সাধারণত আমরা তখনি বিশ্বাসের আশ্রয় নিই যখন কোন কিছু সম্পর্কে আমরা সরাসরি জ্ঞান লাভ করতে পারি না। যেমন ২য় উদাহরণে লোকটি আসলে টাকা ফেরত দিবে কিনা সে বিষয়ে আমার সরাসরি জ্ঞান লাভ সম্ভব নয়। তাই বিশ্বাসের আশ্রয় নিতে হবে। আরেকটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরেকটু পরিস্কার করতে পারব।
ধরুণ আমি একটা কাগজের বক্স নিয়ে আসলাম। আপনাকে বললাম ওখানে একটা ফুলদানি আছে। এখন আপনাকে জিজ্ঞেস করলাম যে বিশ্বাস করেছেন কিনা। মার সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে আপনি বললেন আপনি বিশ্বাস করেছেন। কিন্তু আমি যদি বক্সটি খুলে আপনাকে ফুলদানিটি বের করে দেখায়, তারপর যদি জিজ্ঞেস করি বিশ্বাস করেছেন কিনা? আপনি যদি বলেন যে আপনি বিশ্বাস করেছেন, তাহলে আপনি বিশ্বাসের বাজে খরচ করেছেন। কারণ বিষয়টা জেনে যাওয়ার পর আর বিশ্বাসের প্রয়োজন নাই। বিশ্বাসের প্রয়োজন তখনি ছিলো যখন বিষয়টা আপনার অজানা ছিলো।
এখানে কেউ কেউ বলছেন যে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে প্রমাণ করে দিতে পারলে তারপর তাকে বিশ্বাস করবেন। কেন? অস্তিত্ব যদি প্রমান করা যায় বা দেখা যায় তাহলে তাকে বিশ্বাস করতে হবে কেন? সুতরাং যারা এরকম বলেন তারা আসলে একটা অযৌক্তিক দাবী করেন। সৃষ্টিকর্তার আপনার সামনে এসে দাড়াবেন না যে তাকে দেখে আপনি তার উপর বিশ্বাস করবেন। সুতরাং যারা এরকম দাবী করেন তাদেরকে কোনভাবেই বিশ্বাস করানো সম্ভব নয়।
"না দেখে বিশ্বাস করবো না" কথাটা কতটা যৌক্তিক?
আমরা অনেকেই বলি "না দেখে বিশ্বাস করবো না"। অযৌক্তিক কথা। আমরা ছোটবেলা থেকে অসংখ্য জিনিসই না দেখে না বুঝে বিশ্বাস করি।
যেমন ছোট বেলা থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছে অমুক তোমার বাবা এবং অমুক তোমার মা। এখন আপনি যদি বলেন "আমিতো কোন কিছুই না দেখে বিশ্বাস করি না। আমকে দেখায় দাও কেমনে তোমরা মা বাবা?" সেটা আসলে সম্ভব নয়। সুতরাং আমরা না দেখেই মা বাবাকে বিশ্বাস করি।
আমরা কেউই স্বাধীনতার যুদ্ধ দেখিনি। তার মানে এই নয় যে আমরা কেউই সেটা অস্বীকার করি। আমরা ইতিহাসকে না দেখেই বিশ্বাস করি।
সুতরাং না দেখে বিশ্বাস আমাদেরকে করতেই হয়। কাজেই "না দেখে বিশ্বাস করবো না" কথাটার কোন যুক্তি নেই।
চলবে (?)
-----------------------------------------------
পরের পর্ব

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






