সুরা সাযদাহ,আয়াত# ১৮
“যে বিশ্বাসী সে কি পাপাসক্তের সমতুল্য?”(১)কখনোই তারা সমান নয়।
সঠিক তাফসীরঃ(১)
একদিন ওয়ালিদ বিন উকবা বিন মুয়িত হযরত আলী(আঃ) এর গুন বৈশিষ্ট ও শ্রেষ্টত্বের বর্ননায় হিঙ্গসায় জ্বলে উঠলো ও বলল, ‘হে আলী!তুমি এখন শিশু,আর আমি যুবক।আমি তোমার অপেক্ষা শক্তিতে প্রবল,বাক-চাতুর্যে উত্তম,বর্শা নিক্ষেপে দক্ষ এবং সেনাদলে দৃঢ় প্রতিষ্টিত’।হযরত আলী জবাবে বললেন, ‘তোমার এমন সাহস যে,আমার বিরুদ্বে কথা বলছ?আর আমার উপর গর্ব করছ,অথচ মুমিন ও ফাসিক কি সমান হতে পারে?’আল্লাহও তাঁর কথাকে সমর্থন করলেন এবং আয়াতটি নাজিল করলেন।এ বিষয়টি আহলে সুন্নাতের অনেক গ্রন্থে উল্লেখিত আছে।যেমন আল আগানী,ওয়াহিদি,ইবনে মারদুইয়া,খাতিবে খারেজমী, ইবনে আসাকির-তারা সকলেই ইবনে আব্বাস হতে হাদিসটি বর্ননা করেছেন।এই ওয়ালিদকেই ৩য় খলিফা উসমান নিজের খেলাফতকালে কুফার গভর্নর করে পাঠিয়েছিলেন।একদিন সে মদের নেশায় মত্ত হয়ে ফজরের নামাজ ২ রাকাতের স্থলে ৪ রাকাত আদায় করেছিল।অতপর নাজীদের বলেছিল, ‘আমি এখন গতিতে আছি।যদি বল,তবে আরও বেশী করে পড়িয়ে সেই’।এ সংবাদ খলিফার কর্নোগোচর হল।সাক্ষী প্রমান পেশ করা হলে তিনি হযরত আলী(আঃ)-এর পরামর্শে তাকে ৮০ ঘা চাবুক মারার রায় দেন।ফলে ওয়ালীদ হযরত আলীর প্রতি ক্রুদ্ব হয় এবং তাঁর খেলাফতকালে তাঁর হাতে বায়াত হয় নি।
মওলানা মউদুদীর মিথ্যা তাফসিরঃ
এখানে মু'মিন ও ফাসেকের দু'টি বিপরীতমুখী পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। মু'মিন বলতে এমন লোক বুঝানো হয়েছে, যে আল্লাহকে নিজের রব ও একমাত্র উপাস্য মেনে নিয়ে আল্লাহ তার পয়গম্বরদের মাধ্যমে যে আইন-কানুন পাঠিয়েছেন তার আনুগত্য করে। পক্ষান্তরে ফাসেক হচ্ছে এমন এক ব্যক্তি যে ফাসেকী আনুগত্য থেকে বের হয়ে আসা বা অন্যকথায় বিদ্রোহ, বল্গাহীন স্বেচ্ছাচারী মনোবৃত্তি ও আল্লাহ ছাড়া অন্য সত্তার আনুগত্যের নীতি অবলম্বন করে।
সুপ্রিয় পাঠক,লক্ষ করুন, মুমিন ও ফাসেকের সংজ্ঞা মওলানা মউদুদী সাহেব দিয়েছেন।কিন্তু এই আয়াতের শানে নুজুল ব্যাখ্যা করা থেকে বিরিত থেকেছেন,যা কিনা সত্য গোপন করার শামিল।
সুরা সাযদাহ,আয়াত# ২৪
“এবং তাঁদের মধ্য হতে কিছু লোককে ইমাম(১) মনোনীত করেছিলাম যারা আমাদের নির্দেশে পথ প্রদর্শন করত,যেহেতু তারা ধৈর্যধারন করেছিল এবং আমাদের আয়াতসমুহের প্রতি তাঁদের দৃঢ় আস্থা ছিল’’।
সঠিক তাফসীরঃ(১)
হযরত মুসা(আঃ) ও মহানবী(সাঃ)এর অবস্থার মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাদৃশ্য ছিল।যেমন মুসা(আঃ) তাওরাত পেয়েছিলেন,আর মহানবী(সাঃ) কুরান প্রাপ্ত হন;তাকেও জিহাদের আদেশ দান করা হয়েছিল,রাসুলও জিহাদের নির্দেশ পান;তিনি আল্লাহর নিকট আবেদন করলে তিনি হারুনকে তাঁর উজির(পৃষ্টপোষক ও সহযোগী) ও খলিফা নিয়োগ করেন,মহানবী(সাঃ)ও আল্লাহর নিকট আবেদন করলে তিনি হযরত আলীকে তাঁর সহযোগী ও খলিফা নিযুক্ত করেন।