রাজ্জাকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অনেকেই রাজ্জাককে কলকাতার অভিনেতা উত্তমকুমারের সাথে তুলনা করেন। নির্বাচিত পোস্টের দৃষ্টি আকর্ষণ বেনারে এ ট্রিবিউট টু লিজেন্ড নায়করাজ রাজ্জাক!!! শিরোনামে একটা লেখা আছে। যেখানে "জয়তু বাংলাদেশের উত্তমকুমার" বলে লেখাটা শেষ করা হয়েছে। এটা রাজ্জাকের প্রতি অবিচার। অবশ্য ওই লেখককে পুরা দোষ ও দেয়া যায় না, কারণ তিনি প্রথম রাজ্জাকের ছবি দেখেছেন আশির দশকে। আর রাজ্জাক সিনেমা শুরু করেছেন ষাটের দশকে। রাজ্জাককে শুধু অভিনেতা হিসাবে মূল্যায়ন করলে তার প্রতি সুবিচার করা হবে না।
রাজ্জাক অভিনয়ের পাশাপাশি অভিনেতা, অভিনেত্রী, চিত্রনির্মাতাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও বৃদ্ধি করেছেন। মানুষ সিনেমা দেখত ঠিকই কিন্তু এই শিল্পের সাথে জড়িতদের সম্মানের চোখে দেখত না। একটা উদাহরণ দেই, গুলশানে যখন প্লট বরাদ্দ শুরু হল, তখন রাজ্জাক একটা প্লটের জন্য আবেদন করলো। ডি আই টি (বর্তমান রাজউক) তার আবেদন বাতিল করলো এই বলে যে গুলশানের প্লট শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য। রাজ্জাক এই ক্যাটাগরিতে পরে না, তাই তার আবেদন বাতিল করা হল।
এখন চিন্তা করেন, তখনকার সময়ে এই দেশে অভিনেতাদের সামাজিক মর্যাদা কি ছিল। রাজ্জাক দমলেন না, গুলশানের প্লটটা সংগ্রাম করে আদায় করলেন। নিজে শুধু প্লটই আদায় করলেন না, সেই সাথে অভিনেতা, অভিনেত্রীদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করলেন। ডি আই টি (বর্তমান রাজউক) অভিনেতা, অভিনেত্রীদেরকে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হল।
এইটা একটা মাত্র উদাহরণ। রাজ্জাক এইরকম আরো অনেক বাধা অতিক্রম করে এই দেশের চলচ্চিত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যা উত্তমকুমার করেন নাই বা করার প্রয়োজন হয় নাই। অনেকেই তর্ক করে বলবেন, উত্তমকুমারের সাথে রাজ্জাকের তুলনাটা অভিনয়ের ক্ষেত্রে। না সে তুলনাটাও ঠিক না। একটা সমতল ভূমিতে নাচা আর অসমতল ভূমিতে নাচা এক জিনিস না।
রাজ্জাক রাজ্জাকেই।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




