somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

একটি মিসকল
আমি কিন্তু কেউ না। সময়ে অসময়ে পাওয়া কতগুলো মিসকল শুধু। যে মিসকল হয়তো আপনার কাছের কেউ দিয়েছিল, কিংবা আপনার অপরিচিত। ভালো থাকুক আমার শত্রুরা আর সুস্থ থাকুক আমার প্রিয়জনেরা। - একটি মিসকল

সুইসাইড নোট

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৩:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক গুলো বই পড়ার বাকি ছিল, "এ্যাভেঞ্জার্স এ্যান্ড গেইম" মুভিটাও দেখার ইচ্ছা ছিল। অনেক কথা বলার থাকলেও বলা হয়নি কখনোই। না বলাই থাকলো কিছু কথা.. তাতেই মঙ্গল হয়তো সবার। আচ্ছা নিজেকে মেরে ফেলাটা কি এতোই সহজ সবার জন্য? একটা কারনও থাকে না বাঁচার তাগিদে? হয়তোবা না, থাকলে আমি এসব কিছু লিখতাম না। কিভাবে আত্মহত্যা করলে কষ্ট বেশী হয়? গলায় ফাঁসি দিলে? নাকি রক্ত নালী ব্লেড দিয়ে কেঁটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে? ঘুমের ট্যাবলেট খেলে মরতে কষ্ট হয়? মনে হয় অনেক বেশী কষ্ট হয় তখন, বাঁচার একটু ইচ্ছা জাগে কখনো। তখন বমি করার বৃথা চেষ্টায় মগ্ন হয়ে যায় মানুষ, কখনো আবার হাসপাতালে যেতেও ইচ্ছা হয়। কিন্তু লোক-লজ্জার ভয়ে হয়তো যায়না কেউ। যাদের মনোবল বেশি তারা হয়তো যায়। আচ্ছা কিভাবে মরা সহজ? ট্রেনের নিচে কাঁটা পরে? নাকি মহা-সড়কে কোন গাড়ীর নিচে পরে? নাকি বিশাল কোন অট্টালিকার উপর থেকে ঝাঁপ দিলে? কিংবা সাঁতার না জেনে পুকুরে/নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে?


আচ্ছা মৃত্যুর পরে কি আছে? বেঁচে থাকলেও যে ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে কিংবা বর্তমান থেকে ভালো থাকবো এর কোন প্রমান আছে কি আদৌ? বেঁচে থেকেও কারো কষ্টের কারন হওয়ার কি দরকার? কারো মুখেইতো হাঁসি ফোঁটাতে পারিনি... আচ্ছা অনেকেই বলবে আমাকে যে আমার বাবা-মা'র কথা চিন্তা করতে, আমি মারা গেলে সন্তানহীন তারা কেমন অনুভব করবে। তাদের কতটা খারাপ লাগবে। তাদেরকেই বলছি, আমার কেউই নাই। আমি একটা "ব্রোকেন ফ্যামিলি"এর সন্তান। বাবা-মায়ের ভালোবাসার ফসল না আমি, আমি একটা কম্প্রোমাইজের ফসল। আমি একা না, আমার ছোট ভাই একটা সেও। বাবা-মা দু'জনই নিজেদের মত করে নিজেরা সুখেই আছে। আচ্ছা ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তানদের কাছে কোন নরমাল ফ্যামিলি তাদের সন্তানের বিয়ে দেয় না কেন? খুব ভালো বন্ধু গুলোও দূরে চলে যায় কেন সব কিছু জানার পরে? আচ্ছা আমি মাথা উঁচু করে কারো সামনে কথা বলতে পারি না কেন? নিষিদ্ধ পল্লীতে আমি নেহায়েত একটা দেহ ভাড়া করতাম কথা বলার জন্য। ঘন্টা-দুয়েকের জন্য মনে হতো কেউ আমাকে শুনছে, কখনো কখনো আমিও শুনতাম তার কথা। শারীরিক কোন মোহ্ আমার ছিল না তাদের প্রতি। তবে আর দশজনের মতন আমার পুরুষত্বের প্রকাশ আমি টাকায় করিনি। ভালোবেসে ছিলাম এক মানবীকে, পাইনি। ভালোবাসাটা ছিল একতরফা। ঘেণ্যা লাগে নিজের মুখটা আয়নায় দেখতে। নিজেকে কখনো জংলী মনে হয়, ভয় পাই আমি সেই বুনো শুয়োরটার মতন। কেউ হয়তো আমাকে ভেঙ্গে ফেলতে চাইবে। তাই আলাদা হয়েই থাকি সবার কাছ থেকে। একা থাকাটাই আমার জন্য চরম তৃপ্তির। কিন্তু এখন সেই চরম তৃপ্তিটাই আমার মৃত্যুর কারন হয়ে যাচ্ছে। আমি আটকে রাখতে পারছি না। নিজেকে সামলে নিতে প্রচন্ড হিমসিম খাচ্ছি আমি। পারছি না, না কেউ আমাকে বোঝার চেষ্টা করেছে, না আমি কাউকে বোঝার চেষ্টা করছি। বেঁচে থাকার জন্য যে একটা কারন প্রয়োজন। সে কারন আমার নেই।


