somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভিক্ষাঃ সনাতন এবং নতুন ভার্সন

১০ ই জুন, ২০১৭ রাত ১০:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই যে পুরো রমজানে ঈদের আগে সারা দেশে লক্ষ লক্ষ ভিক্ষুকের সদর্প পদচারণ বেড়ে যায়, তার সাথে যোগ দিয়েছে শপিং মল আর সুপার শপের সামনে দাঁড়ানো সচ্ছল যুবক-যুবতীদের তহবিল সংগ্রহ নামক ছুপা-ভিক্ষাবৃত্তি, অনলাইনে ইভেন্ট খুলেও চলে আসছে এসব। ভিক্ষুক সিন্ডিকেটগুলির হর্তাকর্তাদের সাথে কর্পোরেট এক্সটর্শনিস্টদের কোন নীতিগত পার্থক্য নেই।

এসব ঈদ ত্রাণ-তহবিল এর ৯০% ক্ষেত্রে প্রকৃত খাতে খরচ হয় না। আর, হয়ে থাকলেও এসব মৌসুমী, লোকদেখানো সাহায্য হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার স্থায়ী মানোন্নয়নে কোন কাজেই আসে না।

যে দেশে শহরের বেশির ভাগ মানুষ ব্যয়ের সাথে আয়ের তাল মিলিয়ে চলতে পারে না, সঞ্চয় কমে যায়, দুর্নীতি করে, অন্যের উপর জুলুমবাজী-ঠগবাজী করে, উৎপাদন-বিনিয়োগ ব্যাহত হয়, সামাজিক আর অর্থনৈতিক দৈন্যদশার কারণে সুস্থ-সুন্দর জীবনযাপন করা অস্বাভাবিক হয়ে পরে, সে দেশে মধ্যবিত্তের ঘাড় ভেঙ্গে কিভাবে এসব ভিক্ষাবৃত্তি টিকে থাকে, ভাবতে অবাক লাগে।

আশ্চর্যজনকভাবে, উচ্চবিত্ত এবং নিম্নবিত্তরা মধ্যবিত্তদের তোয়াক্কাই করে না, এবং মধ্যবিত্তের ঘাড়েই কাঁঠাল ভেঙ্গে খায় ওই দুই শ্রেণী। উচ্চ এবং নিম্নবিত্তদের কেউই প্রকৃতপক্ষে নিজেদের জীবন মান পরিবর্তনে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয়। এদের এক শ্রেণী আজীবন বাংলাদেশকে সেকেন্ড হোম মনে করে আসছে, অন্য শ্রেণী বস্তির কীটপতঙ্গের মত বেঁচে থাকাকে ত্যাগ করতে পারছে না।

সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সাম্যাবস্থা ফিরিয়ে আনতে চাইলে এই দেশে সামগ্রিক বিকেন্দ্রীকরণের কোন বিকল্প নেই। শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, প্রয়োজনীয় ক্রয়বিক্রয়, এবং বসবাসের জন্য কেন একজন মানুষকে জন্মস্থল ছেড়ে জীবনে লক্ষ লক্ষ বার ভ্রমণ করতে হবে? শহরগুলির উপর চাপ কমাতে পারলে, আবাসিক-বাণিজ্যিক-শিল্পখাতভিত্তিক এলাকাগুলি পৃথক করতে পারলে, গ্রামগুলিকে "গ্রাম" রেখে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি চাঙ্গা করতে পারলে, কর্মসংস্থানের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করতে পারলে, এবং সর্বোপরি দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করে সচিবালয় থেকে শুরু করে গণশৌচালয় পর্যন্ত নিয়ম-কানুনের সুপ্রতিষ্ঠা করতে পারলে প্রতিবছর ঈদের আগে কিংবা অন্য যেকোন সময় দেখা যাওয়া এসব ভিক্ষুক এবং চাঁদাসংগ্রাহকদের কোন অস্তিত্ব থাকবে না!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×