somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উগ্রতা । শেষ কোথায় ?

০৪ ঠা মার্চ, ২০১৬ রাত ১১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বের বড় বড় ধারাভাষ্যকারেরা বলেন যে, বাংলাদেশি দর্শকেরা নিজেদের দলকে সমর্থন করার জন্য বিশ্বসেরা! আমিও বলি তাদের প্যাশন, আবেগ সবকিছু আসলেই বিশ্বে ইউনিক!

নিজেরা জয় পেলে এই কথাগুলো আসলেই সত্যি। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে, ম্যাক্সিমাম ১৫-২০% লয়্যাল সমর্থক বাদে সম্ভবত আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বাজে সমর্থক! হয়তো ভারতীয়দের সাথে খুব টাফ কম্পিটিশন হবে! কিন্তু আমার ধারণা আমরাই বেশি। বিশ্বে আর কোন দেশের স্টেডিয়ামে কাঁটাতারের বেড়া থাকে না। শুধু উপমহাদেশেই থাকে। ম্যাচ জিতি আর হারি আমরা আমাদের নিজেদের স্টেডিয়ামের চেয়ার ভেঙে চলে আসি! জিতলে জয়ের আনন্দে ভাঙি, হারলে রাগে ভাঙি। ভাঙা পার্মানেন্ট! squint emoticon

প্রতিপক্ষকে আমরা যতটা অসম্মান করি; আমাদের মতো করে কেউ করে না। কেউই না। ভারতীয়রাও না, পাকিস্তানীরাও না। কেউ না। নোংরামির চূড়ান্ত। আমরা হারলেও নিজেদের হিরোদের গালিগালাজ করে চূড়ান্ত করে ফেলি। সাকিব-তামিম-নাসির-মাশরাফি সবাই নিজেদের ফেসবুক পেজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হোন। আমরা মুশফিকের মা, তামিমের বউ, নাসিরের বোন, এমনকি সাকিবের তিন মাসের বাচ্চাটাকে নিয়েও নোংরামি করতে ছাড়ি না। তামিম সেঞ্চুরি করে অভিনন্দনের জবাব না দিয়ে দর্শকদের মুখ বন্ধ করার সিগন্যাল দেন! সাকিব স্ত্রীর হ্যারেসম্যান্টের জবাব দিতে গ্যালারিতে ছুটে যায়। আর কোন দেশের খেলোয়ারদের হইসে এরকম?

তাসকিনের হাতে ধোনির রক্তভরা কাটা মুণ্ডুর ছবি বের হয়েছে! কতটা নৃশংস, বিকৃত মানসিকতা হলে সেটি করা যায়! আমাদের প্রধান পত্রিকা "প্রথম আলো"তে প্রতিপক্ষের মাথা মুড়ে দেয়ার ছবি বের হয়। আমরা সাধারণ জয়ে খুশি হই না। আমরা প্রতিপক্ষকে "ভরে" দিতে চাই। মোজো বাঁশ থেরাপীর বিজ্ঞাপন বানায়। সেটা সব জাতীয় চ্যানেলে প্রচার হয়। প্রতিপক্ষের আইকন সমর্থকেরা আমাদের কাছে এসে অপমানিত হোন। সুধীর, বশিরকে নিয়ে বিতর্কিত খবর আসে। আমরা জিম্বাবুয়ের অফিশিয়াল পেজে গিয়ে তাদের গালিগালাজ করে আসি। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে অনুরোধ করে যেন আমরা এমন গালি না দেই। আবার বিগ ব্যাশে সাকিবকে একাদশে না নিলে সেই দলের পেজে গিয়ে গালিগালাজ করে এসে নিজেদের মুখ উজ্জ্বল করে আসি। আমাদের রাষ্ট্রীয় মোবাইল কোম্পানি 'টেলিটক' জিম্বাবুয়ের "পতাকা" ওয়াশ করে দেয়। আমরা অন্য দেশের নাম বিকৃত করে "Re*dia", Fu*kistan", "Shi*Lanka" সব ডাকি! প্লেয়ারদের নাম বিকৃত করে কোহলিকে "কুলি", রবিচন্দনকে "রবিচো*ন", টেলরকে "দর্জি"; স্মিথকে "মিস্ত্রী"; কাউকে ছাড়ি না। প্রতিপক্ষ নিয়ে এতোগুলো ঘটনা আর কোন দেশের ক্ষেত্রে দেখাতে পারবেন না। এখন পর্যন্ত এখনও বড় টুর্নামেন্ট জিতিনি বলে রক্ষা। একবার বিশ্বকাপ জিতি। তারপর দেখবেন পরের বিশ্বকাপ জিততে না পারলে পাকি-ভারতীয়দের মতো আমাদের খেলোয়ারদের বাসায় ঢিল পড়বে! squint emoticon সাকিবের বাড়িতে ৫৮ রানের পর ঢিল পড়েছিলোও!