মুসা(আঃ) যেমন ফেরাউনের বিরুদ্বে জয়লাভ করেন,রাসুলও তেমনি কাফির মুশরেক ও অন্য শত্রুদের বিরুদ্বে বিজয় লাভ করেন;মুসা(আঃ)এর স্ত্রী সাফুরা তাঁর প্রতিনিধি ইউশা বিন নুন-এর বিরুদ্বে লড়াই করেছিল,তেমনি মহানবীর(সাঃ) স্ত্রী আয়েশা হযরত আলীর বিরুদ্বে যুদ্ব করেছিলেন।তার ১২জন ওয়াসি বা নকীব ছিলেন যারা তাওরাত অনুসারে হেদায়াত করতেন,তেমনি মহানবীর(সাঃ) ১২জন স্থলাভিষিক্ত,প্রতিনিধি ও খলিফা তথা ১২জন ইমাম রয়েছেন যারা কুরান অনুসারে হেদায়াত করেন এবং কিয়ামত অবধি হেদায়াত করবেন।আয়াতটিতে উক্ত তাৎপর্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।এ কারনেই আল্লামা জামাখশারী তাঁর তাফসীরে কাশশাফে এ স্থলে লিখেছেনঃ ‘এরুপে আমি তোমার আসমানী গ্রন্থকে হেদায়াত ও নুর বানিয়ে দেব এবং তোমার উম্মত থেকেও ইমাম বানাব যারা এরুপেই হাদায়াত করবে’।
মওলানা মউদুদীর মিথ্যা তাফসিরঃ
অর্থাৎ এ কিতাব বনী ইসরাঈলকে যে শ্রেষ্ঠ জাতিসত্তায় পরিণত করে এবং তাদেরকে উন্নতির যে উচ্চ শিখরে পৌঁছিয়ে দেয় তা নিছক তাদের মধ্যে কিতাব এসে যাওয়ার ফল ছিল না। এ কিতাব কোন তাবীজ বা মাদুদদলী ধরনের কিছু ছিল না যে, এ জাতির গলায় ঝুলিয়ে দেবার সাথে সাথেই তারা উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহণ করতে থাকে। বরং আল্লাহর আয়াতের প্রতি তারা যে দৃঢ় প্রত্যয় স্থাপন করে এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলার ব্যাপারে যে সবর ও অবিচল নিষ্ঠা প্রদর্শন করে, এ সমস্ত অলৌকিকতা ছিল তারই ফল। স্বয়ং বনী ইসরাঈল জাতির মধ্যে তারাই নেতৃত্ব লাভ করে যারা তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাবের প্রতি প্রকৃত বিশ্বস্ত ছিল এবং যারা বৈষয়িক স্বার্থোদ্ধার ও স্বাদ আস্বাদনের সীমা ছাড়িয়ে যেত না। সত্যপ্রিয়তার খাতিরে তারা যখন দৃঢ়ভাবে প্রত্যেকটি বিপদের মোকাবিলা করে, প্রত্যেকটি ক্ষতি ও কষ্ট বরদাশত করে এবং নিজেদের প্রবৃত্তির কামনা থেকে নিয়ে বহিরাগত দীনের শত্রুদের পর্যন্ত প্রত্যেকের বিরূদ্ধে চূড়ান্ত সংগ্রামে লিপ্ত হয় তখনই তারা দুনিয়ায় নেতৃত্বের আসনে বসে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে আরবের কাফেরদেরকে এ মর্মে সতর্ক করা যে, আল্লাহর কিতাবের অবতরণ যেমন বনী ইসরাঈলের ভাগ্যের ফায়সালা করেছিল তেমনিভাবে এ কিতাবের অবতরণও আজ তোমাদের ভাগ্যের ফায়সালা করে দেবে। এখন তারাই নেতৃত্বের আসন অলংকৃত করবে যারা একে মেনে নিয়ে ধৈর্য ও অবিচলতার সাথে সত্যের অনুসরণ করে চলবে। যারা এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাদের ভাগ্যবিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
পাঠক,লক্ষ করুন,এখানে মওলানা মউদুদী সাহেব রাসুল(সাঃ) ঘোষিত ইমামত তথা ১২ ইমামকে স্বীকার করেননি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

