চোখ। এ এক আশ্চর্য সৃষ্টি বিধাতার। যা ভাল লাগবে সেখান থেকে আর ফিরতে চাইবে না। আর সেই চোখের সাথে মনটা যদি মিলে যায় তবে তো পোয়াবার। চোখ আর মন যোগলবন্দি হয়ে বার বার ফিরে আসে শরত আত্নজার কাছে। শরতের নীল আকাশে সাদা সাদা মেষ শুভ্র শাড়ি পরে ঘুরে বেডায়। শুধুই কি শুভ্রতা? এ যে পবিত্রতারও প্রতিক। যে পবিত্রতা আর শুভ্রতা ছোঁয়ে যায় মানুষের মন। মন তখন মেষের পানসিতে ছওয়ার হয়ে আপন চৌহদ্দি থেকে বেরিয়ে; হারিয়ে যেতে চায় দূর আকাশে অথবা আকাশ থেকে দূরে কোথাও। বাস্তব অথবা অলিক স্বপ্ন সুন্দর প্রিয়তমার চোখে চোখ রেখে হয়ে উঠে কবি। শহীদ ফারুক রোডের এই চিলোকোঠায় এক আধটু শরত চোখে ধরা দেয় ভেসে চলা মেঘে আর রাতের জোৎস্না স্নানে। অতৃপ্তদৃশ্য বিনোদিনী সেই শরৎ আত্নজার সখী হয়ে ধরা দিয়েছে পাশের ছাদে বাগান প্রিয় সেই কাল মেয়েটি। শরতের সাদা মেঘের সাথে তার গায়ের রঙের বৈপরিত্য থাকলেও; সাদার মধ্যে কালোই যেন মানিয়েছে। কে বলেছে সে কালো? ফুলের বাগানে উড়ে চলা কোন অঙ্গনা রঙ্গীন প্রজাপতি; তার তীক্ষ্ণ চাহনীতে আমি মরে যাই, আবার বাঁচি উঠি। তার থমকথমক চাল আমার হৃদয়ে কম্পন তোলে। আজ এই স্নিগ্ধ শারদীয় বিকেলে সে ছাদের বাগানে আসেনি। তার অনুপস্থিতিতে তারই বাগানের গাছ গুলোকে কেমন ছন্নছাড়া মনে হচ্ছে। কেমন শ্রীহীন মনে হচ্ছে শরতের এই বিকেলকে। যেন মেঘ গুলোও হয়ে উঠছে ছন্নছাড়া। যেন ঘুর পথে উড়ে যাচ্ছে; এ পাশটায় আসছে না। বলছে, তার খেলার সাথি; মেঘলা মেয়ে আজ আসেনি। তাই আড়ি। ও পথে যাব না। আমারও কেমন শুন্য শুন্য লাগছে; একাকীত্ব কুড়ে খাচ্ছে, মহাদেব সাহা’র মত বলতে ইচ্ছে করছে তোমাকে দেখেছি কবে, সেই কবে, কোন বৃহস্পতিবার/ আর এক কোটি বছর হয় তোমাকে দেখি না…। হঠাৎ আমার মন খারাপে মেঘেরও যেন মন খারাপ হলো, দূরে ভেসে চলা মেষ গুলো হামেসাই ছোটে এলো আমার দিকে, মন খারাপে শেষে ঝরঝর করে কেঁদেই ফেলল। আমি একটুও নড়লাম না। দৌড়ে নিচে নামার কোন তাগিদই বোধ করলাম না। আমার কেবলই মনে হতে লাগল; কে বলছে কাল মেয়ে তুমি আজ ছাদে আসনি। এইতো তোমার স্পর্শ পাচ্ছি। তোমার গন্ধ, তোমার স্পর্শ, তোমার চকিত চাহনি। ওহ আমি পুলকিত হয়ে যাচ্ছি। আমার এ দশা দেখে অমনি তুমি যেন অট্ট হাসিতে ফেটে পড়লে। বৃষ্টি ধরে এলো, মন খারাপ করা মেঘের আড়াল থেকে সূর্য উঁকি দিল, চিনচিনে রোদ। দেখে আমিও অপ্রস্তুত হলাম। ভেঁজা কাপড় পাল্টাতে দৌড়ে নেমে এলাম নিচে।
সিঁড়িতে নামতে নামতে মনে পড়লো সেই শৈশবের দূরন্তপনা দিন গুলো। বর্ষার বিলে ডুব সাঁতার, শাপলা আর কাঁশ ফুলের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বন্ধুদের সাথে মনমালিন্য। অতঃপর মন খারাপে কাঁদোকাঁদো অবস্থা_সবই আজ স্মৃতির খেরোখাতায় সযতনে চাপা দেয়া। সাদা শিউলি ফুলের লোভনীয় গন্ধ; তাকে আপন করে পাবার ব্যাকুলতা সবই আজ মনের আলমিরাতে কুঠরাবদ্ধ। কেমন আছে জানালার পাশের সেই শিউলি গাছটা; কতটা বড় হয়েছে; আজও ফুল ফোটে কিনা; সেসবের আর খোঁজ রাখা হয় না। জীবনের প্রয়োজনে; বাঁচার তাগিদে কংক্রিটের এই প্রাণহীন শহরের গোমুট আর ধুলি-ধূয়া বিবর্ণ বাতাসকে আপন করে নিয়েছি। এখানে প্রতিনিয়ত আমার স্বপ্ন আর উন্মোক্ত আকাশ কে ঢেঁকে দিচ্ছে অন্যজনের আকাশচুম্বী দালান। একখন্ড অখন্ড আকাশ এখানে স্বপ্নের মত। শরত এখানে শুধু যার আর আসে। পরিবর্তন এখানে সংকীর্ণ, স্তব্ধ, পরিলক্ষিত হয় ইন্টার্নেট; টেলিভিশনের পর্দা আর অনুভূত হয় কাগজের পাতায়। তবুও বেঁচে আছি। বাঁচতে চাই অঙ্গনা শরতের ছোঁয়ায়।
আলোচিত ব্লগ
গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।
যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?
আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।
দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।
ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন
কটা দুলাল

বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন পর্ব -১

(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।