মানিকগঞ্জের মেয়ে রাফেজা। অবহেলা-বঞ্চনার মধ্য দিয়ে বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান হিসেবে জন্ম নিয়েছিল সে। দারিদ্রতা আর ধর্মের দোহায় দিয়ে পড়ালেখা তো হয়নি তার বরং অপুষ্টির কারণে রোগাটে এ মেয়েটি ১৩ বছর বয়সেই বিয়েতে বাধ্য হয় সে। আজ তার বয়স ১৫ বছর। দু’টি কন্যা সন্তানের জননী। এক দিকে অভাব অন্যদিকে কন্যা সন্তানের জন্মদান সব মিলিয়ে পরিবার সমাজের ঘৃন্য নির্যাতন আর বঞ্চনার মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে দুর্ভাগা এ দুই শিশুসহ রাফেজার প্রতিটি মুর্হুত।
অবহেলা-বঞ্চনার মধ্য দিয়েই কন্যা শিশুর জন্ম হয়। অপুষ্টি, নির্যাতন,পাচার এবং প্রতিটি মানবিক অধিকারের ক্ষেত্রে বঞ্চনা এবং বৈষম্য মেয়েদের বিকাশের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস' করে। দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় তিন কোটি কন্যাশিশু। লিঙ্গ বৈষম্যে এবং দারিদ্রের কারণে খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম, বিবাহ, সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তাসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি মুর্হুতে এই বিশাল জনগোষ্ঠী নারকম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
দরিদ্র পরিবারের কন্যারা যে পুষ্টিহীনতা, নিরক্ষরতা, পারিবারিক নির্যাতন এবং বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে প্রতিটি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সে বিষয়টি লেখার ভিতর তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।। একটি পুষ্টিহীন কন্যাশিশু কিশোরী অবস্থায় আর একটি পুষ্টিহীন কন্যাশিশুর জন্ম দিচ্ছে। এভাবে আমরা অপুষ্ঠির দুষ্টচক্রে আর্বতিত হচ্ছি। অন্যদিকে এই পুষ্টিহীন কন্যাশিশু জন্ম দিয়ে যাবতীয় দায়ভার কাঁধে নিয়ে নানা প্রকার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে ‘মা’ কন্যাশিশুটি
যশোরের অভয়নগরের দেয়াপাড়াগ্রামের মেয়ে বেদানা বেগম। দরিদ্র পরিবারের এই মেয়েটির ১৪ বছর বয়সেই বিয়ে হয় এই গ্রামের ইসমাইল লস্কারের সাথে। ভাগ্য উন্নয়নে ছেলে সন্তানের প্রচন্ড আশা নিয়ে পরপর চারটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় সে। কন্যা সন্তান বলে অবহেলা-বঞ্চনায় বোঝা হিসেবে চলতে থাকে তাদের জীবন। অবশেষে বোঝার সমাধান বিয়ে হিসেবে নাদিরা ও রাবেয়ায় বিয়ে হয় ১৪ বছরে। তারা ছয় মাসের মাথায় হয় সন্তান সম্ভাবা। নিজেদের বঞ্চনার চিত্র সন্তানের উপর দেখতে চায়না তারা। কিন্তু বের হওয়ার কোন উপায় তারা খুঁজে তারা পায়না। রোকেয়ায় বয়স নয় আর রাজিয়ার আট। বেদানার ও তার স্বামীর আশা একদিন পূর্ণ হয়। ভুমিষ্ট হয় এক ছেলে সন্তান। কিন্তু অল্প বয়সে বিয়ে,বার বার সন্তান নেওয়ার চাপ,দারিদ্রতা,অপুষ্টি আর চিকিৎসার অভাবে আর পৃথিবিতে থাকা হলনা তার। তিনি চলে গেলেন কিন্তু জন্ম দিয়ে গেলেন আরও চার বেদানার।
সুবার বয়স ৭ আর সমাইয়া ১১ মাসের ছোট শিশু। এই দুই কন্যা সন্তান নিয়ে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পাপন বিক্রি করে সুমার সংগ্রামী জীবন। তার আশা মেয়েদের স্কুলে পাঠানো,প্রতিদিন ঠিকমত খেতে দেওয়া, মেয়ে সন্তান বলে আশেপাশের লোকজনের কটুক্তিকে সে পাত্তা দেয় না। নিজের এ স্বপ্নকে মূল্যায়ন করে না স্বামী জুয়েল। সারা দিন শাহবাগ মোড়ে দাড়িয়ে ১০০-১৫০টাকা উপার্জন করে থাকা খাওয়ার খরচ মেটাতেই পারেনা সে। তার পরও সে স্বপ্ন দেখে মেযে দুইটিকে সুন্দর মানুষ করে গড়ে তুলতে। পরিবার অস্বচ্ছল হওয়ায় অনাহারে অর্ধাহারে চলেছে তার জীবন,স্বপ্ন ছিল লেখাপড়ার শেখার। পরিবারের বোঝা বলে অল্প বয়সে বিয়ে হয় তার। নিজে ভাল কিছু না হওয়ার বেদনা থেকে সুমা প্রচন্ড জিদ নিয়ে বঞ্চনার এ ধারা ভাঙ্গতে চায়।
