somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে কিছু চিন্তাভাবনা

২৭ শে মে, ২০১৫ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে কিছু চিন্তাভাবনা

ভুমিকা ঃ
গত বৎসর আমি আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত একজন শিক্ষকের কাছ থেকে একটি ই-মেইল পাই, যাতে তিনি জানান, তিনি “বাংলাদেশে উচচশিক্ষার মান নির্ধারনে” কাজ (স্টাডি) করছেন । আর এই প্রয়োজনে আমি যেন তার পাঠানো একটি প্রশ্নপ্রত্রের উত্তর দেই । প্রশ্নপত্রে ৮টি প্রশ্ন ছিল যার উত্তরে আমি ঐসব বিষয়ে “কি মনে করি” তা জানাতে বলা হয়েছিল। প্রশ্নের মধ্যে ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কোর্স কারিকুলামএর উন্নয়ন এ কাজে সব চেয়ে বেশী দরকারী কি না, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা তার ঘোষিত লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, শিক্ষার প্রধান এবং ব্যবহারিক লক্ষ্য ভালোভাবে বর্ননা করা হয়েছে কি না, শিক্ষকগন এই বিষয়ে সম্যক অবগত কিনা, কোর্সগুলি ভালভাবে বর্ননা করা হয়েছে কিনা, ছাত্ররা এসব থেকে কি উপকার পাবে তা বলা হয়েছে কিনা, কোর্স প্রনয়নের সময় ছাত্রদের যুক্তি ও চিন্তা শক্তি বাড়ানোর সু্যোগ রাখা হয়েছে কিনা, ছাত্রদের মুখস্থ করে ভালো নম্বর পাওয়ার উপর বেশী গুরুত্ব দেয়া হয় কি না, ইত্যাদি । এটি যদি কোন ছাত্রের ক্লাশের এসাইনমেন্ট হতো তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আমি উত্তর দিয়ে দিতাম । আমি সন্দিহান হয়ে পড়েছিলাম যে, যুক্তরাষ্ট্রে এত দরকারী বিষয়গুলি এমন গুরুত্বহীন বা দায়সারা ভাবে করা হয় কি না । আমার মনে হয়েছিল, আমার উত্তরের উপর নির্ভর করে এই গবেষক বাংলাদেশের শিক্ষার উপর কোন সিদ্ধান্ত দেবেন, এবং সেক্ষেত্রে অবশ্যই তা ভূল হবে । এই চিন্তা থেকে আমি উত্তর দানে বিরত থাকি । এর কয়েকদিন পরে আমার কাছে স্থানীয় ইংরেজী দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ পাঠানো হয়, যাতে এই প্রশ্নপত্রের উল্লেখ ছিল । এটিকে উল্লেখ করা হয়েছে “মজার তথ্য (ফাইন্ডিং)” বলে। বলা হয়েছে, উত্তরদাতাদের ৮০-৯০% ভাগ মনে করেন, কোর্স কারিকুলামের উন্নয়ন প্রয়োজন, ৬১% ভাগ মনে করেন, মুখস্থবিদ্যাই ভালো ফলের কারন, ৫০% ভাগ শিক্ষক শিক্ষাদানে উন্নতির জন্য কোন চেষ্টাই করেন নি, ৯০% ভাগ শিক্ষকের শিক্ষন সম্বন্ধে প্রশিক্ষনের ঘাটতি আছে, ইত্যাদি । এই সঙ্গে শিক্ষন বিষয়ে প্রশিক্ষনের প্রয়োজন সম্বন্ধে এই বিষয়ের শিক্ষকগন সেমিনারে যেসব কথা বলে থাকেন তার কিছু উদ্ধৃতি দিয়ে যা বলা হয়েছে তার সোজা মানে দাঁড়ায়, “বাংলাদেশে উচচশিক্ষার মান উন্নয়নে বিদেশে কর্মরত এই বিষয়ের শিক্ষকদের সেবা প্রয়োজন” । আমার প্রশ্ন হল, বিষয়টি কি এতই সোজা ?