এক সময় প্রচুর নেশা করতাম, ফেন্সিডিল, মদ, গাঁজা প্রতিদিন খেতাম। রিহ্যাব যাইনি, একা একাই নিজেকে সামলে নিয়েছি। সিগারেট ছাড়া কিছুই খাইনা এখন, শুধু মাঝে মধ্যে ৫/৬ প্যাক মদ খাই টেষ্টটা জিহ্বাকে মনে করিয়ে দেবার জন্য। তাও বছরে ২/১বার। কেউই পাশে থাকে নি, আর আমি থাকতেও দেইনি কাউকেই। আমি চাইনি কেউ থাকুক, কারো করুনার পাত্র হতে আমি বরাবরই নারাজ। আমার হজম হয়না করুনা বেপারটা। একা থাকাটাই আমার জন্য ভালো, অন্তত আমার মতন জংলী এই অমানুষের জন্য। আমি অনেক দূর্বল চিত্ত্বের মানুষ। পেছন ফিরে তাকালে ২৬ দেখি। কিন্তু তবুও কেন যেন আমি অনেক বেশি ক্লান্ত হয়ে গেছি। অনেক বেশি একা হয়ে গেছি। আর এইভাবে তিলে তিলে মরার চেয়ে মরে যাওয়াই ঢের ভালো নয় কি?

আমার মৃত্যুর জন্য আমি নিজেই দায়ী সম্পূর্নরূপে, আর দায়ী একান্তই আমার প্রতিটা অব্যাক্ত মুহূর্তগুলো।


আমি সেই,
অবাক
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৩:১৮
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুবোধকে আমরা কি খুব দ্রুত ‘ব্র্যান্ড’ বানিয়ে ফেলছি?

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০১




ঢাকার দেয়ালে একসময় হঠাৎ করেই দেখা দিত একজন মানুষ। নাম তার সুবোধ। পাশে লেখা থাকত ‘হবেকি?’

কে এঁকেছে, কেন এঁকেছে, আবার কোথায় আঁকবে—কেউ জানত না। ওই না-জানাটাই ছিল শিল্পের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি শোক সংবাদ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:০৯



পেটের দায়ে সপরিবার নীলফামারি থেকে কুমিল্লা শহরে এসে,
ব্যাটারি চালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মোঃ শরিফুল ইসলাম;
তিনি এখন মরহুম! স্ত্রী ও ২ কন্যা নিয়ে ছিলেন কোনোরকমে বেঁচেবর্তে।

গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব বিষয়ক ভাবনা

লিখেছেন করুণাধারা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩



সংখ্যাওয়ালা কোনো লেখা দেখলে হিসাব ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা আমার অভ্যাস। ইদানিং বিভিন্ন রকম সংখ্যাওয়ালা কিছু বিজ্ঞাপন সামনে আসছে, এগুলো ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে যেসব সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুনাফেকি নাকি Diplomatic situationship?

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০


গত শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×