somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সিন্ধ, বালুচ ও পাখতুনদের প্রেরণা মুজিব

১১ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৮:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিএনপি নামে পাকিস্তানেও একটি দল আছে। পুরো নাম বেলুচিস্তান ন্যাশনালিস্ট পার্টি। এই দলের নেতা ও বেলুচিস্তানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আখতার জান মেঙ্গল ২০১২ সালে মুসলিম লিগের নেতা নওয়াজ শরিফের (তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী নন, বিরোধী দলের নেতা) সঙ্গে দেখা করে বেলুচিস্তানের জন্য ছয় দফা দাবিনামা পেশ করেছিলেন। এই ছয় দফায় বেলুচিস্তানে সামরিক অভিযানের অবসান, রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা ও গুম করার জন্য যারা দায়ী, তাদের বিচার এবং বালুচদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল।
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে মেঙ্গল বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ক্ষমতা হারানোর পর কারাগারে। পাকিস্তানের নেতাদের জন্য গদি ও জেলখানার দূরত্ব খুবই সামান্য। খুব কম নেতাই আছেন, যাঁরা ক্ষমতা হারানোর পর জেলে যাননি। মেঙ্গল জেলখানা থেকে বেরিয়ে লন্ডনে চলে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে আবার বালুচদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেন। ইতিমধ্যে বেলুচিস্তানে আরেক পরিবর্তন ঘটে গেছে। প্রতিদিনই সেনাবাহিনীর হাতে লোক মরছে। মানুষ গুম হচ্ছে। পারভেজ মোশাররফের শাসনের শেষ দিকে ঠান্ডা মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় প্রবীণ বালুচ নেতা আকবর খান বুঘতিকে। এ ঘটনা বালুচদের খেপিয়ে তোলে।
দীর্ঘদিন লন্ডনে নির্বাসনে থাকার পর ফিরে আখতার জান মেঙ্গল সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতেও ছয় দফা দাবি তুলে বলেন, এটাই বেলুচিস্তানে শান্তি আনার একমাত্র পথ। নওয়াজ শরিফের সঙ্গে আলোচনাকালে মেঙ্গল আরও বলেছিলেন, এই ছয় দফা কোনোভাবেই বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার সঙ্গে ভিন্ন ভাবা ঠিক হবে না। ছয় দফা বাস্তবায়ন না হলে বেলুচিস্তানের জনগণের পাকিস্তানের সঙ্গে থাকা সম্ভব হবে না।
এভাবেই বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতা শেখ মুজিব এখনো পাকিস্তানের সংখ্যালঘু জাতিসত্তার আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করছেন। পাকিস্তানে পাঠান বা পাখতুনরা প্রথম জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা করেন। পাখতুন নেতা খান আবদুল গাফফার খান কখনোই পাকিস্তান মেনে নিতে পারেননি। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের পক্ষের গণভোট তিনি বর্জন করেছিলেন। তারপরও মুসলিম লিগ ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। গাফফার খানের ছেলে ওয়ালি খান ছিলেন বাম ধারার নেতা। ভুট্টোর সঙ্গে একাধিকবার বিরোধে জড়িয়েছেন। জেল খেটেছেন। বিরোধের একপর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমাদের দুজনের জন্য একটি কবর খোঁড়া হয়েছে, কে আগে ঢুকবে, সেটাই প্রশ্ন।’
কট্টর পাকিস্তানবাদীদের প্রতি ওয়ালি খানের বিখ্যাত উক্তি: আমি ৬ হাজার বছর ধরে পাখতুন, ১৩০০ বছর ধরে মুসলমান ও ২৫ বছর ধরে পাকিস্তানি।
১৯৯০ সালে নির্বাচনের পর তিনি বলেছিলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিক প্রথমে সিন্ধ, পশতুন, বালুচ ও পাঞ্জাবি ভাবেন। তাঁরা কেউ নিজেদের পাকিস্তানি ভাবেন না। বৃহত্তর প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ওপরই পাকিস্তানের অস্তিত্ব নির্ভর করছে। কিন্তু ক্ষুদ্রতর স্বায়ত্তশাসনও তাঁরা ভোগ করতে পারছেন না। যদিও পিপিপি সরকারের আমলে সীমান্ত প্রদেশের নাম পাল্টিয়ে খাইবার পাখতুনখাওয়া করা হয়েছে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর যেসব পাকিস্তানি নেতা আওয়ামী লীগের ছয় দফার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন ওয়ালি খান। ১৯৭৩ সালের সংবিধানে তিনি পাখতুন ও বালুচদের অধিকতর স্বায়ত্তশাসন দাবি করলে ভুট্টো ১০ বছরের মধ্যে তা পূরণ করার আশ্বাস দেন। ওয়ালি খান, বালুচ নেতা আতাউল্লাহ মেঙ্গল ও গাউস বক্স বেজেঞ্জো তাঁর কথায় আশ্বস্ত হয়ে সীমান্ত প্রদেশ ও বেলুচিস্তানে ন্যাপের সরকার গঠন করলেও কয়েক মাসের ব্যবধানে ভুট্টো তাঁদের ক্ষমতাচ্যুত করেন। এই হলো পাকিস্তানি ফেডারেল শাসনের নমুনা।

১৯৬৯ সালে আইয়ুবের পতনের পর ইয়াহিয়া ক্ষমতায় এসে এক ইউনিট ভেঙে দেন। এটি ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যালঘু তিন জাতির প্রাথমিক বিজয়। চূড়ান্ত বিজয় হয়তো এখনো অনেক দূরে
দুই.
৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১। সিন্ধুর প্রবীণ জাতীয়তাবাদী নেতা জি এম সৈয়দ ঢাকায় এসে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে দেখা করেন। দুই নেতার সঙ্গে কথা হয় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। আলোচনার একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করে জি এম সৈয়দ বললেন, ভুট্টো সামরিক শাসকদের সঙ্গে মিলে চক্রান্ত করছেন। ওদের আসল উদ্দেশ্য হলো, আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা। সৈয়দের প্রত্যাশা, ‘যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে, তাহলে আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব; যাতে নির্যাতিত সিন্ধ, বালুচ ও পাঠানদের অধিকার রক্ষা হবে। একটি বহুজাতিক ইউনিয়নের মধ্যে তারা বসবাস করতে পারবে।’
সত্তরের নির্বাচনের আগে জি এম সৈয়দ বালুচ ও পাঠান নেতাদের সহায়তা চাইলেন এবং বেশির ভাগ একমত হলেন যে এই মুহূর্তে তাঁদের উচিত আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা। আওয়ামী লীগের ছয় দফার ভিত্তিতে পাকিস্তান পুনর্গঠিত হলে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা পাবে এবং পাঞ্জাবিদের কর্তৃত্ব কমবে।
১৯৬৬ সালে লাহোরে বিরোধী দলের নেতাদের এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেন। রক্ষণশীল দলগুলোর নেতারা ছয় দফা নিয়ে আলোচনায় আপত্তি জানালেও সিন্ধুর জাতীয়তাবাদী নেতা জি এম সৈয়দ ও আবদুল মজিদ সিন্ধিসহ অনেকেই সমর্থন করেছিলেন। এ ব্যাপারে সৈয়দের ভাষ্য: শেখ মুজিবের ছয় দফা প্রস্তাব যেমন পূর্ব বাংলায় ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল, তেমনি সিন্ধু, বেলুচিস্তান ও সীমান্ত প্রদেশের মানুষও স্বাগত জানিয়েছিল। এরপর পশ্চিম পাকিস্তানে এক ইউনিটের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার হয়। ১০ আগস্ট ১৯৬৬ সিন্ধু মুত্তাহিদা মাহাজ-এর উদ্যোগে শেখ মুজিবকে করাচির মেট্রোপলিটন হোটেলে একটি সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সেখানে জি এম সৈয়দ বলেন, ‘আমরা আপনার ছয় দফাকে সমর্থন করি। কেননা, এতে প্রতিটি প্রদেশের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের কথা আছে। এর পাশাপাশি এক ইউনিট–বিরোধী আন্দোলনে সমর্থন চাই।’
জি এম সৈয়দের মতে, ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণার পর পাঞ্জাবি সামরিক ও বেসামরিক আমলা চক্র ভুট্টোকে নকল হিরো বানিয়ে মাঠে নামায়। ৯ মার্চ ১৯৬৯-এ মুত্তাহিদা মাহাজ সভা ডেকে শেখ মুজিবের ছয় দফার অনুসরণে আরেকটি দাবিনামা পেশ করে, যাতে এক ইউনিট ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত করা, সিন্ধুর অর্থনৈতিক মুক্তি, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল; যা আওয়ামী লীগের ছয় দফার কাছাকাছি।
১৯৬৯ সালে আইয়ুবের পতনের পর ইয়াহিয়া ক্ষমতায় এসে এক ইউনিট ভেঙে দেন। এটি ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যালঘু তিন জাতির প্রাথমিক বিজয়। চূড়ান্ত বিজয় হয়তো এখনো অনেক দূরে। (শেষ) বিএনপি নামে পাকিস্তানেও একটি দল আছে। পুরো নাম বেলুচিস্তান ন্যাশনালিস্ট পার্টি। এই দলের নেতা ও বেলুচিস্তানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আখতার জান মেঙ্গল ২০১২ সালে মুসলিম লিগের নেতা নওয়াজ শরিফের (তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী নন, বিরোধী দলের নেতা) সঙ্গে দেখা করে বেলুচিস্তানের জন্য ছয় দফা দাবিনামা পেশ করেছিলেন। এই ছয় দফায় বেলুচিস্তানে সামরিক অভিযানের অবসান, রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা ও গুম করার জন্য যারা দায়ী, তাদের বিচার এবং বালুচদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল।