বাংলাদেশে উচচশিক্ষার মান নির্ধারনের জন্য অনুসন্ধান ঃ
বাংলাদেশে উচচশিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রথম কাজ হবে এই শিক্ষার বর্তমান মান সম্বন্ধে জানা । সেটা কোনভাবেই কিছু সংখ্যক শিক্ষকের কাছে প্রেরিত কোয়েশ্চেনিয়ারের উত্তর থেকে জানা সম্ভব নয় । এজন্য প্রয়োজন দেশের ভেতরেই নিয়ম মাফিক অনুসন্ধান । তবে, অনুসন্ধান ছাড়াও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় অভিজ্ঞ যে কোন শিক্ষক “বুদ্ধি ও পর্য্যবেক্ষন-নির্ভর” জ্ঞান থেকে এ বিষয়ে অনেক ভালো মতামত দিতে পারবেন ।

বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধান যে তিনটি বিষয় প্রয়োজন তা হচ্ছে ঃ (০১) ভালো মানের শিক্ষক, (০২) ভাল মানের ছাত্র এবং (০৩) ভালভাবে পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহন । এর পরে যা প্রয়োজন তা হলো, (০৪) শিক্ষাদানের ভালো পরিবেশ ও (০৫) উন্নত মানের সহায়ক জিনিসপত্র । “শিক্ষন বিদ্যা” তাদের জন্যই প্রয়োজন যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কম এবং যারা নীচের শ্রেনীতে পড়ান । বাচ্চাদের স্কুলে পড়ানোর সময় তাদের মানসিক অবস্থা জেনে বুঝে শিক্ষা দিতে হয় । আবার যারা এসব স্কুলে পড়ান তাদের নিজেদের শিক্ষার স্তর বা মানও তেমন বেশী নয় । তাই তাদের “শিক্ষন বিদ্যা” শিক্ষা ও প্রশিক্ষনের প্রয়োজন আছে । সেই তূলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা শিক্ষকতা করতে আসেন তাদের থাকে সর্বোচ্চ একাডেমিক শিক্ষা, আর তারা পড়িয়ে থাকেন দীর্ঘ ১২ বৎসর স্কুলে ও কলেজে পড়া পরিপক্ক ছাত্রদের । তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীত বিষয় এমনিতেই যথেষ্ট কঠিন । এখানেও শিক্ষককে যদি ছাত্রদের মনোভাব আর হাব ভাব লক্ষ রেখে পড়াতে হয় তাহলে তাদের পড়ানোর মান অবশ্যই খারাপ হবে । তবে আমরা জানি, বিদেশের “শিক্ষন বিদ্যা”য় ডিগ্রী নেয়া শিক্ষকদের শক্ত সংগঠন আছে । আর তারা সেমিনারে সকলকেই এ বিষয়ে প্রশিক্ষনের গুরুত্বের কথা বলে থাকেন । যদি এ বিষয়টিকে সত্য বলেও ধরে নি, তাহলেও বলতে হবে, শিক্ষা একটি দেশ ও সমাজ নির্ভর বিষয় । তাই এ বিষয়ে বিদেশী বা বিদেশে প্রশিক্ষিতদের সরাসরি এদেশে অবদান রাখার তেমন সুযোগ নেই ।

