পবিত্র ভূমি জেরুজালেম ও মসজিদুল আক্বসা এলাকা বহু কাল আগে থেকেই বহু নবীদের জন্ম স্থান, তীর্থস্থান ও দ্বীন প্রচারের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত। এখানে বহু নবী, বিশেষ্ করে, ইব্রাহীম আঃ ও ঈসা আঃ এর জন্মভূমি। হযরত সোলাইয়মান আঃ মসজিদুল আক্বসা নির্মান করেন। এই মসজিদ অনেক নবীর ইবাদতগাহ ছিল। এদের মধ্যে ইয়াহুদিরা মুসা আঃ ও খ্রিস্টানরা ঈসা আঃ এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এনারা বেশিভাগই বনী ইস্রাইল বংশের নবী ছিলেন।
নবীদের পরিক্রমায় আসলেন সর্ব শেষ নবীজী হযরত মুহাম্মাদ সাঃ। শেষ নবী হযরত মু্হাম্মাদ সাঃ এর মিরাজের শুরু হয়েছিল এই মসজিদ থেকে। এটা মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা-ও বটে। মুহাম্মাদ সাঃ শেষ সত্য ধর্ম ইসলাম নিয়ে আসেন। নবীজীর পরে ওনার খাটি সাহাবিরা এই ইসলামকে দূর-দূরান্তে প্রাচারিত করেন।
ইসলামে ২য় খলিফা,আমীরুল মুমিনিন ওমর রাঃ এর আমলে রক্তপাতহীন অবস্থায়, সন্ধির অধীনে ততকালীন খ্রিস্টান শাসকেরা মুসলিম খলিফার কাছে জেরুজালেম ও বায়তুল মুকাদ্দাসের চাবি হস্তান্তর করেন। তখন থেকেই সুদীর্ঘকাল তা মুসলিমদের অধিকারে থাকে। এখানকার বেশিরভাগ ইয়াহুদি ও খ্রিস্টান অধিবাসীরা ইসলাম গ্রহন করে। বাকি অন্য ধর্মের সকল মানুষ মুসলমানদের সাথে শান্তির সাথে সহ-অবস্থান করতে থাকে।
দুর্ভাগ্যক্রমে, একসময় খ্রিস্টান ক্রসেডারগণ বায়তুল আক্বসা দখল করে ও মুসলিমদের উপরে অবর্ণ্নীয় নির্যাতন করে। বিখ্যাত মুসলিম সেনানায়ক সালাউদ্দীন আইয়ুবী রঃ তা পু্নরুদ্ধার করেন ও সেখানে শান্তি ফিরিয়ে আনেন। মুস্লিমগন আবার মসজিদুল আক্বসা / বায়তুল মুক্কাদ্দাসে নামাজ আদায় করতে থাকেন। মুসলমান শাসকদের আমলে অত্র এলাকায় সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে মিল-মহব্বত ও শান্তি বজায় ছিল।
সম্প্রতি, গত শতাব্দিতে, ইয়াহুদিরা জার্মানির হিটলার দ্বারা নির্যাতিত ও বিতারিত হলে তাদে্র একটা ভাগ ফিলিস্তিনে আশ্রয় নেয়। মুসলামানেরা ঈমানের খাতিরে এই হতভাগ্যদের আশ্রয় দিল। মেহ্ মান-কে আশ্রয় দেওয়া আরবদের ঐতিহ্য। কিন্তু হীতে বিপরীত। তখন থেকেই ইয়াহুদিরা তাদের পাপের কারনে আর আন্ত্ররজাতিক প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করে ফিলিস্তিনে নিজেদের দখলদারিত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়। এককালের আশ্রয়দাতা আরব-মুসলিম-ফিলিস্তিনিদের উপরে তারা অকথ্য জুলুম শুরু করে। এ বেদনাদায়ক ইতিহাস কারো অজানা নয়। আশ্রয়দাতা ফিলিস্তিনি আরবদের আজ ইয়াহুদিরা আশ্রয়হীন করতে মরিয়া। অর্থাত, ইয়াহুদিদের অবস্থা হোল-" বসতে দিলে শুইতে চায়, শুইতে দিলে ঘর দখল করতে চায়"।
এই ইয়াহুদি জাতি তাদের নিকট আগত বহু নবীকে হত্যা করেছিল। বিশ্বাসঘাতকতা আর মুনাফেকী তাদের ঐতিহ্য। কোরানের ভাষায় তারা অভিশপ্ত। সাম্প্রদায়িক চেতনার সকল খারাপ দিক এদের মধ্যে বিদ্যমান।
যাই হোক; পবিত্র হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ জমানায়, মুস্লিমদের শেষ ত্রাতা আসবার আগে পর্যত্ন পবিত্র জেরুজেলে্মের ভাগ্যে খুব ভাল কিছু লেখা নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