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে মেঙ্গল বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ক্ষমতা হারানোর পর কারাগারে। পাকিস্তানের নেতাদের জন্য গদি ও জেলখানার দূরত্ব খুবই সামান্য। খুব কম নেতাই আছেন, যাঁরা ক্ষমতা হারানোর পর জেলে যাননি। মেঙ্গল জেলখানা থেকে বেরিয়ে লন্ডনে চলে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে আবার বালুচদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেন। ইতিমধ্যে বেলুচিস্তানে আরেক পরিবর্তন ঘটে গেছে। প্রতিদিনই সেনাবাহিনীর হাতে লোক মরছে। মানুষ গুম হচ্ছে। পারভেজ মোশাররফের শাসনের শেষ দিকে ঠান্ডা মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় প্রবীণ বালুচ নেতা আকবর খান বুঘতিকে। এ ঘটনা বালুচদের খেপিয়ে তোলে।
দীর্ঘদিন লন্ডনে নির্বাসনে থাকার পর ফিরে আখতার জান মেঙ্গল সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতেও ছয় দফা দাবি তুলে বলেন, এটাই বেলুচিস্তানে শান্তি আনার একমাত্র পথ। নওয়াজ শরিফের সঙ্গে আলোচনাকালে মেঙ্গল আরও বলেছিলেন, এই ছয় দফা কোনোভাবেই বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার সঙ্গে ভিন্ন ভাবা ঠিক হবে না। ছয় দফা বাস্তবায়ন না হলে বেলুচিস্তানের জনগণের পাকিস্তানের সঙ্গে থাকা সম্ভব হবে না।
এভাবেই বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতা শেখ মুজিব এখনো পাকিস্তানের সংখ্যালঘু জাতিসত্তার আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করছেন। পাকিস্তানে পাঠান বা পাখতুনরা প্রথম জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা করেন। পাখতুন নেতা খান আবদুল গাফফার খান কখনোই পাকিস্তান মেনে নিতে পারেননি। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের পক্ষের গণভোট তিনি বর্জন করেছিলেন। তারপরও মুসলিম লিগ ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। গাফফার খানের ছেলে ওয়ালি খান ছিলেন বাম ধারার নেতা। ভুট্টোর সঙ্গে একাধিকবার বিরোধে জড়িয়েছেন। জেল খেটেছেন। বিরোধের একপর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমাদের দুজনের জন্য একটি কবর খোঁড়া হয়েছে, কে আগে ঢুকবে, সেটাই প্রশ্ন।’
কট্টর পাকিস্তানবাদীদের প্রতি ওয়ালি খানের বিখ্যাত উক্তি: আমি ৬ হাজার বছর ধরে পাখতুন, ১৩০০ বছর ধরে মুসলমান ও ২৫ বছর ধরে পাকিস্তানি।
১৯৯০ সালে নির্বাচনের পর তিনি বলেছিলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিক প্রথমে সিন্ধ, পশতুন, বালুচ ও পাঞ্জাবি ভাবেন। তাঁরা কেউ নিজেদের পাকিস্তানি ভাবেন না। বৃহত্তর প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ওপরই পাকিস্তানের অস্তিত্ব নির্ভর করছে। কিন্তু ক্ষুদ্রতর স্বায়ত্তশাসনও তাঁরা ভোগ করতে পারছেন না। যদিও পিপিপি সরকারের আমলে সীমান্ত প্রদেশের নাম পাল্টিয়ে খাইবার পাখতুনখাওয়া করা হয়েছে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর যেসব পাকিস্তানি নেতা আওয়ামী লীগের ছয় দফার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন ওয়ালি খান। ১৯৭৩ সালের সংবিধানে তিনি পাখতুন ও বালুচদের অধিকতর স্বায়ত্তশাসন দাবি করলে ভুট্টো ১০ বছরের মধ্যে তা পূরণ করার আশ্বাস দেন। ওয়ালি খান, বালুচ নেতা আতাউল্লাহ মেঙ্গল ও গাউস বক্স বেজেঞ্জো তাঁর কথায় আশ্বস্ত হয়ে সীমান্ত প্রদেশ ও বেলুচিস্তানে ন্যাপের সরকার গঠন করলেও কয়েক মাসের ব্যবধানে ভুট্টো তাঁদের ক্ষমতাচ্যুত করেন। এই হলো পাকিস্তানি ফেডারেল শাসনের নমুনা।

১৯৬৯ সালে আইয়ুবের পতনের পর ইয়াহিয়া ক্ষমতায় এসে এক ইউনিট ভেঙে দেন। এটি ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যালঘু তিন জাতির প্রাথমিক বিজয়। চূড়ান্ত বিজয় হয়তো এখনো অনেক দূরে
দুই.
৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১। সিন্ধুর প্রবীণ জাতীয়তাবাদী নেতা জি এম সৈয়দ ঢাকায় এসে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে দেখা করেন। দুই নেতার সঙ্গে কথা হয় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। আলোচনার একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করে জি এম সৈয়দ বললেন, ভুট্টো সামরিক শাসকদের সঙ্গে মিলে চক্রান্ত করছেন। ওদের আসল উদ্দেশ্য হলো, আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করা। সৈয়দের প্রত্যাশা, ‘যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে, তাহলে আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব; যাতে নির্যাতিত সিন্ধ, বালুচ ও পাঠানদের অধিকার রক্ষা হবে। একটি বহুজাতিক ইউনিয়নের মধ্যে তারা বসবাস করতে পারবে।’
সত্তরের নির্বাচনের আগে জি এম সৈয়দ বালুচ ও পাঠান নেতাদের সহায়তা চাইলেন এবং বেশির ভাগ একমত হলেন যে এই মুহূর্তে তাঁদের উচিত আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা। আওয়ামী লীগের ছয় দফার ভিত্তিতে পাকিস্তান পুনর্গঠিত হলে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা পাবে এবং পাঞ্জাবিদের কর্তৃত্ব কমবে।
১৯৬৬ সালে লাহোরে বিরোধী দলের নেতাদের এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেন। রক্ষণশীল দলগুলোর নেতারা ছয় দফা নিয়ে আলোচনায় আপত্তি জানালেও সিন্ধুর জাতীয়তাবাদী নেতা জি এম সৈয়দ ও আবদুল মজিদ সিন্ধিসহ অনেকেই সমর্থন করেছিলেন। এ ব্যাপারে সৈয়দের ভাষ্য: শেখ মুজিবের ছয় দফা প্রস্তাব যেমন পূর্ব বাংলায় ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল, তেমনি সিন্ধু, বেলুচিস্তান ও সীমান্ত প্রদেশের মানুষও স্বাগত জানিয়েছিল। এরপর পশ্চিম পাকিস্তানে এক ইউনিটের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার হয়। ১০ আগস্ট ১৯৬৬ সিন্ধু মুত্তাহিদা মাহাজ-এর উদ্যোগে শেখ মুজিবকে করাচির মেট্রোপলিটন হোটেলে একটি সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সেখানে জি এম সৈয়দ বলেন, ‘আমরা আপনার ছয় দফাকে সমর্থন করি। কেননা, এতে প্রতিটি প্রদেশের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের কথা আছে। এর পাশাপাশি এক ইউনিট–বিরোধী আন্দোলনে সমর্থন চাই।’
জি এম সৈয়দের মতে, ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণার পর পাঞ্জাবি সামরিক ও বেসামরিক আমলা চক্র ভুট্টোকে নকল হিরো বানিয়ে মাঠে নামায়। ৯ মার্চ ১৯৬৯-এ মুত্তাহিদা মাহাজ সভা ডেকে শেখ মুজিবের ছয় দফার অনুসরণে আরেকটি দাবিনামা পেশ করে, যাতে এক ইউনিট ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত করা, সিন্ধুর অর্থনৈতিক মুক্তি, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল; যা আওয়ামী লীগের ছয় দফার কাছাকাছি।
১৯৬৯ সালে আইয়ুবের পতনের পর ইয়াহিয়া ক্ষমতায় এসে এক ইউনিট ভেঙে দেন। এটি ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যালঘু তিন জাতির প্রাথমিক বিজয়। চূড়ান্ত বিজয় হয়তো এখনো অনেক দূরে। (শেষ)
http://www.prothom-alo.com/opinion/article/598924
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ৮:০৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাবধানের মার্ নেই

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩১


নিউ ইয়র্ক থেকে ফিরার পথে নিউ আর্ক্ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যখন এরোপ্লেনে উঠে নির্দিষ্ট সীটের কাছে পৌঁছলাম দেখলাম এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক জানালার পাশের সিটটাতে অলরেডি বসে আছেন। আইল ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×