শিক্ষক ঃ
কাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় নেয়া হয় তা আগেই কিছুটা বলা হয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞানের সর্বোচ্চ পীঠস্থান। শিক্ষকরা যে এখানে শুধু ছাত্র পড়াবেন তাই নয়, ছাত্ররা ভবিষ্যতে যেসব বই পত্র পড়বে তাও তারা তৈরী করবেন । এসব বই লেখার জন্য জন্য তাদের দরকার সর্বশেষ তথ্য ও গবেষনা । এসব কাজ তারাই পারবে যারা আগাগোড়া ভালো ছাত্র । হঠাৎ করে কোন বিশেষ একটি পরীক্ষায় ভালো ফল করা ছাত্রকে দিয়ে এ কাজ হবে না । আগেই বলা হয়েছে, এখানে অধীত বিষয় বেশ কঠিন । বলা হয়, “ফেল করা ছাত্র ভাল টিউটর হয়” । এসব কথা স্কুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নয় । এটা স্বাভাবিক যে কেবলমাত্র একজন ভালো ছাত্রই কঠিন বিষয়গুলি বুঝবে এবং ছাত্রদের ভালোভাবে বোঝাতে পারবে । যে শিক্ষক নিজেই কোন বিষয় ভালো ভাবে বোঝে নি বলে ভালো ফল করতে পারে নি সে ছাত্রদেরকে কি বোঝাবে ? পরবর্তি জীবনে “শিক্ষন বিদ্যায়” উচ্চতম ডিগ্রী বা প্রশিক্ষন পেলেও এমন কারও ঐ যোগ্যতা জন্মাবে না । সন্দেহমুক্ত হবার জন্য শিক্ষকদের প্রথম নিয়োগের সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের কথা বলার ক্ষমতা এবং কোন বিষয় বুঝিয়ে বলার দক্ষতার পরীক্ষা নিয়ে থাকেন । এর র তার উচ্চতর পদ নির্ভর করে তার গবেষনা কর্মের উপর, ছাত্রদের দেয়া সার্টিফিকেট অথবা তাদের পরীক্ষার ফলাফলের উপর নয় ।

বিদেশে অনেক সময় ছাত্রদের দিয়ে শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হয় । কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, এদেশের অনেকেরই এর প্রেক্ষাপট জানা নেই । এর ফলে যারা বেশী পড়াসোনা করেন না তাদের অনেকেই এ সম্বন্ধে ভূল ধারনা পোষণ করেন । আসলে বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা নির্দিষ্ট হারের শিক্ষক ছাত্র অনুপাত বা রেশিও বজায় রাখতে হয় । এই প্রয়োজনে অনেক বেশী সংক্ষক শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন হলে অনেক সময় তা অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক বা বাস্তব সম্মত হয় না । এক্ষেত্রে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় একটি পদ্ধতি গ্রহন করে থাকেন । তারা উচ্চতর শ্রেনীতে অধ্যনরত ছাত্রদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত রাখেন । পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ এদের কাউকে স্থায়ী নিয়োগ দেবে । এই বাছাই প্রকৃয়ায় সহায়তা করার জন্য এবং এদের বুঝিয়ে বলার ক্ষমতা জানার জন্য তারা ছাত্রদের দিয়ে ঐ সব শিক্ষকদের মূল্যায়ন করিয়ে থাকেন । আমাদের দেশে অনেকে না বুঝেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাইকারীভাবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে চান । আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই পদ্ধতি পাইকারী ভাবে প্রয়োগ করা হলে যা হবে তা হলো, খারাপ বা নীতিহীন শিক্ষকগন ছাত্রদের ভোট পাবার মতন সহায়ক পদ্ধতি উদ্ভাবন করে নেবেন । এই পদ্ধতির মধ্যে থাকবে, কোর্স কমিয়ে দেয়া, সরলীকৃত নোট প্রদান করা, সম্ভাব্য প্রশ্ন বলে দেয়া, পরীক্ষার খাতায় বেশী নম্বর দেয়া, ছাত্র সহায়ক ক্লাশ টেষ্ট বা এসাইনমেন্ট দেয়ে ইত্যাদি । তখন দেখা যাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো এবং নীতিবান শিক্ষকেরাই ছাত্রদের বিরূপ মূল্যায়নের শিকার হবেন ।

বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সরকার নির্ধারিত নিয়ম আছে । রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা পরীক্ষকের সততার অভাব না হলে এই পদ্ধতিতে ভালো শিক্ষক পাওয়া সম্ভব । অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব নিয়ম প্রয়োগ করে থাকে, তাই এদের মান সম্বন্ধে কিছু বলা যায় না ।

অনেকে ছাত্রপ্রিয়তাকে শিক্ষক বিচারের মানদন্ড হিসেবে ধরে থাকেন । এটি একেবারেই ভূল ধারনা । ভালো না পড়িয়েও একজন শিক্ষক অনেক কারনে ছাত্রদের প্রিয় হতে পারেন। যেমন- (১) ছাত্রদেরকে এমন নোট সরবরাহ করা যা সহজেই মুখস্থ করে উত্তর দেয়া যায়, (২) পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন দিয়ে দেয়া, (৩) ছাত্র সহায়ক ক্লাশ টেস্ট নেয়া এবং সর্বশেষে (৪) পরীক্ষার খাতায় দরাজ হাতে নম্বর দেয়া । আবার অনেকে মনে করেন, যে শিক্ষকের পড়ানো ছাত্রদের কাছে বেশী আকর্ষনীয়, তিনিই ভাল শিক্ষক । এটিও আংশিক ভূল । কিছু কিছু বিষয় আছে (যেমন, সাহিত্য, কলা, বানিজ্য ইত্যাদি) যেখানে বেশ মজা করে পড়ানো সম্ভব । কিন্তু বিজ্ঞান বা প্রকৌশলের অনেক বিষয়ই মজা করে পড়ানো সম্ভব নয়। এখানে একজন শিক্ষকের কৃতিত্ব, শুধুমাত্র কঠিন বিষযটিকে সহজ করে বোঝানো, যা কেবল ভালো ছাত্রদের পক্ষেই করা সম্ভব।

অনেক বিশ্ববিদ্যালয় খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পড়িয়ে থাকেন । বর্তমানে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষকতা করেন তাদের অনেকগুলি বিষয় নিশ্চিত করতে হয়। যেমন- (১) তাকে নির্দিষ্ট সময়ে সীমিত সংখ্যক বক্তৃতার মাধ্যমে কোর্স শেষ করতে হবে, (২) ছাত্ররা যাতে তার পড়ায় খুশী থাকে বা ভালো নম্বর পায় (যা তার পরবর্তী নিয়োগের পথ সুগম করবে) এমন ভাবে পড়াতে হবে, (৩) পরবর্তী নিয়োগের জন্য কর্তৃপক্ষকে খুশী রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে ইত্যাদি । এর সবগুলিই উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে বিরূপ ভুমিকা রাখতে পারে । সংক্ষেপে বলা যায়- উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে প্রথম প্রয়োজন এমন শিক্ষক যার একাডেমিক ফলাফল আগাগোড়া ভালো, যিনি গবেষনা করতে পারেন এবং যার নিয়োগ কর্তৃপক্ষের ইচ্ছাধীন বা অস্থায়ী নয় ।

ছাত্র ঃ
উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে দ্বিতীয় প্রয়োজন, ভালো ছাত্র । এই কথাটি বিশেষ ভাবে প্রযোজ্য কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে । কেবলমাত্র ক্লাশের সব বা অধিকাংশ ছাত্র ভাল হলে তবেই একজন শিক্ষকের পক্ষে কঠিন বিষয় যথাযথ ভাবে পড়ানো সম্ভব । ধরা যাক, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে জিপিএ ৩.০ (৫.০ স্কেলে) পেলেই ভর্তি হওয়া যায় । এই ছাত্রদের সবাই বা অধিকাংশ ফেল করবে এটা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্তৃপক্ষ কারও পক্ষেই মেনে নেয়া সম্ভব নয় । এক্ষেত্রে শিক্ষককে কোর্স সংক্ষেপ, সহজীকরণ বা অন্য কোন পন্থা অবলম্বন করে বেশী বেশী ছাত্রকে পাশের ব্যবস্থা করতে হয় । এই ক্লাশে কোন ভালো ছাত্র থাকলে এবং ভালো ফলাফল নিয়ে পাশ করলেও সে কিন্তু অসম্পূর্ণ জ্ঞান নিয়ে পাশ করবে এবং সম্ভবতঃ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তেমন ভালো করতে পারবে না । এর কারনটা একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায় ।

