somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল কায়েদা নাটকটা রেসমা নাটকের চাইতে দুর্বল হয়ে গেল না ?ヅ

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে জেহাদের আহ্বান সংবলিত কথিত এ অডিও বার্তার খবর প্রচারের পর প্রথম যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয় তা হলো সত্যিই এটা আলকায়েদা প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির বক্তব্য কি না। আর তা কারা কিভাবে এটি ইন্টারনেটে ছাড়ল এবং এর উদ্দেশ্যই বা কী এ নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা।

অডিও বার্তাটি আলকায়েদার কি না এ নিয়ে প্রশ্ন জাগার কারণ হলো প্রচারিত অডিও বার্তাটিতে আয়মান আল জাওয়াহিরির স্থিরচিত্র দেখানো হয়েছে। রেকর্ডকৃত আরবিতে প্রচারিত কণ্ঠস্বর আয়মান আল জাওয়াহিরির বলে দাবি করা হয়েছে। সরাসরি তার ভিডিও বক্তব্য নয় এটি। আরবিতে অডিও বক্তব্যের নিচে তার অর্থ ইংরেজিতে লিখিত আকারে দেখানো হয়েছে পর্দায়।

এখন পর্যন্ত আলকায়েদার যত অডিও ভিডিও রেকর্ড প্রচার করা হয়েছে তার বেশির ভাগই কাতারভিত্তিক আলজাজিরা টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে নিয়ে আলকায়েদার বলে প্রচারিত ভয়াবহ একটি অডিও বার্তা সত্যিকার অর্থে কে কোথা থেকে কবে প্রথম প্রচার করেছে তা নিয়ে সন্দেহ সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ আলকায়েদার মিডিয়া শাখা আস সাহাবের ওয়েবসাইটে গতকাল সন্ধ্যার পর এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি এ বিষয়ে।

গত শনিবার দুপুরের পর বাংলাদেশের একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে আলকায়েদার অডিও বার্তা সম্পর্কিত খবরটি প্রচারিত হওয়ার পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। অনলাইনে প্রচারিত খবরে দাবি করা হয়েছে তাদের কাছে এ অডিও বার্তার একটি কপি রয়েছে। কিন্তু কোথা থেকে কিভাবে এ কপি তাদের কাছে এলো সে বিষয়ে বাংলায় পরিবেশিত খবরে কিছু বলা হয়নি। তবে অনলাইনটির ইংরেজি ভার্সনে প্রচারিত খবরে বলা হয়েছে জঙ্গি অডিও ভিডিও প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত একটি ওয়েবসাইটে এটি প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু ওয়েবসাইটের নাম ঠিকানা এবং কবে কিভাবে কারা সেখানে এটি প্রচার করেছে সে বিষয়ে কোনো কিছু বলা হয়নি। ইংরেজিতে পরিবেশিত খবরেও অনলাইনটি দাবি করেছে তাদের কাছে অডিও বার্তার একটি কপি রয়েছে।

শনিবার এ অনলাইন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচারের পরপর বাংলাদেশের অন্যান্য অনলাইন সংবাদমাধ্যম, দৈনিক সংবাদপত্রগুলো এ বিষয়ে ইন্টারনেটে আরো খোঁজখবর নেয় এবং গতকাল বিভিন্ন পত্রিকায় এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গুরুত্বসহকারে। দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত এসব খবরে অডিও বার্তাটির সূত্র হিসেবে ইউটিউব, ব্লগ, ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। সবাই লিখেছে এটি এখন ইউটিউব, বিভিন্ন ব্লগ, ফেসবুক, জিহাদোলজিসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এ অডিও বার্তাটি সর্বপ্রথম কারা কোথায় প্রচার বা প্রকাশ করেছে সে বিষয়ে কেউই নিশ্চিত তথ্য পরিবেশন করতে পারেনি। কোথাও লেখা হয়েছে দাওয়া ইলাল্লাহ ব্লগে এটি এ বছর ১৪ জানুয়ারি আপলোড করা হয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে জিহাদি ফোরামে এটি চলতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়েছে। জিহাদোলজি নামে একটি ব্লগে এ অডিও বার্তাটি দেখা গেছে এবং এর সূত্র হিসেবে তারা আলকায়েদার মিডিয়া শাখা আস সাহাবকে উল্লেখ করেছে। কিন্তু গতকাল রাতেও আস সাহাবের সাইটে এ বিষয়ে কিছু পাওয়া যায়নি এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্যও নেই। তবে পরিবেশিত খবরে সবাই একমত, অডিও বার্তাটি গত বছর নভেম্বর মাসে প্রস্তুত করা হয়েছে।

