somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আধার আমি
আমি শেষ রাতের অবহেলিত চাঁদ। যাকে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সমাজের বেশির ভাগ মানুষ দেখতে পারে না। ঘুমের দোহাইয়ে সবাই আমার সাথে প্রতারণা করে। আর আমি সমাজ জাগতে জাগতে তে-পান্তরে হারিয়ে যায়।

রাজধানীর ফুটপাতে ব্যাঙ ফ্রাই খাওয়ার গল্প....আর যেভাবে ভালো হলো মন

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আর একজন বললো, আরে ব্যাঙ ফ্রাই খেতে বেশি মজা লাগে। জেসন দিয়ে। আমি তখন হতভম্ব হয়ে গেলাম। মনে মনে হাসছি। বললাম, কি দিয়ে ব্যাং ফ্রাই?


শীতের হালকা কুয়াশার মত মনটা সারাদিন ব্যথায় চিনচি করছিলো। কেনো যেনো মন চাচ্ছিলো দুরে কোথাও যায়, যেখানে প্রেমের সাথে কারো সম্পর্ক নেই। যেখানে গেলে ভালোবাসার অনুভূতিগুলো হাওয়ায় মিশে যায়।

সেটা এই পৃথিবীতে না হলে ভালো হয়। জানি এই ভূ-খণ্ডে এমন কোনো স্থান নেই যেখানে কষ্ট আর যন্ত্রণা জড়ানো এই ভালোবাসা নেই। কষ্ট পাই আবার ভালোবাসি। মরার চেষ্টা করি তবুও আবার ভালোবাসি।

এত প্রেম-ভালোবাসার এই লোকালয় ছেড়ে যেতে ইচ্ছা করছিলো ভিন গ্রহে যেতে। যেখানে আবেগ নেই। প্রেম নেই। কষ্ট নেই। তাতো আর সম্ভব নয়, তাই বাসা থেকে বের হয়ে উইপোকায় খাওয়া পা দুটি টানতে টানতে ফুটপাতের চায়ের দোকানে গেলাম।

কষ্ট যন্ত্রণা যেনো আমার পদযুগলই বেশি অনুভব করে। পায়ে ভেতর কোন শক্তি কাজ করে না। মনে হয় উইপোকায় খেলে যেমন কাঠের মাঝে শুন্য হয়ে যায়। তেমনি মনে হয় আমার।

রাজধানীর ফুটপাত, কতরকম লোকের যে আসা-যাওয়া- তার ইয়ত্তা নেই। তারপর আবার দোকানদার রমনী। কালো সুন্দরী। দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ টাইপের। কেউ ভাবি, কেউ ম্যাডাম, আবার কেউ…..।

একটি ব্লাক সিগারেট দেন তো। ওনি একখানা হালকা হাসি জড়িয়ে বললেন নিন। ইস! শালার এত্ত ইমোশন! কই যে যায়? কোনো কিছু মাথায় আসে না।

সিগারেটটার মাথায় অগ্নি ধরিয়ে শ্বাসতন্ত্রের বারোটা বাজাতে বসে গেলাম। ময়লা জড়ানো ফুটপাতের ওয়ালে হেলান দিয়ে।

সিগারেটের একটি টান আর একবার করে পিনিক! আহ! মস্তিষ্কের নিউরন মেরে কলিজা পুড়িয়ে কষ্ট ভূলবার এমন অদ্ভূত জিনিস যে কে প্রথম আবিস্কার করেছিলো মাথায় ধরে না।

এর মাঝে তিন চার জন লোক এলো। যাদের সবার খয়েরি কালারের শার্ট গায়ে। মনে আসে-পাশের কোনো কারখানায় কাজ করে। শার্টগুলো যথার্থ ময়লায় ভরা। সবাই চায়ের অর্ডার দিলো। এর মাঝে একজন পাশের ফুটপাতের রেস্তোরাঁ থেকে আলু পুরি কিনে আনলো। আর ওই আলু পুরি দুধ চা দিয়ে খেতে লাগলো। দেখে অনেক কষ্টের মাঝেও হালকা হাসি দিলাম। এর তারা অদ্ভূত সব গল্প বলাবলি করতে লাগলো।

এরমাঝে একজন বললো তুই কোনোদিন ব্যাঙ রান্না খেয়েছিস? উত্তর দিলো খেয়েছি। কত খেয়েছি। ঢাকার একটি হোটেলের নাম বললো নামটি আমার এখন মনে নেই। যেখানে তারা প্রতিদিন ব্যাঙ রান্না করে খায়।

আর একজন বললো, আরে ব্যাঙ ফ্রাই খেতে বেশি মজা লাগে। জেসন দিয়ে। আমি তখন হতভম্ব হয়ে গেলাম। মনে মনে হাসছি। বললাম, কি দিয়ে ব্যাং ফ্রাই?

বললো, বেসন দিয়ে। আলু বেগুর চপ যেভাবে ভাজি করে- সেরকম। অন্যরকম স্বাদ। আপনি কল্পনা করতে পারবেন না যে আসলে কত মজদার স্বাদ।

আমি তো কথা শুনে থ হয়ে গেলাম। আমার কল্পনায় আনতে পারলাম না যে, ব্যাং ফ্রাই যদি বেসন দিয়ে করা হয় সেটি আসলে কেমন হয়।

তারপর তাদের এরকম অদ্ভুত রকম গল্প শুনে মনটা ভালো হয়ে গেলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:৪০
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×