ভালো ফল নিয়ে আসা একজন ছাত্রও আসলে অত্যন্ত খারাপ হতে পারে যদি সে কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করে থাকে । কোচিং সেন্টারের সমস্যা ঃ (১) প্রথমতঃ এরা সীমিত প্রশ্নের খুব ভালো করে তৈরী করা উত্তর সরবরাহ করে, যা মুখস্থ করে ছাত্ররা ভালো নম্বর পায়, কিন্তু তাদের শিক্ষা থাকে অসম্পূর্ন । (২) দ্বিতীয়তঃ ছাত্ররা সব জিনিস হাতের কাছে তৈরী পায় বলে পরবর্তীতে জ্ঞান আহরনের জন্য কষ্ট করতে চায় না । মূলতঃ এই কারনেই ছাত্রদের চাহিদার প্রতি লক্ষ রেখে আমাদের দেশের অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরী ক্লাশ নোট দেবার নিয়ম চালু হয়েছে । সংক্ষেপে বলা যায় ঃ উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজন এমন ছাত্র যাদের সবাই বা অধিকাংশ পাবলিক পরীক্ষায় ভালো এবং যারা কখনও কোচিং সেন্টারে পড়ে নি। উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য দেশের সব কোচিং সেন্টার যত তাড়াতারী সম্ভব বন্ধ করে দেয়া উচিৎ ।

কোর্স কারিকুলাম ঃ
কোর্স কারিকুলাম দিয়ে উচ্চশিক্ষার মান তেমন একটা নির্ধারন করা যায় না । সব বিশ্ববিদ্যালয়ই এগুলি ভালো দেখানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকে । এভাবে দেশের নিকৃষ্টতম বিশ্ববিদ্যালয়টি সর্বোচ্চমানের কোর্স কারিকুলাম দেখানোর চেষ্টা করতে পারে । অনেকে আবার পটভুমি বিবেচনা না করেই বিদেশী কোর্স কারিকুলাম হুবহু অনুকরন করে আত্মপ্রসাদ লাভ করে থাকে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল বিষয় পড়ায় তারা বুয়েট (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) এর কোর্স কারিকুলাম অনুসরন করতে নিরাপদ বোধ করে । পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কোর্স কারিকুলাম তৈরী ও উন্নয়নের জন্য সরকার নির্ধারিত নিয়ম আছে । প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিষয়ের নিয়মগুলি এখনো আলাদা আলাদা রকমের । তবে এ বিষয়ে শেয কথা হলো ঃ কোর্স কারিকুলাম দিয়ে উচ্চশিক্ষার মান নির্ধারন করা সম্ভব নয় । বরং এটা নির্ধারিত হতে পারে কোর্স কারিকুলাম কিভাবে পড়ানো হবে তার ভিত্তিতে ।