শুধু বেদানা বা সুমা নয় এরকমভাবে দরিদ্র্র্র মেয়েদের পশ্চাৎপদতার চিত্র দেশের সর্বত্র। পুষ্টিহীনতা, নিরক্ষরতা, পারিবারিক নির্যাতন এবং বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে একটি পর্ুষ্টিহীন কন্যাশিশু কিশোরী অবস্থায় আর একটি পুষ্টিহীন কন্যাশিশুর জন্ম দিচ্ছে। এভাবে আমরা অপুষ্ঠির দুষ্টচক্রে আর্বতিত হচ্ছি। অন্যদিকে এই পুষ্টিহীন কন্যাশিশু জন্ম দিয়ে যাবতীয় দায়ভার কাঁধে নিয়ে নানা প্রকার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে ‘মা’ কন্যাশিশুটি।
আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোতে নারীর প্রতি বিরাজমান বৈষম্যমূলক সংস্কৃতি,রীতি-নীতি,বিশ্বাস ও মূল্যবোধই তাদের প্রাপ্য অধিকার সমুহ অর্জনের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। এসব বৈষম্য,অবহেলা ও কুসংস্কারের চর্চা শৈশব থেকে শুরু হয়ে যায় এবং চলতে থাকে সারা জীবন ধরে। এমন কি আজকাল প্রযুক্তির সহায়তায় কিছু নিষ্ঠুর মানুষ গর্ভাবস্থায় কন্যাশিশুর ভ্রন চিহ্নিত করে মেরে ফেলে। বেঁচে যাওয়া কন্যাশিশুদের অনেকেই অপুষ্টি,শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া,বাল্যবিবাহ, কম বয়সে মা হওয়া,শারীরিক মানসিক নির্যাতন ইত্যাদি নানামুখি সংকটের মুখোমুখি হয়। ফলে তাদের জীবন সম্পূর্নরুপে বিকশিত হতে পারেনা এবং একসময় সমাজের বোঝা হয়ে পড়ে। অথচ ছেলে সন্তানের জন্মে কত উৎসব,আনন্দ কারণ সমাজের বিশ্বাস ছেলে শিশুরাই সমাজের একমাত্র উর্পাজনক্ষম ব্যক্তি হবে।
দরিদ্রের কারণে বাংলাদেশে শতকরা এক-তৃতীয়াংশ শিশু অপুষ্ঠি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে যার ভিতর মারাত্বক অপুষ্টির শিকার কন্যাশিশু ৯ ভাগ যেখানে ছেলে শিশু ৬ ভাগ।
অপুষ্টির শিকার নারী স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজনের সন্তানের জন্ম দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, স্বল্প ওজন নিয়ে যেসব শিশু জন্মগ্রহণ করে পরিণত বয়সেও তাদের মধ্যে হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের মত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। বিশ্ব ব্যাংককের তথ্য মতে অপুষ্ঠির কারণে বাংলাদেশকে প্রতি বছর আনুমানিক ১ বিলিয়ন ডলার সমতুল্য ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। ।
অর্থনৈতিক অবদান রাখতে পারেনা তাই অভিভাবক ছেলেশিশুদের পড়ালেখার প্রতি বেশি যত্নবান হয় ফলে কন্যাশিশু গৃহস'লির কাজ করে, পরিবারে অর্থনৈতিক টানাপড়েন হলে পুত্র সন্তানের পড়ালেখা নিশ্চিত হলেও কন্যাশিশুর পড়ালেখা থাকে বন্ধ। জীবনের শুরুতে মেয়েশিশুরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ ছেলেদের সমানই পেয়ে থাকে। পরবর্তীতে মাধ্যমিক, মহাবিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চ শিক্ষার স-রে তাদের সংখ্যা ক্রমে কমতে থাকে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির এক বছররের মাথায় এক-চতুর্থাংশ ঝড়ে পড়ছে। চতুর্থ শ্রেণী পর্যন' এ ঝড়ে পড়ার হার ১৫-২০% তে অব্যাহত থাকে। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত এ হার ১০%। প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলেদের ভর্তির হার যেখানে ৮১% সেখানে মেয়েদের হার ৭৬%। বাংলাদেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের ঝরে পড়ার হার ছেলেদের ঝরে পড়ার হার ছেলেদের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। দারিদ্র পরিবারে এ সংখ্যা আরও প্রকট। মেয়েদের স্কুলে না যাওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। বাল্যবিবাহ এর একটি বড় কারণ। শিক্ষার ব্যয় বহনে অভিভাবকদের অক্ষমতাও আরেকটি কারন।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) এক হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে নারীদের গড় বিবাহের বয়স ১৬ দশমিক ৯ বছর। বিবাহিত এই নারীদের ৬০ ভাগ ১৯ বছর বয়সের পূর্বেই প্রথম সন্তানের মা হয়। অপরিণত বয়সে গর্ভ ধারণ এবং প্রসব করা এ সকল শিশুর প্রায় ৮০ ভাগ অপুষ্ট, যার একটি বড় অংশ অকালেই ঝরে পড়ে। ইউনিসেফ এর তথ্য মোতাবেক, কন্যাশিশুর খাদ্য ও পুষ্টির প্রতি অবহেলার কারণে কিশোরদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে কিশোরীরা যে সকল রোগে ভুগছে তা হলো-বাতজ্বর, সাধারণ জ্বর, আমাশয় এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা। ১৩-১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের অর্ধেকের বেশি স্বাভাবিকের তুলানায় কৃশ। পরবর্তীতে এরাই ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতির কারণে অধিক সময় অসুস' থাকে, গর্ভাবস্থায় মৃত্যু ঘটে এবং কর্মক্ষমতা কমে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আমাদের দেশে ২০ বছর বয়সী বা তার উর্ধ্বে নারীদের তুলনায় ১৮ বছর বয়সের কম প্রসূতিদের মৃত্যুর সম্ভবনা প্রায় ২-৫ গুণ বেশি। ইউনিসেফ, বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য আনর্-জাতিক সংস্থার মতে ক্ষুধাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দৈনিক ৬০০-৭০০ যার অধিকাংশই কন্যা শিশু। শিশু জন্মকালীন সময়ে মাযের চিকিৎসা সঠিকভাবে না করলে ফিস্টুলা রোগ হয়। পারিবারিক পর্যায়ে কন্যা ও নারী সকল কাজ কর্ম অংশগ্রহণ করে কিন' সাংসারিক বিষয়ে মতামত গঠন আলোচনা ভালমন্দ নিয়মনীতি ইত্যাদি বিষয়ে নারীর কোন মতামত গ্রহণ করা হয় না। ১-৪ বছরের শিশুদেও ক্ষেত্রে ছেলে শিশুদেও চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি মেয়ে শিশু পুষ্টিহীনতায় ভোগে। পাঁচ বছরের কম বয়সী মেয়েরা ছেলের চেয়ে ১১ শতাংশ কম ক্যালরী খাদ্য পায়।
বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলেরা তাদের পছন্দ অনুসারে বিয়ে করলেও মেয়েদের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়। বিশ্ব উন্নয়ন রির্পোট ২০০৭ এ বলা হয়েছে বাংলাদেশের মাত্র চার শতাংশ নারী বিয়ের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব মতামতের প্রাধান্য পায়। স্ত্রী মারা গেলে বা স্ত্রীকে তালাক দিয়ে পুরুষ নির্বিধায় বিয়ে করতে পারে কিন' স্ত্রী বিধবা হলে বা তালাক প্রাপ্তা হলে তার বিয়ের উদ্দেশ্যকে সমালোচনা করা হয়। ইউনিসেফ-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১০-১৯ বছর বয়সী কিশোরীদেও মধ্য শতকরা ৬৭ ভাগই বিবাহিত। বাল্য বিবাহের পরিণতি অপ্রাপ্তবয়স্ক মাতৃত্ব। মাতৃমৃত্যুর সংখ্যা বাংলাদেশে প্রতি লাখে ৩৬০ জন । বাল্যবিবাহ কন্যাশিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে মারাত্বকভাবে ব্যাহত করে এবং আইনগতভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও ক্ষেত্রে বিশেষে এ হার ৬০%। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের প্রবণতা ও হার উন্নয়নশীল দেশেগুলোর মাঝে সবচেয়ে বেশি শতকরা ৬৫ ভাগ। শতকরা ৫০ ভাগ কিশোরী মেয়ে অবিবাহিত।
মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদরে ২০০৬ এর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন- ৬ মাসে মোট ৩,৪১৭ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর ভিতর ধর্ষনের শিকার ২৬৮ জন যার ১৩৪ জন কন্যাশিশু। জাতিসংঘের তথ্য মতে, প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ওপর তার পুরুষ সঙ্গীর শারীরিক নিরাতনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স'ান বিশ্বে দ্বিতীয়। বিবাহিত নারীদের শতকরা ৬০ ভাগ স্বামীর হাতে মার খায়।
পরিবারে পুরুষের চিকিৎসা সাধ্যমত করা হয় অথচ নারীদের ক্ষেত্রে দেখানো হয় অবহেলা এবং উদাসীনতা। গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের যথেষ্ট চিকিৎসা হয় না। জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইউষ্টিটিউটের এক তথ্য মতে, এদেশের বিবাহিত নারীদের শতকরা ৮৯ নারী যেকোন রোগ সম্পর্কে অঙ্গ। ১৫-১৯ বছররে মেয়েদের ৯৫ ভাগ মেয়েদের এইডস সম্পর্কে কোন স্পষ্ট থারণা নেই।
অথচ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানের দ্বিতীয়ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মুলনীতি সমূহের ১০নং ধারায় বলা হয়েছে জাতীয় জীবনের সর্বস-রে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চত করিবার ব্যবস'া গ্রহণ করা হবে। ধারা ১৮ (২)-এ রাষ্ট্র ও গণজীবণের সর্বস-রে নারী পুরষের সমান অধিকার লাভ করিবেন। ধারা ২৮ (৪) এ বলা হয়েছে নারী বা শিশুদের অনুকুলে কিংবা নারগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদে কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।
আনর্-জাতিক শিশুঅধিকার সদন-৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে রাষ্ট্র শিশুর জীবন রক্ষা ও পূর্ণ বিকাশে সকল প্রকার দায়িত্ব পালন করবে। নারীর প্রতি বিরাজমান সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপের গুরুত্বপূর্ণ দলিল সিডও। এই সনদের ১৬ টির ধারা নারী-পুরুষের সমতার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালের ৬ নভেম্বরে অনুমোদন করে এ সদন। চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনে ( বেইজিং,১৯৯৫) নারী উন্নয়ননের পক্ষে ১২ টির বিষয়ের অন্যতম ইস্যু ছিল কন্যাশিশুর অধিকার। বাংলাদেশ এসব কর্মপরিকল্পনা গ্রহনে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। ১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর জাতিসংঘের শিশু অধিকার সদন ঘোষিত হয় যেখানে ১৯৯০ এর আগষ্টে বাংলাদেশ সদন বাস-বায়নে অঙ্গীকারবদ্দ হয়।
পরিবার,রাষ্ট্র,সমাজ বিরাজমান বাস-বিকতা দরিদ্রপরিবারের মেয়েদের অধিকার সুরক্ষার পক্ষে মোটে অনুকুলে নয়। বঞ্চনা,অবহেলা নিগ্রহ ও অপুষ্টি ইত্যাদি কারণে নারীর পশ্চাৎপদতা আমাদের বংশপরস্পরায় টিকে থাকছে। নারীর শারীরিক ও মানসিকভাবে বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জাতি নারীদের উৎপাদনশীলতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব কারণে বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে আমাদের এই নারী ও কন্যাশিশুরা। আমরা বের হতে পারছি না এই দুষ্টচক্র থেকে। এ বৈষম্য নিরসনে পুরুষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি,রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়াজন রয়েছে। আগামী দিনের বাংলাদেশকে যদি আমরা আত্বর্নিভরশীল, মর্যাদাবান, সুখী, সমৃদ্ধ দেখতে চাই তবে নারীর প্রতি সব বৈষম্য, অবহেলা নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


