somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার মাদ্রাসা জীবন (স্মৃতিচারন মূলক)

২২ শে মে, ২০২৩ দুপুর ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




১৯৯০ সাল, মা বাবা আমাকে মাদ্রাসায় পাঠালেন মাওলানা হওয়ার জন্য। তখন এলাকায় ইসলামী আদর্শ বহুমুখী মাদ্রাসা নামে একটা মাদ্রাসা কেবল চরমোনাইর পীরের মুরিদরা স্থাপন করছে।

আমার বাপেও তার মুরিদ ছিলো সেখান থেকে শুনেছে বংশে একজন হাফেজ বা মাওলানা থাকলে বংশের ৭০-জন ‍বিনা হিসাবে বেহেস্তে যাবে। সুতরাং উনার বংশের সত্তুর জনকে বেহেস্তে নেওয়ার জন্য একটা চান্স তো নেয়াই যায়।

আমি ভর্তি হয়ে গেলাম আদর্শ বহুমুখী মাদ্রাসায়। ভালই পড়ছিলাম। পাঞ্জাবী ও টুপি পড়তাম,সাথে একটা টিনের সুটকেস ছিলো। তাতে তালা দিয়ে কোমরের তাগা’র সাথে রশি দিয়ে চাবি ঝুলিয়ে রাখতাম। শুক্কুরবার রোদের মধ্যে বসে কাদা মাটি দিয়া কুলুপ বানাইতাম। মাঝে মধ্যে ওয়াজ-মাহাফেলে গজল টজলও গাইতাম। কিন্তু হুজুরের বেতের বাড়ির আঘাতটা সহ্য হয়নি বলে শুরু হইলো মাদ্রাসা পালানো।

বাড়ীতে বাপে ছিলে সাক্ষাৎ আজরাইল । হুজুরের বেধরক পিটানি আর বাপের মাইরের মাঝে আমি ছিলাম মাইনকা চিপায়। বাড়ী থেকে আসতাম, কখনো ‘রিমিঝিম সিনেমা’ আর কখনো ‘আখি সিনেমার’ সামনে দাড়িয়ে পোস্টার দেখতাম কিংবা কখনো ৫০ পয়শা দিয়ে সাম্পানে নদী পার হয় পোর্ট জেটিতে পালিয়ে সময় কাটিয়ে মাদ্রাসা ছুটি হলে বাড়ী যেতাম।

তারপর দেয়া হলো বোডিংয়ে! রাত দিন বোডিংয়ে থাকা লাগবে। শুরু হলো আর এক আযাবের জীবন। খুব ভোরে উঠা লাগবে, যেদিন উঠে ফযরের নামাজ ধরতে পারতাম না সেদিন পিটিয়ে পাছা লাল করে দেয়া হতো। শিশু মনের সেই দগদগে ঘাঁ এখনো মনে পড়লে শিউরে উঠি।

একদিন জেদ ধরলাম আমি, আর মাদ্রাসাযও যাবো না আর পড়ালেখাও করবো না, সকালে এক জামা কাপড়ে পালান দিলাম। একদম নিরুদ্দেশে যাত্রা করে গাজী রকেটে গিয়ে উঠলাম। কিন্তু ধরা খেয়ে গেলাম পাশের বাড়ির টুলি আপার জামাইয়ের কাছে। উনি তখন বিআাইডব্লিউতে চাকরি করতেন। পোস্টিং ছিলো রকেট ঘাটে। বাবাকে লোক মারফত খবর দিলেন, আমাকে রকেট থেকে ধরে নিয়ে গেলো আসামীর মতো, সাথে উত্তম মাধ্যমের বর্ননা দিলাম না।

আমার দাদি বলতেন, ওস্তাদের মাইর যেখানে যেখানে লাগে সে জায়গাটুকু বেহেস্তে যায়। অতো অল্প বয়সে অমন অমানুষিক এবং বেধড়ক পিটুনিতে আমার হাফেজ মাওলানা হবার শখ আর বেহেস্তে যাবার শিশুকালের স্বপ্ন একেবারে নাই হয়ে যায়। তার চেয়ে ঢালীর বাড়ির বাগানে ঘুঘু পাখীর বাসা থেকে ঘুঘুর বাচ্চা ধরা, বিলে মাছ ধরা, পাড়ার ছেলেদের সাথে ডাংগুলি খেলা, ছৈলা আর কেওড়া গাছে উঠে ছৈলা-কেওড়া পেড়ে খাওয়া, কিংবা সমিতির পুকুর পাড়ে দাড়িয়াবান্ধা খেলেই ছিলো আমার বেহেস্ত।

মা তার ভাইকে মানে আমার মামাকে দিয়ে কেঁদে কেটে আমার বাপকে জোর সুপারিশ করালেন আমাকে যেন আবার স্কুলে দেয়। আমার বাপে সেই কথা রেখেছিলেন।

আমি ১৯৯১ সালের জুন মাসে আবার পোর্ট স্কুলে যাওয়া শুরু করি।

ছবিঃ অন্তর্জাল
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০২৩ দুপুর ২:০৯
২৬টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×