প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠন তৈরী করা ঃ
প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠন বা এলামনাই তৈরী করার জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন নিয়ম করে রেখেছে । তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এ বিষয়ে তেমন উৎসাহী নয় । অথচ প্রকৃত সত্য এই যে, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য এটি হচ্ছে একটি অব্যর্থ পন্থা । প্রাক্তন ছাত্রদের বিশেষ সুবিধা, তারা তাদের প্রাক্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কর্তৃপক্ষের কোন চাপ ছাড়াই যে কোন কথা মুখ খুলে বলতে পারে । আবার তারা যেহেতু বাজারে চাকুরী, কাজ বা উচ্চশিক্ষায় ভর্তির জন্য চেষ্টা করে চলেছে তাই তারা জানে, তাদের শিক্ষা বা সার্টিফিকেট এ সব বিষয়ে কতটুকু সহায়ক হচ্ছে । বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এ বিষয়ে একটু অন্যভাবে এগিয়ে আসতে পারে । তারা নিয়ম করতে পারে যে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা ছাত্রদের কাছ থেকে ছাত্র প্রতি একটি নির্দিষ্ট হারে এলামনাই ফি তাদের একটি একাউন্টে জমা দিতে হবে । ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্ররা বৎসরে অন্ততঃ দুই বার সম্মেলনে মিলিত হয়ে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে মতামত এবং উন্নয়নকল্পে তাদের প্রস্তাব জানাবে । এই প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে জমা দেয়া হলে এই বাবদে প্রাপ্ত ফি আনুপাতিক হারে তাদেরকে দিয়ে দেয়া হবে । বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন প্রাপ্ত তথ্যসমূহ প্রকাশ্যে জানাবে এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রস্তাব বাস্তুবায়নের জন্য চাপ দেবে । সংক্ষেপে বলা যায়, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, চাকুরীর বাজারে গ্রহনযোগ্যতা ও উচ্চত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের গ্রহনযোগ্যতা ইত্যাদি নির্নয়ের সব চেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ হচ্ছে, ঐ প্রাক্তন ছাত্রদের মতামত ও উন্নয়ন প্রস্তাব জানা ।

বুয়েট-এর শিক্ষন পদ্ধতি ঃ
প্রসঙ্গেক্রমে বুয়েট-এর শিক্ষন পদ্ধতি আলোচনা করা যেতে পারে । বহু বৎসরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বুয়েট এমন একটি শিক্ষন পদ্ধতি চালু করেছে, যাকে প্রকৌশল বিষয়ে দেশে সর্বোত্তম বলা যায় । বুয়েট-এর শিক্ষন পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হচ্ছে, (০১) বুয়েট শিক্ষক নিয়োগের সময় আবেদনকারীদের মাঝ থেকে বিশেষ কোন কারন না থাকলে সর্বোচ্চ মেধার ছাত্রকে নিয়োগ করে থাকে । সবার জানা আছে, এ বিষয়ে তারা কোন রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে না । (০২) ছাত্র ভর্তর ক্ষেত্রে বুয়েট শুধুমাত্র সর্বোচ্চ মেধার বা ফলাফলধারী ছাত্রদের ভর্তি করে থাকে । এর বাইরে আর যেসব কারণ আছে তা হলো (০৩) তাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, (০৪) কোর্স কারিকুলাম এবং (০৪) ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষন পদ্ধতি ।

বুয়েট-এর একটি ঐতিহ্য আছে, আর এই ঐতিহ্য অব্যাহত রাখার জন্য তার শিক্ষক বা ছাত্রদের উপর নৈতিক চাপ থাকে । তাদের ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষন পদ্ধতিতে আছে, (ক) শিক্ষক পাঠ্যবিষয়ের শুধুমাত্র কঠিন বিষয়গুলি ক্লাশে আলোচনা করে থাকেন । (খ) ক্লাশে কখনও সম্পুর্ন কোর্স পড়ানো হয় না এবং (গ) ছাত্রদের কোন ক্লাশ নোট দেয়া হয় না ।

