somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিরতার রস: পাকিস্তানি ভিক্ষুক, চন্দ্রমুখী অভিযান ও আইয়ুবীয় উন্নয়ন মডেল!!!

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


‘দোস্ত, তোরা তো চন্দ্রে ও মঙ্গল-ফঙ্গলে রকেট-মকেট পাঠায়ে একাকার করে দিয়েছিস। ওদিকে শাহরিয়াররা তো গোটা বিশ্বে ভিক্ষুক-মিক্ষুক পাঠায়ে ভজগট অবস্থা’--আমার ইজ্ঞিতপূর্ণ কথা মনীশ প্রথমে বুঝতে পারেনি। একটু খোলাসা করে বলতেই বিরাট অট্টহাসিতে ভূকম্পন তোলার দশা। প্রতিউত্তরে হাসতে হাসতে বলে--’শালে, ইয়ে কাব হোগা! এরপর আরো নানাবিষয় নিয়ে হাসাহাসি-কাশাকাশি। দুজনেই এ সময় শাহরিয়ার-খলিলদের উপস্থিতি মিস করছিলাম। তাদের গোরা চেহারা, শক্তপোক্ত দশাসই শরীর আর জাত্যাভিমানীর ‘হোগা’য় থুক্কু ঠুনকো আস্তরণে হাতুড়ির করাঘাত করা যেত।



একটি সম্ভাবনাময় জাতি অদূরদর্শীতা, উন্নয়নগত অপরিকল্পনা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপচিন্তার দ্বারা যে খাদের কিনারে যেতে পারে তা ‘পাকিস্তান’ নামক রাষ্ট্রটি বিশ্ব ইতিহাসে একটি ‘কেসস্টাডি’ হতে পারে।

অথচ ৮০’র দশকেও পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় (৩৫০ ডলার-১৯৮২) ভারতের (২৭৫ ডলার) প্রায় দেড়গুণ ও বাংলাদেশের (২০৯ ডলার) প্রায় দ্বিগুণ ছিল। এখন ঠিক তার অপোজিট। ৯০’র দশকে যখন বাংলাদেশ তো দূর কী বাত, ভারতও বিশালাকার অবকাঠামো নির্মাণে দ্বিধান্বিত ছিল, তখনই পাকিস্তানে বিলিয়ন ডলার ক্রেডিটে বিরাট বিরাট ৪/৬ লেনের মোটরওয়ে নির্মাণ করে। লাহোর টু ইসলামাবাদ, করাচী টু হায়দারাবাদ ঝাঁ চকচকে রাস্তা। তারবেলার মত হস্তিকায় হাইড্রোইলেকট্রিক প্রজেক্ট। শান-সৈকতে ভরপুর জৌলুসপূর্ণ নগরী করাচী। বড় বড় গার্ডেনসহ গোছানো নগরী লাহোর। বিশ্বের অন্যতম পরিকল্পিত রাজধানী শহর ইসলামাবাদ। আরো কত শত উন্নয়ন…আহ!!!

এরপর গত ৩০ বছরে কি এমন ঘটল যে একটি দেশের এ হাল! কারণ একটাই--তা আগের প্যারাতেই লেখা হয়েছে। বিলিয়ন ডলার ক্রেডিট। শুধু ক্রেডিটের আগে ‘অপরিকল্পিত ও অস্বচ্ছ উপায়ে’ কথাটি জুড়ে দিতে হবে। আর এই অপরিকল্পনার মাঝেই লুকিয়ে আছে যত প্রকার ইতরামী অর্থাৎ দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও লুটপাট। আর এগুলোর ফলে দেশের নৈতিক ভিত্তিটা ভঙ্গুর হয়ে যায়। সামন্তবাদী প্রভুরা অন্যায়গুলো এমনভাবে জায়েজ করে নিয়েছে যে অন্যায়কে আর কেউ অন্যায় মনে করে না। ‘ফিলথি মিলিটারি এস্টাব্লিশমেন্ট’-এর সাথে ‘কানিং অ্যান্ড রোটেন ব্যুরোক্রেসি-সিভিল সোসাইটি’ মিলে একটি ‘ভিসাস সার্কেল’ গড়ে তুলেছে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদাগুলোর ক্রমাগত অবনমন দেশের প্রকৃত উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থাকে খাদের কিনারে পৌঁছে দিয়েছে। আর মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে যুক্ত হয়েছে জোব্বাওয়ালা জঙ্গীবাদ। সেটাও ঐ এস্টাব্লিশমেন্টদের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ মদদেই হাইড্রার মতো বহুমাথা নিয়ে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে।

