ছোটবেলাতে পুলিশ দেখে অনেক ভয় পেতাম। এজন্য ছোট থাকতে পুলিশ হওয়ার খুব ইচ্ছা হত। তার কিছুদিন পর বাসের ড্রাইভার হইতে খুব ইচ্ছা হত। কারণ ভাবতাম এতবড় একটা জিনিস একজন মানুষ কিভাবে চালাতে পারে ? নিশ্চই সে অনেক শক্তির মালিক। কিন্তু প্লেন দেখার পর থেকে ফাইনাল ডিসিশান নিলাম যে, নাহ পাইলট ই হব! তারপর অবশ্য একবার বাদামআলাও হইতে মন চাইছিলো, মাগার বাদাম এর খোসা ছাড়াইতে আমার বড়ই বিরক্ত লাগে। তাই এ প্ল্যান ও বাদ। ক্লাস ফোর এ থাকতে একদিন আব্বুর সাথে পদ্মার পাড়ে আব্বুর সাইট এ গিয়েছিলাম। বাংলাদেশের একজন এ ক্লাস ঠিকাদার সেই সাইট এর ঠিকাদার ছিলেন, তাই সব রকমের আধুনিক যন্ত্রপাতি আর উন্নত কলাকৌশল এর সমাহার দেখেছিলাম সেইখানে। সেই দিনের পর থেকে কলেজে ভর্তি হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত আমার একমাত্র লক্ষ ছিল ইন্জিনিয়ার হওয়া এবং সেটা অবশ্যই সিভিল ইন্জিনিয়ার। কিন্তু কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই হঠাৎ করে কেমন জানি ভবঘুরে মনে হচ্ছিল নিজেকে। কিছুতেই মন বসাতে পারছিলাম না পড়াতে। তারপর অবশ্য টেনেটুনে এইচ.এস.সি. তে এ প্লাস পেলেও ইন্জিনিয়ারিং ভার্সিটি তে চান্স পেলাম না।
আমি যে চেষ্টা করিনি তা নয়, কিন্তু আমি বুঝতেই পারিনি কি পড়ব আর কি পড়ব না!!! কেন যে বুঝতে পারিনি সেই প্রশ্নটার জবাবই আমি এখনও পেলাম না, জানিনা আদৌ পাব কি না!
তাহলে কি শুধু উপযুক্ত সহযোগিতার অভাবে আর পিঁপড়া সমান প্রতিযোগীর অংশগ্রহনের কারণে আমার জীবনের লক্ষে আমি পৌঁছতে পারবো না!!!
জানিনা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে? সামনের পথে আমার মত আরও কত হতভাগা যে দেখতে পাব, খোদা ই জানেন। তবে আশা রাখি এ দেশ একদিন বদলাবেই এবং সেই সাথে এই ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থাও...।
এটিকে শুধু এক হতাশাগ্রস্তের বিলাপ মনে করে অবহেলা করবেন না। জাতির শিক্ষা ব্যবস্থা যে কতটা ভঙ্গুর আমরা তা আমাদের এইচ.এস.সি. পরীক্ষার রেজাল্ট এবং ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল এর তুলনা করলেই দেখতে পাবো।
(এটি আমার লেখা দ্বিতীয় পোস্ট। নতুন লিখছি, তাই আপনাদের পরামর্শ এবং মন্তব্য আমাকে সাহস এবং প্রেরণা যোগাবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৪:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