সম্পুর্ন কোর্স না পড়ানোর কারনে ছাত্রদের লাইব্রেরীর সাহায্য নেয়া অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে । সৌভাগ্যবশতঃ বুয়েটের আছে নানান বিষয়ে সমৃদ্ধ বিভিন্ন লাইব্রেরী । যেমন তাদের আছে- কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, বই ভাড়া প্রদানকারী ও ইন্টারনেট লাইব্রেরী । প্রসঙ্গতঃঃবুয়েটের একটি মারাত্মক এবং একটি সাধারন ব্যাতিক্রমের কথা এখানে বলা যেতে পারে । প্রথমটি হলো, ঢাকায় এখন অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিষয়গুলি থাকায় বুয়েটের শিক্ষকগন সেখানে ভালো সুযোগ সুবিধায় খন্ডকালীন শিক্ষকতা করে থাকেন । বুয়েটের একজন বিভাগীয় প্রধানকে প্রশ্ন করা হয়েছিলে, এর ফলে বুয়েটে তাদের শিক্ষন ব্যহত হয় কি না । উত্তরে তিনি যা বলেছিলেন তার অনেকটা এইরকম, “না, এতে বরং ভালো হচ্ছে । আগে আমার শিক্ষকরা সরাসরি ক্লাশে গিয়ে লেকচার দিত । এখন তাদেরকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে নোট তৈরী করে ছাত্রদের দিতে হয় । তারা সেই নোট বুয়েটের ছাত্রদের দিয়ে থাকেন । এর ফলে তারা বেশী উপকৃত হয় ।“

একটু গভীর ভাবে চিন্তা করে দেখলে বোঝা যায়, এটি সম্পূর্ন ভূল ধারনা । বুয়েটের শিক্ষককে অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে তুলনামূলকভাবে খারাপ ছাত্রদের জন্য সহজ করে প্রায় সম্পূর্ন কোর্সের নোট দিতে হয় । এই নোট বুয়েটের ছাত্রদের দেয়া হলে তাদের শিক্ষার মান দারুনভাবে ব্যহত হতে বাধ্য । দ্বিতীয় ব্যতিক্রমটি হচ্ছে, বুয়েটের কিছু ছাত্র খুব ভালো করে ক্লাশ নোট তৈরী করে, তার পর “চোথা” নামে এগুলি কপি করে বিক্রী করে । তবে এটি শিক্ষার মানে তেমন প্রভাব ফেলেনি । কারন শিক্ষকরা ইচ্চাকৃত ভাবেই সব কোর্স পড়ান না । সুবিধার মধ্যে যে সব ছাত্র কোন কারনে ক্লাশে নোট নিতে পারে না তারা এ থেকে উপকৃত হয় । একটা কথা প্রচলিত আছে যে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক ছাত্র পড়ানোর জন্য বুয়েটের চোথাকেই মহৌষধ হিসেবে ব্যবহার করেন ।

পরীক্ষায় পাশ ও ফেল ঃ
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় পাশ বা ফেল একটি সাধারন ঘটনা । কোন কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের ফেলের জন্য শিক্ষকদের দায়ী করে থাকে । এরা তাদের “সব বা অধিকাংশ ছাত্র পরীক্ষায় পাশ করে” এমন খবরকে বিজ্ঞাপন হিসেবে ব্যবহার করতে চায় । এটিও একটি মারাত্মক ভুল । গভীর ভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায়, “সব বা অধিকাংশ ছাত্রের পরীক্ষায় পাশ করা” আসলে ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার নিম্ন মানের পরিচায়ক হতে পারে । শিক্ষকদের চাপ দেয়া হলে কিভাবে ছাত্রদের পাশ করিয়ে দিতে হবে তা তারা ভালোই জানে ।