আর এসবই ঘটেছে পাকি এস্টাব্লিশমেন্টের ‘ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মানসিকতা’র ফলে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কোনো বালাই নেই। ‘আমিই বা আমরাই ভগবান’। ‘আমরা ছাড়া আর কেউ এত এত উন্নয়ন করতে পারবে না’। ‘বিশালাকার উন্নয়নে একটু আধটু লুটপাট তো হবেই’। ‘আমরা ছাড়া আর দেশ নিয়ে ভাবার কে আছে’?

উপরের ঐ প্যারাটির সাথে আর কোনো শাসকের কি মিল খুঁজে পাচ্ছেন? নিশ্চয় পেয়েছেন। হ্যাঁ, আমি এই জাতীয় ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ বা উন্নয়নের গুরু আইয়ুব খানের কথা বলছি (হতাশ হলেন মনে হচ্ছে?)। এই ধরনের উন্নয়নের গুরু একজনই ছিলেন তা উনি। উনিই বাঙ্গালী ও পাকিদের এই অত্যাশ্চর্য ‘উন্নয়ন মডেল’ শিখিয়েছেন। এই অষ্টমাশ্চর্য উন্নয়নের জাতির পিতা আইয়ুব খান। ৬০’র দশকের সেই উন্নয়ন মডেলই ৮০ ও ৯০’তে পাকিরা পুনরায় অনুসরণ করেছিল দ্বিধাহীন চিত্তে। আর তার সুফল(?) পাচ্ছে এখন!!!

আচ্ছা, এ ধরনের ‘গুরু আইয়ুবীয় উন্নয়ন মডেল’ কি বিশ্বের অন্য কোনো দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে? কবি কি নিরব…?



একদা প্রথম আলোর কলামে অর্থনীতিবিদ মহিউদ্দিন আহমেদ লিখেছিলেন, "এ দেশে উন্নয়নের ঢোল বাজানো শুরু হয় প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের আমল থেকে। তাঁর আমলে দেশের চাকচিক্য কিছুটা বেড়েছিল, সন্দেহ নেই। তিনি আগারগাঁওয়ে সংসদ ভবনসহ একটা বড়সড় কমপ্লেক্স গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। কুর্মিটোলার নতুন বিমানবন্দরের কাজে হাত দেন। এখন যেটা ময়মনসিংহ রোড, যা কিনা ঢাকা শহরের ধমনি, এটাও তাঁর সময়ে করা। মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন তাঁর শাসনামলের। যমুনা সেতু আর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিন্তাও আসে তখন। আমরা এখন এসবের অনেক কিছু নেড়েচেড়ে খাচ্ছি।

কিন্তু আইয়ুব খান যা করেছেন, তাতে আমরা খুব খুশি ছিলাম না। আমাদের অভিযোগ ছিল, আমাদের পাট বেচা টাকার অল্প অংশই আমাদের এ অঞ্চলে খরচ হয়। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বেশির ভাগ খরচ হয় পশ্চিম পাকিস্তানের (এখন পাকিস্তান) উন্নয়নে। এই বৈষম্য, এই প্রতারণা দিয়ে উন্নয়নের ঢোল বেশি দিন বাজানো যায়নি। ১৯৬৮ সালে সারা দেশে আইয়ুব খানের ‘উন্নয়ন দশক’ উদ্‌যাপিত হলো। কিন্তু দেখা গেল, ভেতরটা ফাঁপা। কিন্তু ‘উন্নয়ন’ শব্দটি শাসকদের খুব পছন্দ। এর ধারাবাহিকতায় ‘উন্নয়ন’ আমাদের রাজনীতিতে টেকসই হয়ে গেছে।"


আপনাদের কি মনে হয় ‘আইয়ুবীয় উন্নয়ন মডেল’ উত্তম নাকি শিক্ষা-স্বাস্থ্য-খ্যদ্যসহ দেশের মৌলিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির আত্মীক উন্নয়ন দরকার?

