হনুমানের কোলে ছিলো তার অস্ত্র, সেটা সরিয়ে রাখা হলো আমাদের পবিত্র কুরআন শরীফ। কিন্তু কুরআন শরীফ ছিলো মূর্তীর কোলের ওপরে। কিন্তু যে ব্যক্তি প্রথমে লাইভ করেছিলো সে প্রচার করলো মূর্তীর পায়ের নিচে পবিত্র কুরআন শরীফ রাখা হয়েছে। (নাউজুবিল্লাহ)।
আমার মতে প্রথমে যে লাইভ টা করেছে সেও এই ঘটনার সাথে জড়িত। কেননা কোলে রাখা আর পায়ের নিচে রাখা এক নয়। এভাবে মিথ্যে তথ্য ছড়িয়ে দেশের কিছু সন্ত্রাসী দের সুযোগ করে দিয়েছে প্রথমে লাইভ করা ব্যক্তি টিই। কিন্তু আমার প্রশ্ন সাক্ষাত ছবি তে আমরা দেখলাম মূর্তীর কোলে ছিলো পবিত্র কুরআন শরীফ। কিন্তু ফেসবুকে লাইভ ছবি আর ভিডিও দেখার পরেও কেন লক্ষ লক্ষ যুবক বিভিন্ন নিউজ পোর্টালের কমেন্ট বক্সে আর বিভিন্ন গ্রুপ, পেজে পায়ের নিচে রাখা ছিলো বলে মিথ্যে ছড়ালো?
যারা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে সোস্যাল মিডিয়ায় মিথ্যে ছড়িয়ে এতোগুলো অঘটন ঘটালো, যাদের কারণে সংখ্যা লঘুদের ওপর হামলা হলো, এবং এই একই ভাবে কয়েক বছর পর পর একই কায়দায় হামলা হয়। আমার প্রশ্ন অনলাইনে সংখ্যালঘুদের প্রতি বিনা উষ্কানিতে ট্রল করা, গালি দেয়া, অবমাননা করা এদের ব্যপারে সরকার চুপ কেন! আমরা সংখ্যা গুরুদের ধর্ম নিয়ে কালে ভদ্রে কিছু হলে জনপদ জ্বলে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যায় কিন্তু সংখ্যা লঘুদের ধর্ম নিয়ে এতো বিদ্বেষ এতো গালাগালি এসবের ব্যপারে ব্যবস্থা নেয় না কেন। যেকোনো পুজোর খবর পেজে পেজে ছাপা হলে সেখানে হাজার হা হা রিয়েক্ট, গালাগাল, ট্রল সব চলে।
আমাদের তৌহিদি জনতা কবে বুঝবে আমাদের যেমন অনুভূতি আছে তেমন তাদেরও আছে। গাঁজার জন্য মন কাঁদে বাংলাদেশের জন্য মন কবে কাঁদবে?
কিছু হাদীস উল্লেখ করলাম নিচেঃ
ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যারা মানুষকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ডাকে, সাম্প্রদায়িকতার জন্য যুদ্ধ করে, সংগ্রাম করে এবং জীবন উৎসর্গ করে তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। ’ -সুনানে আবু দাউদ : ৫১২৩
সাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পবিত্র কোরআন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ধর্মের ব্যাপারে জোরজবরদস্তি নেই। ভ্রান্ত মত ও পথকে সঠিক মত ও পথ থেকে ছাঁটাই করে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। ’ -সূরা বাকারা :২৫৬
সুতরাং ‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমাদের ধর্ম আমাদের জন্য। ’ -সূরা কাফিরুন : ৫
মুমিনদের উদ্দেশে আল্লাহতায়ালা বলছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব দেবদেবীর পূজা-উপাসনা করে, তোমরা তাদের গালি দিও না। যাতে করে তারা শিরক থেকে আরো অগ্রসর হয়ে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিয়ে না বসে। ’ -সূরা আনআম: ১০৮
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান যদি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ক্ষুন্ন করে কিংবা তাদের ওপর জুলুম করে, তবে কেয়ামতের দিন আমি মুহাম্মদ ওই মুসলমানের বিরুদ্ধে আল্লাহর আদালতে লড়াই করব। ’ –সুনানে আবু দাউদ : ৩০৫২
তিনি (সা.) আরও বলেছেন, ‘অন্যায়ভাবে কোনো অমুসলিমকে হত্যাকারী জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ চল্লিশ বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকেই ওই ঘ্রাণ পাওয়া যাবে। ’ –সহিহ বোখারি : ৩১৬৬
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে আল্লাহতায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন। ’ -সুনানে নাসাঈ : ৪৭৪৭
রাসূলুল্লাহ (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদিনের চিরাচরিত নিয়ম ছিল, যখন কোনো সেনাবাহিনী প্রেরণ করার প্রয়োজন হতো, তখন যুদ্ধ সম্পর্কিত বিভিন্ন নসিহত, দিকনির্দেশনার পাশাপাশি একথা অবশ্যই বলে দিতেন যে, ‘যুদ্ধকালীন সময়ে বা যুদ্ধের পর কোনো মন্দির-গীর্জা-উপাসনালয় ভেঙে ফেলবে না। ’ -মুসান্নাফ আবি শায়বা : ৩৩৮০৪
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১০:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




