somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেঁচে থাক বন্ধুত

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনে চলার পথে যাকে প্রতিনিয়ত উপলব্ধি করেন, সে হচ্ছে বন্ধু। বন্ধুহীন আপনার প্রতিটি মুহূর্ত, আপনার হাসি-আনন্দ, আড্ডা, গালগল্প সবই ফিকে হয়ে যায়। মাঝে মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিতেও কাছের বন্ধুটি অনেক দূরে সরে যায়! অপূর্ণতার তকমা গায়ে মেখে মুখ থুবড়ে পড়তে পড়তে তখন এগিয়ে যায় সম্পর্ক। শুধু বন্ধুত্ব নয়, পৃথিবীর সব সম্পর্কই তখন ফিকে হয়ে যায়।
বলি, মধুর এবং পবিত্র ও স্বার্থহীন এই সম্পর্কটাকে টিকিয়ে রাখবেন কীভাবে; আজ সেই বুদ্ধির মুখোমুখি হই, চলুন_
ূ ভালো বন্ধু পেতে সবার আগে প্রয়োজন ভালো বন্ধু হওয়া। বিপদে বন্ধুর পাশে থাকা, তার বিশ্বস্ত হওয়া, ভালো পরামর্শ দেওয়া। সর্বোপরি তার ভুলগুলোকে ধরিয়ে দেওয়া এবং সঠিক পথে ফিরে আসতে সহযোগিতা করা।
ূ মনে রাখবেন, আপনার বন্ধুত্ব শব্দটির সঙ্গে মিশে আছে শ্রদ্ধা আর জগতের সব ভালোবাসা। জানেনই তো, দুনিয়ার সব মানুষই চিন্তা, ধ্যান-ধারণা, পছন্দ-অপছন্দের দিক থেকে স্বাধীন ও একে অন্যের চেয়ে ভিন্ন। তাই বন্ধুর উচিত পরস্পরের মতামতের প্রতি সম্মান দেখানো।
ূ সবসময় মনে রাখবেন যে, উত্তম বক্তা হওয়ার চেয়ে উত্তম শ্রোতা হওয়া জরুরি। এজন্য আপনার গভীর মনোযোগ আবশ্যক। একের প্রতি অন্যের মনোযোগ বন্ধুত্বকে আরও গভীরে নিয়ে যেতে পারে।
ূ শেয়ারিং বন্ধুত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কথোপকথনের ফলে একে অন্যকে অনেক বেশি বুঝতে সক্ষম হয়। তবে একটা ব্যাপার মনে রাখা উচিত, যত কাছের বন্ধুই হোক না কেন, সব কথাই যে তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই।
ূ আপনার কাজের ভার কিন্তু আপনাকেই বইতে হবে। বন্ধুরাও যে বয়ে বেড়ায় না, তা ঠিক নয়! তবে কোন বন্ধু কেমন এবং কী ধরনের ভার বয়ে বেড়াতে পারবে; সেটি আপনাকেই মেধা খাটিয়ে বের করতে হবে। তারপর তাকে তার যথার্থ বোঝাটা বুঝিয়ে দিন!
ূ গ্রুপ ফ্রেন্ডশিপের ক্ষেত্রে যদি একজনের সঙ্গে অন্য এক বন্ধুর মনোমালিন্য হয় সে ক্ষেত্রে বাকি সদস্যদের দায়িত্ব দু'জনের মধ্যে সমঝোতা তৈরি করা। এ ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব বিরূপ প্রভাব ফেলে।
ূ পরিবারের কেউ যে আপনার বন্ধু হতে পারে না_ এমন বিরূপ ধারণা অনেকেই ঝেড়ে ফেলেছেন। এটা খুবই ভালো দিক। আসলে পরিবারের কারও সঙ্গে যদি আপনার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে তবে নিজের পায়ের তলায় সবসময় মাটি খুঁজে পাবেন!
ূ তা ছাড়া বন্ধু হতে পারে যে কেউ-ই। কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠলে কে কী সেটা আর মাথায় থাকে না। না থাকাটাই কিন্তু বন্ধুত্বের কাজ। তাই বলে বন্ধুর প্রতি আপনার দায়বদ্ধতা থাকবে না; তা হতে পারে না। তাকে আপনি সবসময় প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করুন। কিছু বোঝাতে চাইলে তার মতো করে বুঝিয়ে বলুন। এতে আপনাদের সম্পর্কের ভিতটা আরও মজবুত হবে।
ূ বয়সের ব্যবধানও অনেক সময় হার মানে বন্ধুত্বের কাছে। সে ক্ষেত্রে আপনার বন্ধুটির সঙ্গে একান্তে যেসব খুনসুটিতে মাতেন, তা লোকালয়ে না করা বা সেই বন্ধুর বয়সী কারও সঙ্গে না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে আপনার বন্ধুটি আরও শ্রদ্ধাভরে তাকাবে আপনার দিকে!
ূ প্রত্যেকেই তার নিজের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা রাখে। এক্ষেত্রে ভয়-ভীতি ছাড়াই সে যেন তার মনের কথা প্রকাশ করতে পারে এমন পরিবেশ থাকা প্রয়োজন।
ূ সর্বোপরি সব সম্পর্কের মাঝেই একটা দেয়াল থাকা প্রয়োজন। আর সেই দেয়ালটা হলো সম্মানের। বন্ধুর সম্মানের জায়গাগুলোকে শ্রদ্ধার সঙ্গে নিতে হবে। তার ভালোলাগা, পছন্দ-অপছন্দের জায়গাগুলোকে বুঝে নিতে হবে। তবেই বেঁচে থাকবে বন্ধুত্ব। জয় হবে নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বের!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের এই সুযোগ কি আরেকবার আসবে? বা তারাই-কি এটা হাত ছাড়া করবে???

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০

ইরানী নেতা খামেনি শহীদ হওয়ার পরে ইরান কি বলেছিল মনে আছে???

ইরান কইছিলো, ইরানের এই অবস্থার জন্য যারা দায়ী সেই বেবাক দেশকে রাস্তায় এনে দাঁড় করানো হবে।
প্যান্ট খুলে ছেড়ে দিবে-(এটা আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খাবেন সবাই সমকামী হয়ে যাবেন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×