অডিও বার্তাটি কারা প্রকাশ ও প্রচার করেছে এ বিষয়ে অস্পষ্টতা এবং অডিও বার্তাটিতে আয়মান আল জাওয়াহিরির সরাসরি ভিডিও বক্তব্য না থাকায় গতকাল সব সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে সংশয়, সন্দেহ ও প্রশ্ন করা হয়েছে এটি আসলে সত্যি কি না। শুধু গত শনিবার দুপুরে যে অনলাইন সংবাদমাধ্যটি সম্প্রতি প্রথম এ খবরটি প্রচার করেছে তারা দাবি করেছে এর একটি কপি তাদের কাছে রয়েছে। কিন্তু কপির এ সূত্র বিষয়ে তাদের পরিবেশিত খবরেও রয়েছে নীরবতা।

তবে মজার বিষয় হলো নতুন দিন নামে একটি অনলাইনে গত বছর ২৯ নভেম্বর জাওয়াহিরির এ অডিও বার্তা নিয়ে একটি খবর প্রচার হয়। খবরটির হেডলাইন ছিল আলকায়েদা প্রধান জাওয়াহিরির বার্তা : বাংলাদেশে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে। নতুন দিন জানায়, আরবির পাশাপাশি বাংলা ভাষায় প্রকাশ করা একটি অডিও বার্তায় জাওয়াহিরি এ বক্তব্য প্রচার করেছে। বাংলাদেশ সময় ২৯ নভেম্বর শুক্রবার রাত ৩টায় ফেসবুকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পক্ষ থেকে এ ভিডিও বার্তাটি রিলিজ করা হয়।

নতুন দিন অনলাইনে এ অডিও বার্তাটির যে বিবরণ দেয়া হয়েছে তার সাথে মিল রয়েছে গত শনিবার প্রচারিত জাওয়াহিরির অডিও বার্তার সাথে। নতুন দিন অডিও বার্তার লিংক দেয়নি। তবে অডিও বক্তব্যের ধরন সম্পর্কে বলা হয়েছে আরবিতে প্রচারিত বক্তব্য জাওয়াহিরির বলে দাবি করে একজন বক্তব্য রাখে তাতে। ভিডিওতে জাওয়াহিরির স্থিরচিত্র দেখানো হয়েছে। এর সাথে হুবহু মিল রয়েছে গত শনিবার প্রচারিত বলে দাবিকৃত জাওয়াহিরির কথিত অডিও টেপের সাথে। তা ছাড়া নতুন অনলাইন যতটুকু অডিও বক্তব্য কোড করেছে তার সাথেও বেশ মিল রয়েছে শনিবারের অডিও বক্তব্যের সাথে। যেমন জাওয়াহিরি বলছেন বাংলাদেশে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে, ওলামাদের কারাবন্দী ও শহীদ করা হয়েছে। তবে নতুন দিন দাবি করেছে, অডিওটি ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ধারণ করা। জাওয়াহিরি সর্বশেষ ১৩ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য রাখে বলে দাবি নতুন দিনের।

নতুন দিনে প্রচারিত অডিও বার্তা বিষয়ে খবরে বলা হয়েছে আরবিতে বক্তব্যের পাশাপাশি বাংলা ভাষায় সাব টাইটেল ব্যবহার করা হয়েছে আরবির অর্থ প্রচারের ক্ষেত্রে। গতকাল ফেসবুকের একটি লিংকে নতুন দিনের এ খবরটির সন্ধান পাওয়া গেছে।

