আমাদের এই প্রিয় নগরী ঢাকার নামের উৎপত্তি সম্পর্কে নানা কথা প্রচলিত আছে। এসকলের মধ্যে কোনটি সত্য তা নির্ণয় করা সত্যিই দূরহ ব্যাপার। ঢাকা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে সবচেয়ে প্রচলিত কিছু উপকথা আমি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি।
ঢাকায় বুড়িগঙ্গার পাড় ঘেঁষে এককালে ছিল বিশাল জঙ্গল। এই জঙ্গলে এক সময়ে ঢাক নামে এক প্রকার গাছ প্রচুর পরিমানে জন্মাত। অনেকের মতে, এই ঢাক শব্দ থেকেই ঢাকা নামের উৎপত্তি।
এবার আরেকটি বহুল প্রচলিত মত আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে যাচ্ছি। সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন একবার বুড়িগঙ্গার উত্তরে এক জঙ্গলে পেয়েছিলেন দেবী দূর্গার এক বিশাল মূর্তি। বল্লাল সেন এই মূর্তি কুড়িয়ে পাবার পর সেখানে নির্মাণ করেছিলেন এক বিশাল মন্দির। এই মন্দির বন-জঙ্গলে ঢাকা ছিল বলে সাধারণ জনগণের কাছে তা পরিচিত হয় "ঢাকা ঈশ্বরী" নামে। এই "ঢাকা ঈশ্বরী" পরবর্তিতে ঢাকেশ্বরীতে রূপান্তরিত হয়। আর এই ঢাকেশ্বরী নাম থেকেই ঢাকা নামের উৎপত্তি।
আরেকটি মতামত প্রচলিত আছে বাংলার প্রথম মুঘল সুবাদার ইসলাম খানকে নিয়ে। প্রথম ঢাকায় আসার পর এই ঢাকায় দিল্লীর মত একটি নগর প্রতিষ্ঠা করতে চান তিনি। তিনি একদল ঢাকীকে ঢাকে বাজাতে দিয়ে চারজন অনুচরকে পাঠিয়ে দেন চারিদিকে। ঠিক করা হয়েছিল, যতদূর পর্যন্ত ঢাকের আওয়াজ শোনা যাবে, ততদূর পর্যন্ত হবে ঢাকা নগরীর বিস্তৃতি। অনেকের মতে, এই ঢাক থেকেই ঢাকা নামের উৎপত্তি।
সবশেষে আরেকটি প্রচলিত মতামতের কথা বলি। ঢাকায় একসময় একটি নৌঘাঁটি ছিল যার নাম ছিল "ঢাক্কা"। এই ঢাক্কা থেকেই ঢাকা নামের উৎপত্তি।
উপরে উল্লেখিত সবকটি মতামতই বহুল প্রচলিত। তবে এদের মধ্যে কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা তা বের করা আমার পক্ষে সম্ভভ হয় নি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