ঊপসংহার ঃ
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান জানা বা তার উন্নয়নের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা “কোয়েশ্চেনেয়ার” এর মাধ্যমে কিছুসংক্ষক শিক্ষকের মতামত সংগ্রহের চেয়ে অনেক কঠিন কাজ । যাই হোক, উপসংহারে এই প্রবন্ধে এই বিষয়ে উন্নয়নের জন্য যে সব কথা বলেছি, সেগুলি সংক্ষেপে উপস্থাপন করব ।
(০১) উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে প্রথম প্রয়োজন এমন শিক্ষক যার একাডেমিক ফলাফল আগাগোড়া ভালো, যিনি গবেষনা করতে পারেন এবং যার নিয়োগ অস্থায়ী নয় ।
(০২) উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজন এমন ছাত্র যাদের সবাই বা অধিকাংশ পাবলিক পরীক্ষায় ভালো এবং যারা কোচিং সেন্টারে পড়ে নি ।
(০৩) উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য দেশের সব কোচিং সেন্টার যত তাড়াতারী সম্ভব বন্ধ করে দেয়া উচিৎ ।
(০৪) কোর্স কারিকুলাম দিয়ে উচ্চশিক্ষার মান নির্ধারন করা সম্ভব নয় । বরং এটা নির্ধারন করতে হয় কোর্স কারিকুলাম কিভাবে পড়ানো হয় তা দিয়ে ।
(০৫) ভাল শিক্ষার জন্য ভালো মানের লাইব্রেরী একান্ত প্রয়োজন ।
(০৬) কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, চাকুরীর বাজারে দাম ও উচ্চ শিক্ষায় তাদের গ্রহনযোগ্যতা জানার সব চেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ হচ্ছে, তাদের প্রাক্তন ছাত্রদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে মতামত ও উন্নয়ন প্রস্তাব জানা ।

আমাদের দেশের অনেক ব্যর্থতা স্বত্তেও প্রাইমারী ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নিঃসন্দেহে বিপ্লব এসেছে (মান সম্বন্ধে সঙ্গত কারনেই কিছু বলা হচ্ছে না)। এ থেকে বলা যায়, সময় এসেছে, উচ্চ শিক্ষায়ও বিপ্লব আনার । এ বিষয়ে বিশ্বব্যাঙ্ক থেকেও সাম্প্রতিক কালে সহায়তাও আসছে । সেই সঙ্গে আসছে এই টাকা কি ভাবে খরচ করা যায় এ সব সম্বন্ধে অযাচিত উপদেশ। আমার মনে হয়, বিদেশের অনুদানের বা ধারের টাকা ছাড়াই দেশের সীমিত সম্পদ দিয়ে এবিষয়ে অনেক ভালো ভালো কাজ করা সম্ভব । তবে সেটা সম্পূর্ন রূপে নির্ভর করে সরকারের সিদ্ধান্তের উপর।


অধ্যাপক বিজন বিহারী শর্মা । স্থাপত্য বিভাগ, আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় । ঢাকা ।






৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ পর্ব-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯



এবার জিন্নাহর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত বিতর্কিত বক্তব্যে আসা যাক। জিন্নাহ জন্মসূত্রে গুজরাটি ছিলেন এবং কেবল ইংরেজি ও গুজরাটি ভাষা জানতেন। তিনি উর্দু বলতে পারতেন না। সেক্যুলারিস্ট জিন্নাহ যেহেতু ব্যক্তিজীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাকে শত্রু ভাবছেন, সে হয়তো আপনার জীবনের একজন পথপ্রদর্শক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

গানঃ সামু একটি ছোট নৌকা
https://suno.com/s/ckWb25lfp1xBLIzc
==============



একটা পুরনো গল্প বলি। একটি বনে কিছু বাঁদর আর বেবুন বাস করতো। সেই বনের পাশেই একটি ভুট্টার ক্ষেত ছিলো। বাঁদর আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষার উপভাষা নয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৩


বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষা। বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষা থেকে আসে নাই, এটা মেনে নিতে হবে। কারণ, ইতিহাসে আছে, ভারতবর্ষে আর্যদের আসার আগেও 'বঙ্গ' নামের একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি ভূমি'র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামের জ্ঞানদীপ : যুক্তির আরব্য-ফারসী নবযাত্রা প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য -৩য় পর্ব

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:১৭

জাতীয় জন্মসনদে ভুলের ভূত আর সাভারের জালিয়াতি চক্র: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি কোনোদিন থামবে না?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০০



আজ ৬ অক্টোবর, জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। অথচ বাস্তবতা যেন এই স্লোগানের একদম উল্টো! সরকারি নথিতে যখন সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×