ইতঃপূর্বে আলকায়েদার যেসব অডিও টেপ বক্তব্য বিবৃতি প্রচারের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, অঞ্চল বা দেশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্র ইউরোপের যেসব দেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত তারাও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে এবং হুমকি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে পরস্পর যোগসাজশে কাজ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু এই প্রথম আলকায়েদার কথিত অডিওি টেপ প্রচারের পর এখন পর্যন্ত পশ্চিমা কোনো শক্তি এ বিষয়ে মুখ খোলেনি এবং সেসব দেশে এ নিয়ে তেমন কোনো খবর পরিবেশিত হতেও দেখা যায়নি।

বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তরের টকশো-তে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর অ্যামিরেটাস ড. জিল্লুর রহমান খান এ কথা বলেছেন, বাংলাদেশ দেশ নিয়ে আল-কায়েদা প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির বক্তব্য যে ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে তা আল-কায়েদার কোনো সাইট নয়। এমনকি এটি আল-কায়েদার কোনো কাছাকাছি সাইটও নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এতো খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে জাওয়াহিরির কথা বলবে তা মনে হয় না। এছাড়া জাওয়াহিরি খুব ভালোভাবেই জানেন বাংলাদেশ অন্যান্য মুসলিম দেশের মত নয়। এটি একটি মুসলিম মডারেট দেশ। যদি এই দেশ অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো হতো তাহলে গত এক বছরে যেসব সহিংসতা হয়েছে, তারপরে আজকে দেশের এই অবস্থা থাকতো না।

তিনি বলেন, ‘জিহাদের প্রকৃত অর্থ বা ব্যাখ্যা বিকৃত হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের স্কলারদের সাথে আলোচনা করে সবাই একমত হয়েছে যে, জিহাদ মানে মানবতার কল্যাণে সংগ্রাম। কিন্তু আল কায়েদা বা অন্যরা তা বিকৃত করেছে।’

এ সময় একাত্তর সংযোগে অংশ নিয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে হবে। যদি দেশীয় বিশেষজ্ঞরা তার সুরাহা করতে না পারে তাহলে বিদেশিদের সহযোগিতা নেয়া হতে পারে। তিনি বলেন, এখানে কোনো ভিডিও দেখানো হয়নি। কয়েটি অডিও বার্তা দেয়া হয়েছে। এই অডিওতে ভয়েস পরিবর্তনের কোনো কাজ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। বক্তব্যের ধরন আল-কায়েদার মতো নয়। তাদের অন্যান্য বক্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়া কেন্দ্রিক হয়ে থাকে। আর এই বক্তব্যে এমন কিছু নাম এসেছে যা আল-কায়দার জানার কথা নয়।

উপরের সবগুলো সমীকরণ মেলালে এই বিষয়টি ষ্পষ্ট হয় , আর তা হলো :
বালদের আল কায়েদা নাটকটা রেসমা নাটকের চাইতে দুর্বল হয়ে গেল । :P :P :P :P :P :P
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাও সে তুং-এর 'পিপলস কমিউন' ব্যবস্থা যেভাবে ৩-৪ কোটি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬



চীনের আধুনিকায়নে মাও সে তুং-এর নেওয়া সবচেয়ে বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরীক্ষাগুলোর একটি ছিল কৃষির সমবায়িকরণ এবং "পিপলস কমিউন" ব্যবস্থা, ১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থার মূল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার রিসাচ পেপার পাবলিশভ

লিখেছেন মোঃ মােজদুল ইসলাম, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:৩৪

Hailstorm, Rain, Dust The effect of Climate Change in Bangladesh
XXXX
IOSR Journal of Environmental Science, Toxicology and Food Technology
2319-2402
International Organization of Scientific Research
www.iosrjournals.org
Open Access Publishing
Blind Peer Review Process
Indexed Refereed Journal
20
06
10.9790/2402-2006020106 ...বাকিটুকু পড়ুন

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

একটি জাতিকে ধ্বংস করতে সব সময় যুদ্ধ লাগে না।
তার ভাষা, সাহিত্য, গান, নাটক, ইতিহাস আর সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দিলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×