বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান সাংগঠনিকভাবে দেশের বৃহত্তর বিরোধীদলের ‘দ্বিতীয় ক্ষমতাশীল’ ব্যক্তি। তিনি প্রায় ১৫ মাস দেশের বাইরে। আমার বয়সের অর্ধেক সময় কেটেছে প্রবাসে। সেই অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, দেশের ভেতরে বাস করে দেশকে যেভাবে দেখা যায় তার চেয়ে অনেক বেশি নৈর্ব্যক্তিকভাবে দেখা সম্ভব দেশের বাইরে থেকে। দীর্ঘ ১৫ মাসে তারেক নিশ্চয়ই টেমস নদীর পাড়ে বসে বঙ্গোপসাগর পাড়ের ভূখণ্ডের স্বপ্নমুখী জনগোষ্ঠীর স্বপ্নভঙ্গের ট্রাজিক লোকগাঁথা পাঠ করেছেন। প্রবাসীরা দেশ থেকে দূরত্বে থাকলেও কখনোই দূরে থাকে না। সারাজীবন দেশের ভেতরে বাস করে যেভাবে জনতার প্রত্যাশা ও প্রত্যাশা ভঙ্গ তারেকের চোখে ধরা পড়েছিল, মাত্র কয়েক মাসের প্রবাস জীবনে নিশ্চয় তা অন্যভাবে ধরা পড়ছে। আশা করছি, দেশে ফেরার পর তিনি অসহায় জাতির প্রত্যাশা পূরণের সংগ্রামে তাদের পাশে থাকবেন। ক্ষমতাশীল নয় দায়িত্বশীল হয়ে উঠবেন।
আমি এবং তারেক বয়সে সমসাময়িক। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ নিয়েছি। দূর থেকে ক্যাম্পাসে তাকে দেখেছি। কখনো কাছে যাইনি। যেতে চাইনি। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাকে দেখে ভেবেছি, যে দেশের মন্ত্রী, আমলা, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে একজন পুলিশ অফিসারের ছেলে-মেয়ে পর্যন্ত বিদেশে পড়াশোনা করে, সেখানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আর প্রধানমন্ত্রী বাবা-মায়ের সন্তান হয়ে তিনি কেন আমাদের কাতারে? আজ প্রবাসে বসে তারেক রহমান কি কখনো হিসাব মিলিয়ে দেখেছেন, যে বাবা-মায়ের সন্তান তিনি তাদের দেশপ্রেম আর আদর্শ কতটুকু ধারণ করতে পেরেছেন?
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জ্যেষ্ঠপুত্রের বিরুদ্ধে ১৫টিরও অধিক মামলা চলমান। প্রবাসে বসে নয়, দেশে ফিরেই তাকে প্রমাণ করতে হবে অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা। সময় বড় বলবান। প্রবাসের দিনগুলো যত দীর্ঘ হবে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো ততই পল্লবিত হতে থাকবে। প্রতিষ্ঠিত হতে থাকবে। তারেকের এখন দেশে ফেরা প্রয়োজন। আর সে ফেরা যেন হয় গৌরবের। অহংকারী। তিনি পোড় খাওয়া জীবন থেকে যদি কোনো উজ্জ্বলিত পাঠ গ্রহণ করে থাকেন তা যেন তার জীবনকে মহিমান্বিত করে তোলে। কোনো দুর্নীতিবাজ, গণবিরোধী আর দুর্বৃত্ত নয়, এই সম্ভানাময় তরুণের বন্ধু হোক দেশের আলোকিতজন। শুদ্ধজন। শুভবুদ্ধির মানুষ।
একটি কথা নিশ্চয় নির্বাসিত এই রাজনীতিকের অজানা নেই যে, দেশে রাজনীতিতে সক্রিয় খালেদা জিয়া ক্ষমতাসীনদের কাছে যতটা না ‘ভীতিকর’ তারচে প্রবাসে নির্বাসিত, রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় তারেক রহমান তাদের কাছে অনেক বেশি ‘রাজনৈতিক হুমকি’। এজন্যই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের পর অজস্র ‘দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত আসামি’ খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন হলে ক্ষমতাসীনরা নিশ্চুপ থেকেছে অথচ তারেক দলের কো-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীসহ সাংসদ-মন্ত্রীরা পর্যন্ত মাঠ গরম করে তুলেছেন। মিডিয়া কাঁপিয়েছেন। কোনো মাামলায় অভিযুক্ত হওয়া কখনোই প্রমাণ করে না সে অপরাধী। যতক্ষণ না তা প্রমাণিত হয়। মামলায় অভিযুক্ত হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, মন্ত্রী এবং সাংসদ হওয়া গেলে একটি দলের কো-চেয়ারম্যান হওয়া যাবে না কেন? রাজনীতি করা যাবে না কেন?
প্রধান বিরোধীদল বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বীকার করুন আর না করুন, প্রবাস চোখে দেশকে দেখার কারণে তারেক নিশ্চয়ই অস্বীকার করবেন না যে, বিরোধীদল হিসেবে বিএনপির যেটুকু দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল তা করতে পারছে না। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ২৯টি আসন নিয়ে বিরোধীদল হিসেবে বিএনপি সংসদে এবং সংসদের বাইরে কোথাও প্রভাব বিস্তার করতে পারছে না। এছাড়াও দলের অভ্যন্তরীণ নানা সংকটেও দলটির রাজনৈতিক অস্তিত্ব চ্যালেঞ্জমুখী। সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিরোধীদলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভূমিকা বিএনপি কতটুকু পালন করছে তা এখন আলোচনায় উঠে আসছে। যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশেই বিরোধীদল যদি সংসদে ও সংসদের বাইরে শক্তিশালী ভূমিকা পালন না করে তাহলে সরকার ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে স্বেচ্ছাচারী। অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কানাডাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধীদল ‘ছায়া সরকার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। বিরোধীদল সরকারের সকল কার্যক্রমের ওপর চাপ তৈরি করে রাখে। সরকারকে স্বেচ্ছাচারী হতে দেয় না। বাংলাদেশে বিরোধীদলের সকল কার্যক্রম এখন সংবাদ সম্মেলন আর মিডিয়ায় দেয়া বিবৃতির ভেতরে সীমাবদ্ধ। এর থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ সম্ভবত রাজনৈতিক মাঠে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন।
লেখক-- আকিদুল ইসলাম, সিডনি থেকে:
Click This Link
আলোচিত ব্লগ
গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।
যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?
আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।
দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।
ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন
কটা দুলাল

বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন পর্ব -১

(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।