেশি। প্রতিকার হিসেবে হয়ত আমরা ঐ রাস্তায় চলাচল করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকি, চারদিকে চোখ-কান খোলা রাখি। ঐ রাস্তায় না গিয়ে অন্য রাস্তায় যাই, কিংবা একান্তই দরকার হলে হয়ত সাথে একজন বন্ধুকে নিয়ে যাই। কেউ কেউ হয়ত বলি, দামী জিনিস/ ক্যাশ টাকা নিয়ে রাস্তায় চলাচল করা ঠিক না। কিংবা সাথে থাকলেও সামলে রাখা উচিত।

এমন প্রশ্ন কখনোই করা হয়না – ‘ আমার ল্যাপটপ আমি যেভাবে ইচ্ছে এভাবে রাখব/ কিংবা আমার টাকা আমি অর্ধেক পকেটে আর বাকী অর্ধেক বাইরে রাখব, তাতে কার কী? ছিনতাইকারী কেন সেটা ধরবে?’ কারণ, এ প্রশ্ন অমূলক। ছিনতাই বন্ধের দায়িত্ব পুলিশের, শাস্তির ব্যাবস্থা করবে পুলিশ/প্রসাশন। মূল্যবোধ শিক্ষা দিবে পরিবার, সমাজ, স্কুল-কলেজ। আর আপনার আমার দায়িত্ব, সতর্কতামূলক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা। নিজের দামী জিনিস সামলে রেখে, সাবধাণে চলাচল করা।

ঠিক তেমনি, যারা ধর্ষক, তাদের মূল্যবোধের শিক্ষা দিবে পরিবার, সমাজ। নিয়ন্ত্রনের ব্যাবস্থা করবে পুলিশ। বোনদের বলছি, জীবন আপনার, সম্মান আপনার। নিজের মূল্যবান জীবন, সম্মান রক্ষা করে চলার জন্য যেসব সতর্কতামূলক ব্যাবস্থা নেয়া দরকার, সেগুলো নিশ্চিত করার দায়িত্বও আপনার। যেমন ধরুণ, আপনার প্রেমিকের বিয়ে করার মিথ্যে প্রলোভনে পড়ে তার সাথে নির্জনে কোথাও যাবেন কি যাবেন না, সেটা সতর্কতার সাথেই স্বিদ্ধান্ত নিতে হবে। ধর্ষককে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে, লোকজন রাস্তায় মিছিল করবে, ফেসবুকে ঝড় উঠবে আপনার প্রতি সহমর্মীতা জানিয়ে, তাতে করে আপনার যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল, সেটা কি পূরণ হবে?

সবাই সচেতন হলে, ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধ হয়তো রাতারাতি বন্ধ হয়ে যাবেনা, তবে অনেকাংশেই কমে আসবে নিশ্চিত।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০১৭ সকাল ১১:৫৫
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×