somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন এখন পাহাড়াদার!

১১ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৯:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে দেশমাতৃকাকে শত্রু মুক্ত করতে ১৯৭১ সালে জীবনকে বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন জয়নাল আবেদীন। পাকহানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করলেও জীবনযুদ্ধে এখন সে পরাজিত।
সম্প্রতি কথা হয় মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের সাথে। ষাট বছর বয়সী জয়নাল আবেদীন নদীতে সর্বস্ব হারিয়ে বর্তমানে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঘোলাগাড়ী গ্রামে কোন রকমে মাথা গোজার জায়গাকে আশ্রয় করে আছেন। তার পরিবারের ৪ সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দিতে এই বয়সেও তাকে কাজ করতে হয়। তিনি বাসষ্ট্যান্ড ব্যবসায়ী সমিতির একজন পাহাড়াদার হিসাবে কাজ করছেন। রাত ৯টা থেকে ভোর পর্যন্ত তাকে ২০০টি দোকান পাহাড়া দেবার কাজ করতে হয়।
একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে গর্ব বোধ করলেও মানুষ হিসাবে অনেক বঞ্চনার শিকার হয়ে তিনি অসহায় বোধ করেন। দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মাসিক সম্মানী ভাতা পেলেও বিগত বিএনপি সরকারের আমলে রাজনৈতিক শঠতার কারনে ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। তিনি এখন আর সম্মানী ভাতা পাননা।
তিনি জানান, তিনটি তালিকায় অর্ন্তভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্বেও জীবনযাপনে তিনি অনেক কষ্টভোগ করছেন।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মে মাসে তার এলাকার ৫০/৬০ জন যুবকের সঙ্গে নৌকাযোগে তিনি ভারতের বালুঘাট গিয়ে পৌছান। সেখান থেকে শিলিগুড়ি হয়ে পানিঘাটা ক্যাম্পে ২১ দিনের হায়ার ট্রেনিং গ্রহন শেষে দিনাজপুরে ফেরেন যুদ্ধ করার জন্য। বাহদুরাবাদ ফেরিঘাট পার হয়ে ময়মনসিংহে পাকসেনাদের সাথে তাদের যুদ্ধ হয়। তিনি সহযোদ্ধাদের সাথে সরিষাবাড়ী,কাঠালিয়া মির্জাপুর,জগন্নাথঘাট এলাকায় সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন। চুড়ান্ত বিজয়ের পর বঙ্গবন্ধুর আহবানেই অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাধীন দেশে ধানচালের ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু যমুনা নদী তার সর্বস্ব কেড়ে নেয়ায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থেকে তিনি চলে আসেন শেরপুর এলাকায়। কিন্তু এখানে তিনি জীবনযুদ্ধে পরাজিত হন। এখন তিনি দুই বছর যাবত পাহাড়াদারে কাজ করছেন।
তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিয়ে জীবদ্দশায় রাষ্ট্রীয় সম্মান দেয়া জরুরী।
মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদন দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মধ্যে অবহেলিত একজন। এরকম হাজারো জয়নাল আবেদীন আছে আমাদের আশে পাশে। তার সাথে আলাপ হবার পর তার ছবি তুলি এবং দায়িত্ববোধ থেকে পত্রিকায় নিউজ পাঠাই। দেশে অনেক সামর্থবান ব্যক্তি আছেন যারা ইচ্ছা করলে একেক জন দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধার দায়িত্ব নিতে পারেন। যাদের রক্তের-সাহসের-ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের এই বাংলাদেশ তাদের দুর্দশা কি আমাদের কাম্য হতে পারে?
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×