সবশেষে শ্রদ্ধেয় ব্লগার আহমেদ জী এস’র একটি কথা দিয়ে শেষ করছি, “যেখানে রাষ্ট্রীয়, আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিমন্ডলে একছত্র ভাবে রাজনীতিবিদগণ এবং তাদের বশংবদ সুবিধাবাদীরাই আমাদের রাজনীতিতে ইদানিং কালের ছলচাতুরী ঢুকিয়ে তারই ছত্রছায়ায় নিরঙ্কুশ আধিপত্য চালিয়ে যাচ্ছেন ? যেখানে জনগণ হয়েছে অপাংতেয় এবং তাদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকারটি হয়েছে ডাষ্টবিনে নিক্ষিপ্ত? এই তথাকথিত দেশপ্রেমের ধ্বজাধারীরা যে মেকী মানসিকতা তৈরী করে দিয়েছে আমাদের জ্ঞানচক্ষু উন্মীলনের মূহুর্তে তা থেকে আমাদের মুক্তি নেই মৃত্যু পর্যন্ত”।

********************************************************
@আখেনাটেন-অক্টোবর/২০২৩
ছবি: এআই জেনারেটেট

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৩ বিকাল ৫:০৫
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসরায়েলের রাফা দখলের প্রতিবাদে চোখের জলে ভেজা একটি গান

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৪ সকাল ১০:২৭



আমার এই গানটা তাঁদের নিয়ে যাদেরকে দূর্ভিক্ষ ছাড়া কোন শত্রুই পরাস্ত করতে পারবে না। তাঁর হবেন রাসুল (সাঁ)-এর শ্রেষ্ঠ উম্মতদের দলভুক্ত। ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাসের আশেপাশে তাঁরা থাকবেন।........তাঁদেরকে নিয়েই... ...বাকিটুকু পড়ুন

হে মানবতাবাদী পোগোতিশীল বাঙ্গু সম্প্রদায়, অতঃপর তোমরা তোমাদের গুরুর কোন কোন ভণ্ডামোকে অস্বীকার করবে!

লিখেছেন প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন, ১৯ শে জুন, ২০২৪ বিকাল ৫:১১



০. হে মানবতাবাদী পোগোতিশীল বাঙ্গু সম্প্রদায়, অতঃপর তোমরা তোমাদের গুরুর কোন কোন ভণ্ডামোকে অস্বীকার করবে!

১. ইদানীং নতুন কিছু হিপোক্রেট দেখতে পাচ্ছি, যাদের কুরবানী নিয়ে অনেক সমস্যা, কিন্তু গোস্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিয়াল জেনারেশন প্রতিবাদ করতে জানে না!

লিখেছেন সোনাগাজী, ১৯ শে জুন, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৪৩



শেখকে যেদিন হত্যা করলো মিলিটারী, আমি তখন প্রবাসে, পড়ালেখা করছি; প্রবাসে ঘুম থেকে জেগেই সংবাদটা পেয়েছিলাম; সাথে ছিলো অন্য মৃতদের লিষ্ট। আমার মনে এলো, তাজউদ্দিন সাহেব বেঁচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির জন্য বাইডেনের শান্তি প্রস্তাব:

লিখেছেন মোহাম্মদ আলী আকন্দ, ১৯ শে জুন, ২০২৪ রাত ৯:৫২

৩১ মে ২০২৪ প্রেসিডেন্ট বাইডেন গাজায় স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির জন্য তিন পর্বে বাস্তবায়ন যোগ্য একটি শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছেন।

প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার ধাপগুলি যথাক্রমে --

প্রথম পর্ব:
প্রথম পর্বটি ছয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুত্র যখন ছাগল!

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১৯ শে জুন, ২০২৪ রাত ১০:৪৪

ঈদ উপলক্ষে ফেসবুক আমাদের জন্য উপহার দিয়েছে নতুন নাটক "পুত্র যখন ছাগল!"

ঘটনার শুরুতে আমরা দেখতে পাই এক ছেলে পনেরো লাখ টাকা দিয়ে ছাগল কিনে বাপকে উপহার দিয়েছে।
এর আগে বাপকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×