তোমাদের এ অঙ্গনে আমি এখনো ভ্রূণ,
আমার কবিতাগুলো এখনও অপ্রকাশিত।
তোমার সমালোচনা করার স্পর্ধা আমার নেই
তবু আমি সাহসী,প্রতিবাদী
বিপ্লবীরা কেমন হয় তা তো তোমার জানা
কেন কর তুমি তাদের সমালোচনা?
একটা ব্যাপারে তোমাকে নিয়ে আমার গর্ব
তুমি সত্য প্রকাশে অকুতোভয়,নির্ভীক
তুমি এদেশের স্বাধীনতার সহযোদ্ধা।
হুলিয়ার সেই কমিউনিষ্ট নেতা
ছিল কী তোমার মত স্বাধীনচেতা?
বারহাট্টায় রফিজের কাছে তুমি অচেনা
হয়তো সময়ের পটপরিবর্তনে
যারা তোমার নামে দিয়েছে হুলিয়া
তারই ফলে রফিজ গেছে তোমাকে ভুলিয়া।
বাড়িতে দেখেছ লেনিন, কার্ল মার্কসের ছবি
কী ছিল তোমার সেদিনের অনুভূতি?
সেটি থাকবে আমার কাছে অজানা
কিন্তু আমি হলে গর্ব করতাম এই ভেবে:
তারা করেছিল নব বিপ্লব।
তোমার প্রেমাংশুর রক্ত চাই
অসাধারণ সাহসী চেতনায়
দুর্বার বেগে এনে দেয় তেজ;
তাদের সব ষড়যণ্ত্র ভেঙ্গে একাকার
সাম্যবাদী উদ্বেলিত চেতনার সমাহার ।
তোমার অসমাপ্ত কবিতা
আমার চেতনার তরবারিকে শাণ দিয়েছে।
বিরুদ্ধবাদীদের সব নাগপাশ
ছিন্ন করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার
উৎসাহ তুমি দিবে কী আমায়?
তুমি হৃদয়ের মতো মারাত্বক
একটি আগ্নেয়াস্ত্র জমা দাও নি
তাই তুমি বৃদ্ধ বয়সেও চিরযুবা,প্রদীপ্ত,
দৃঢ়,সত্যান্বেষী কিংবা সাহস হারাও নি।
আমি আজ রক্ত চাইতে আসি নি
তুমি কী শেখ মুজিবকে ভালোবাসো নি?
যার আহবানে ছিল ৭ মার্চ উত্তাল
যার বক্তৃতায় ছিল অগ্নিঝরা স্ফুলিঙ্গ।
আমি বলি তুমি দেখেছ জীবনের সাতকাহন
কিংবা লাখো মানুষের উত্থান-পতন।
মুজিব মানে মুক্তি,
আমিও করি তাকে ভক্তি।
এই বঙ্গভূমির বুকে
আর একটি শিশু আসার আগে
নিপাত যাক শোষণের গণতণ্ত্র,
তোমার সাথে আমার একাত্মতা
তার আগে চাই সমাজতন্ত্র।
স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো
তুমি কবিতায় যেভাবে আমাদের বল
তার সাথে নেই ইতিহাসের পুরোপুরি মিল।
স্বাধীনতা কী রঙ্গমঞ্চ?
নাকি সিনেমার থ্রিল?
তাই সত্য কিনা যদি সন্দেহে মরো
লেনিন বন্দনা কেন তবে করো?
কমরেড জ্যোতিষ বসুর মত
এমনি নীরবে আমিও
একদিন চলে যেতে যাই,
হে কবি, তুমি কী বাধা দিবে আমায়?
১২।০৬।০৫, ফেনী সরকারি কলেজ মাঠ, ফেনী।
(আজ অন্যতম প্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণের জন্মদিন। তাই আমার লিখা এ কবিতাটি পোস্ট করা।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