আবার আশ্চর্যজনকভাবে অতি ঘৃণা সাপোর্টারদের সাথে অতি ভালবাসা সাপোর্টারও আছে! এরা বাংলাদেশ-পাকিস্তান, বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে ভারত, পাকিস্তান সাপোর্ট করে। পাকিস্তানের পতাকা ওড়ায়। (ভারতের সাপোর্টার অবশ্য কম। তবে আছে।) এরা বাংলাদেশ জিতলে মেজাজ খারাপ করে! এদের সম্পর্কে অবশ্য কবি আবদুল হাকিম বলে গিয়েছেন, "সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি!"

যাই হোক, এটাও সত্যি যে, আমাদের একেবারেই লয়্যাল যে স্বল্প পার্সেন্টেজড সমর্থক আছে তাদের জোরেই আমরা বিশ্বসেরা সমর্থকের খেতাব পাই। আর জিতলে নিজেদের ক্ষেত্রে আমাদের আবেগের পজিটিভ বিষ্ফোরণ ঘটে। সেটা ভালো।

আমরা সত্যিকার অর্থে সারা বিশ্বের কাছে ভালবাসার দল হতে চাই। নিউ জিল্যান্ডকে সবাই পছন্দ করে। সাউথ আফ্রিকাকে সবাই পছন্দ করে। কেন? কারণ তাদের ভদ্র আচরণ। বাংলাদেশকে আমরা এমন দল হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, যেন অন্য একটি দেশের মানুষ নিজেদের দলকে সমর্থনের পর দ্বিতীয় প্রিয় দল হিসেবে বাংলাদেশেরই নাম নেয়। আমাদের দর্শক, মিডিয়া ক্রমাগত এমন নোংরামো, ইম্ম্যাচিউর কাজ কারবার করতে থাকলে আমরা সবার প্রিয় হবো কিভাবে? আমরাই তো ভারতীয়রা বোতল ছুঁড়ে মারলে, বা পাকি-ভারতীয় খেলোয়ারদের বাসায় হামলা হলে তাদের দর্শকদের সমালোচনা করি। তাই না?

আমরা দল হিসেবে সব জিততে চলেছি ইন-শা-আল্লাহ! দর্শক হিসেবেও বিশ্ব জয় করবার সময় এসেছে। সম্মান দেয়া শিখি, প্লিজ! সেটা নিজের দলের ব্যাপারে হোক অথবা প্রতিপক্ষের। পাকিস্তানের সাথে ম্যাচ জেতার পর মাশরাফি কাল বলেছেন, "আমরা সবাই যেন পা মাটিতে রাখি।" পা মাটিতে রাখাটা আমাদের বড় প্রয়োজন।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০১৬ রাত ১১:৫২
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ যখন মানুষটা চলে যায়

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩




স্ত্রী বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মানুষের মাথায় কী কী চিন্তা আসে আমি জানি না। কেউ হয়তো প্রথমে রাগ করে। কেউ ভেঙে পড়ে। কেউ সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপেল নিয়ে যত গল্প পর্ব - ০১

লিখেছেন অধীতি, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:১১

আপেল, আমাদের পরিচিত ফল সমুহের ভেতরে অন্যতম। দেখতে সুন্দর, খেতে মিষ্টি এই ফলটির আমাদের জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে। আপেল এক অদ্ভুত ফল। বাসায় মেহমানকে আপ্যায়ন থেকে শুরু করে রোগী দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×