
ধরায় যখন খুন-জখমের জমছে গহিন অন্ধকার,
মানবতার লাশ পঁচেছে—চতুর্দিকেই গন্ধ তার,
মানুষগুলো বনমানুষে বদলে গেছে আপনাতেই,
খেই হারিয়ে নেই হয়েছে শান্তি ও সুখ সেই সাথেই;
ঊষর মরুর ধূসর বুকে আসর যখন শয়তানের
রাসূল তুমি ফুটলে গোলাপ বিরান মরুর-ময়দানের।
মরুর বাঁকের তরুর শাঁখের বুলবুলিদের ফুটল বোল,
প্রেমের নেশায় আবির হলো বিষ-নাগিনীর নীল-ছোবল।
আরব ভূমির গরব তুমি মায়ের নয়ন-পুত্তলি
ভুল-গলিতে নও গো পথিক,বন-গোলাপের ফুলকলি!
চতুর্দিকের কাতরধ্বনি তোমায় করে বিক্ষত—
মুক্তি পাওয়ার উপায় পেতে গুহায় হলে ধ্যানরত।
ধরার বুকে কুরআন নিয়ে আসল নেমে জিবরায়েল—
ঝঞ্ঝা-বাণীর ঝনঝনিতে এক নিমেষে সব ঘায়েল।
মক্কা-পুরের নিঃস্ব-এতিম ওগো চির-বিশ্বাসী,
সত্য যখন ধরলে তুলে কেবল পেলে বিষ-শ্বাসই।
সত্য তো নয় তথ্য শুধু— পাষাণ থেকেও ভার বেশি
মর্তে তারই করতে প্রচার ছাড়তে হলো নিজ দেশই।
ইয়াসরিবের কুটির তোমার পরশে হলো আপ্লুত,
কণ্টক হলো পুষ্পিত আর হর্ষে হলো পাপ পূত!
অসভ্য এই বিশ্বে এল সোপান নতুন সভ্যতার,
সন্ন্যাসীরা ফিরল গৃহে—বিনাশ হলো অজ্ঞতার।
আরব থেকে তোমার বাণী পৌঁছে গেল কর্ডোভায়—
বদ্ধ কুয়ায় আসলো জোয়ার, উঠল হাওয়ার ঝড় ডোবায়!
আজকে কোথায় ঝঞ্ঝা-জোয়ার,কোথায় ঢেউয়ের খঞ্জনি!
পৃথ্বী-জুড়ে দৈত্য-দানোর মত্ত অসির ঝনঝনি।
উম্মাহ তোমার সুরমা চোখে করছে শুধুই ভোগ-বিলাস—
হায়! অভাগা বুঝতে কি পায় এমনি হবে আপনি লাশ?
আর কতকাল গোপন হয়ে আপনগৃহে অন্তরীণ?
নও-জোয়ারের শুনছি ধ্বনি, সেই আশাতেই গুনছি দিন।
—মরু-গোলাপের কাব্য
স্নিগ্ধ মুগ্ধতা
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৭:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




