somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রক্তমাংশের শার্লক হোমস

১৮ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঔপন্যাসিকদের সম্বন্ধে ই.এম.ফরস্টার বলেছিলেন, “আমরা সবাই এমন একটা ভাব করতে ভালোবাসি যেন বাস্তব চরিত্র ব্যবহার করে আমরা গল্প উপন্যাসের চরিত্র সৃষ্টি করি না। কিন্তু ব্যাপারটা আদৌ তা নয়।” জীবন্ত বাস্তব চরিত্রকে ভিত্তি করেই ইংরেজী সাহিত্যের জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র শার্লক হোমসকে সৃষ্টি করা হয়েছিল। ১৮৮৬ সালের মার্চ মাসে স্যার আর্থার কোনান ডয়েল যখন শার্লক হোমস সিরিজের প্রথম গল্প “আ লেডি ইন স্কারলেট” লিখবেন বলে মনস্থির করছেন, তখন তিনি তীব্র উৎকন্ঠায় ভুগেছেন। এডগার অ্যালান পো’র গোয়েন্দা চরিত্র দুপ্যাঁকেও বুদ্ধিতে ছাড়িয়ে যায় এমন একটি গোয়েন্দা চরিত্র তিনি সৃষ্টি করতে চান। ভাবতে ভাবতেই মনে পড়ল ডক্টর বেল-কে। ১৮৭০ সালে ডয়েল যখন এডিনবরা মেডিকেল কলেজের ছাত্র, ডক্টর যোসেফ বেল তখন এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং এডিনবরা মেডিকেল জার্নালের সম্পাদক। এডিনবরা গোলন্দাজ বাহিনীর তিনিই তখন উপদেষ্টা চিকিৎসক। ১৯২৪ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথায় ডয়েল লিখেছেন, “শার্লক হোমস চরিত্র সৃষ্টি করতে গিয়ে আমি তার কথাই বারবার ভাবছিলাম। আমার পুরোনো শিক্ষক জো বেল। তার ঈগল পাখির মতন চোখ-মুখ, কৌতুহলোদ্দীপক চলাফেরা, যে কোন ব্যাপারে তার অদ্ভূত ক্ষমতা… এ সবকিছু বারবার মনে পড়ছিল।” ১৮৯২ সালে এক চিঠিতে ডয়েল ডক্টর বেলকে লিখেছেন, “এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে আপনাকে দেখেই আমি শার্লক হোমস চরিত্র সৃষ্টি করেছি। হোমস এর বিশ্লেষণী ক্ষমতাও কোন বানানো অতিরঞ্জিত ব্যাপার নয়। এডিনবরা হাসপাতালের বহির্বিভাগে আমি নিজে আপনাকে ওই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে দেখেছি।” হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডয়েল ডক্টর বেলের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন, রোগীদের কেস হিস্ট্রি লিখতেন। ডয়েল এ বিষয়ে একটি ঘটনাও শুনিয়েছেন। একবার বেল এক রোগীকে দেখে বলেছিলেন, “ভদ্রলোক হাইল্যান্ড রেজিমেন্টে একজন নন-কনডিশন্ড অফিসার ছিলেন। বার্বাডোজে কিছুদিন কাটিয়ে এসেছেন।” হতভম্ব ছাত্রদের সামনে বেল ঘটনাটির ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন এভাবে, “…ভদ্রলোকের চেহারা, আচার-আচরণ বেশ সম্ভ্রান্ত কিন্তু উনি মাথা থেকে টুপি খোলেন নি। সেনাবাহিনীর লোকেরা মাথা থেকে টুপি না খোলায় অভ্যস্ত। ভদ্রলোক নিশ্চয় কয়েকদিন আগে অবসর নিয়েছেন, তা না হলে নিশ্চয়ই তিনি এই সাধারণ আচারণে অভ্যস্ত হতেন। ভদ্রলোক অন্যদের উপর একটু কর্তৃত্ব খাটাতে ভালোবাসেন, স্কটল্যান্ডের লোকেদের এমন অভ্যাস থাকে। ভদ্রলোকের গোদ হয়েছে, ওটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোগ, ব্রিটেনের নয়। ভদ্রলোক যে বার্বাডোযে ছিলেন এটা তার সবচেয়ে বড় প্রমান।”
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×