আজ আমার জীবনের একটা বিশেষ দিন,আজ তার সাথে দেখা করতে যাব।কার সাথে?এখন বলা যাবে না।যাবেনা ঠিক না যাচ্ছে না,মরবার ঘুমের জন্য যাচ্ছে না।যে দিন কোন কাজ থাকেনা,সেদিন ভোর পাচঁটায় ঘুম ভেঙ্গে যায়,আর ঘুম আসেনা।বালিশ মাথার নীচে,পায়েরনিচে,এমনকি খাটের নীচে দিয়ে শুই তবু ঘুম আসেনা।আর যেদিন কাজ থাকে,সেদিন চোখ খোলা যায় না,মনে হয় কেউ মাস্টার গাম দিয়ে চোখের পাতা জোড়া দিয়ে দিয়েছে।দাঁত মাজতে গিয়ে মাজন পাউডার এর বদলে গুড়া সাবান দিয়ে দাঁত মেজে ফেলি।নাস্তার সময় মনে হয় সেদ্ধ ডিম না সাবান কচ কচ করে খাচ্ছি,চা মনে হয় সাবান গোলা পানি।জগত সংসার কেবল সাবান আর সাবান,যেন সাবান রাজ্য।আজও আমার চোখ থেকে ঘুম যাচ্ছে না,ঘুমে মাথা হাঁটুতে গিয়ে ঠেকেছে।চোখ বুজে পনের মিনিট ধরে ভাজি দিয়ে রুটি খাচ্ছি,স্বাদ পাচ্ছি না।এতক্ষনে মাত্র অর্ধেক রুটি খেয়েছি,বাকি অর্ধেক আমার হাতে।মনে হচ্ছে যেন জন্মের পর রুটি থেকে খেয়ে যাচ্ছি।কে যেন আমার পাশে এসে বসে।
‘পত্রিকার প্রথম পাতাটা কোথায়?’ গলা শুনে বুঝতে পারি বাবা পাশে বসে পত্রিকার প্রথম পাতা খুজছেন।আর তখনি এক ভয়ের শিহরন আমার মেরুদন্ড দিয়ে বেয়ে নেমে যায়।আমি দেখি আমি এতক্ষন রুটি খাচ্ছিলাম না!আমার হাতে অর্ধেক খাওয়া পত্রিকা ।হাতের অর্ধেক দ্রুত টেবিলের নিচে ফেলে দিয়ে এক গ্লাস পানি দ্রুত খেয়ে উঠে যাই।সঙ্গে সঙ্গে আমার বুক চিরে ঢেকুর আসে বাবা কেম্ন করে যেন তাকান।আমি বুঝে যাই বাবা যদি বুঝতে পারেন আমি পত্রিকা খেয়ে ফেলেছি তাহলে রুটি না খেয়ে আমাকেই খাবেন।ভাজি ছাড়াই খাবেন। ঘর থেকে বের হতেই আবার ঢেকুর আসে,ঢেকুরের আওয়াজটা এরকম ব-য়,ল-য়,দ-য়।মনে হয় খেয়ে ফেলা পত্রিকার অক্ষর গুলো বের হয়ে আসছে।তার পর ও তার সাথে দেখা করতে বের হই।কার সাথে?আমার পত্রমিতার সাথে।ছয় মাস ধরে একটা মেয়ের সাথে মিতালি করছি ।পত্রমিতালি। মেয়েটার নাম গোধুলি। আমি আদর করে বলি-ধূলি। সে আমাকে আদর করে ডাকে -সখা।
চিঠির শেষে কবিতা লেখে- ‘ধরনির যেথা যাও তুমি সখা
তব চরন যাবে ধুলি চুমিয়া’
বাহ বাহ কবিতা পড়ে আমি অভি+ভূত।তখনি আমি তাকে ভালবেসে ফেলি।আজ তার সাথেই দেখা করতে যাচ্ছি।এটা আমাদের প্রথম সাক্ষাত তাই কিছুটা রোমাঞ্চিত।এই জন্য এতক্ষন বুঝি নি যে জ্যামে আটকা পড়ে আছি।আমার কাছে বারবার একটা রহস্য-জখন রিক্সায় চড়ি মনে হয় গাড়ি গুলাই জ্যাম বাঝিয়েছে,এছে করে গাড়ি গুলো নিয়ে বুড়িগঙ্গার ময়লা কালো পানিতে চুবাই, আবার যখন গাড়ীতে থাকি মনে হয় রিক্সা গুলোই জ্যাম বাঝিয়েছে,মুর্খ রিক্সাচাল্ক গুলো নিয়ম জানে না জ্যাম লাগিয়ে দেয়,রিক্সাগুলোর নাটবল্টু খুলে যদি বিক্রি করতে পারতাম।
কত সময় রিক্সাই বসে আছি জানিনা,অগত্য রিকসা থেকে নামে হাটা দিই।পথে দেখা হই শিমুল এর সাথে।সে বলে কই যাস?? আমি বলি :- কোথাওনা,এমনে ঘুরি।মুখ ফসকে ধুলরি কথা বের হয়ে যাচ্ছিল,ভাগ্যিস বলিনি। “এমনেই” শিমুল আবাক হই।তারপর “আয় চল” বলে টেন আমায় এক রিকসায় তুলে বলে “ ওই টান ” ধুলির সাথে আজ আর বুঝি দেখা হলোনা, শিমুইলা ছার পোকা থেকে আজ কখন ছাড়া পাই কে জাণে? একটা দীঘশ্বাস ফেলি । ঠিক তখনই শিমুল রাস্তার পাশের এক বাড়ীর ছাদে বসা বুড়িকে বলে :- “আসসালামুআলইকুম নানি,আইজকা শরীর ভালো?” আমি আবাক হই ! এই আলিশান বাড়ী শিমুলদের নানা বাড়ী? আমি প্রশ্ন কার “ওনি তোর নানি?”
বাকি আংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


