পৃথিবীর ইতিহাসের বিতর্কিত বিষয়গুলির একটি হল অ্যাস্ট্রলজি। বিশ্বের বলতে গেলে অর্ধেক মানুষ অ্যাস্ট্রলজিতে বিশ্বাস করে, বাকী অর্ধেক করে না। তবে এইসকল অবিশ্বাস, বিতর্কের মধ্যেও অ্যাস্ট্রলজি যুগ যুগান্তর ধরে বীরদর্পে মানুষের মধ্যে টিকে আছে। আমি এখন নানা ধর্মে অ্যাস্ট্রলজির অস্তিত্ব প্রমান করার চেষ্টা করব। পৃথিবীর বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বড় ধর্ম খ্রিস্টান। প্রথমে তাই খ্রিস্টান ধর্মে আসি। বাইবেল হতে জানা যায়, মাতা মেরীর কোলে যীশুর জন্ম হয়েছিল, সেই দিন রাতে পৃথিবীর তিন প্রান্ত থেকে তিন জ্ঞানী ব্যক্তি যীশুকে এক ঝলক দেখার জন্য ছুটে আসে।বাইবেল বিশ্লেষণে জানা যায়, এই তিন জ্ঞানী ব্যক্তি আকাশের গ্রহ নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে যীশুর জন্মগ্রহণ সম্পর্কে অবহিত হন। আর আকাশের গ্রহ নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে কোন জাগতিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার বিদ্যাই হল অ্যাস্ট্রলজি। তাই দেখা যাচ্ছে খ্রিস্টান ধর্ম অ্যাস্ট্রলজির অস্তিত্ব স্বীকার করছে। এবার বৌদ্ধ ধর্মে আসি। গৌতম বুদ্ধের পিতা ছিলেন রাজা। বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কাছ থেকে জানা যায়, গৌতম বুদ্ধের জন্মের পর তার পিতা রাজ্যের প্রধান জ্যোতিষীকে নবজাতক বুদ্ধের ভাগ্য গণণার জন্য তলব করেন। জ্যোতিষ গননা করে বলেন এই ছেলের রাজ্য পরিচালনার প্রতি কোন ঝোঁক থাকবে না, যৌবনে এই ছেলে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সন্ন্যাসী হবে। এবং প্রকৃতপক্ষেই এই ভবিষ্যতবানী সত্য হয়েছিল, বুদ্ধ রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সন্ন্যাসী হয়েছিলেন। অর্থাৎ বৌদ্ধধর্মও অ্যাস্ট্রলজির অস্তিত্ব স্বীকার করছে। এবার হিন্দু ধর্ম। হিন্দু ধর্ম আর অ্যাস্ট্রলজি একই সূতায় গাঁথা, অ্যাস্ট্রলজির প্রাচীন উৎপত্তি ভারতীয় আর্যদের মধ্যেই। অ্যাস্ট্রলজি হিন্দু ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, আর তাই পূর্বে হিন্দু পুরোহিতদের অবশ্যই বাধ্যতামূলকভাবে অ্যাস্ট্রলজি শিখতে হত। সবশেষে ইসলাম ধর্মে আসি। আমরা যারা মুসলিম তারা প্রায় সবাই মোটামুটিভাবে হযরত মুসা (আ) ও ফেরাউনের কাহিনী জানি। মুসা নবীর জন্ম হয় বনী-ইসরাইল পরিবারে। মুসার জন্মের পরপর মিশরের ফেরাউন এক স্বপ্নে দেখেন, বনী-ইসরাইল বংশ থেকে একটি আগুনের গোলা এসে ফেরাউনের সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই স্বপ্ন দেখে ফেরাউন চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং রাজ্যের সকল জ্যোতিষীদের খবর দেন। জ্যোতিষীরা গননা করে ফেরাউনকে বলেন, বনী-ইসরাইল বংশে এমন এক মানব সন্তানের জন্ম হবে যে ফেরাউনের ধ্বংসের কারন হবে। এই ভবিষ্যতবানী সত্য হয়েছিল। বনী-ইসরাইল বংশে জন্ম নেয়া হযরত মুসা (আ) ই ফেরাউনের ধ্বসের কারণ হয়েছিল। এভাবে ইসলাম ধর্মেও অ্যাস্ট্রোলজির অস্তিস্ব স্বীকার করা হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


